Advertisement
E-Paper

অ্যাপ অস্ত্রেই ক্রেতা টানছে নেটের মুদি-দোকান

নেটবাজারে মোবাইল ও বৈদ্যুতিন পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে চাল-ডাল, তেল-নুনের মতো গ্ল্যামারহীন পণ্য। ব্যবসায় বাজিমাৎ করার জন্য জৌলুসহীন মুদির দোকান খুলতে এ বার নেটবাজারে ভিড় জমাচ্ছে ছোট-বড় সংস্থা।

গার্গী গুহঠাকুরতা

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৫ ০২:২৫

নেটবাজারে মোবাইল ও বৈদ্যুতিন পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে চাল-ডাল, তেল-নুনের মতো গ্ল্যামারহীন পণ্য।

ব্যবসায় বাজিমাৎ করার জন্য জৌলুসহীন মুদির দোকান খুলতে এ বার নেটবাজারে ভিড় জমাচ্ছে ছোট-বড় সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর , প্রায় ১০০ শতাংশ হারে বাড়তে থাকা ‘অনলাইন গ্রসারি’ ব্যবসায় ঝাঁপিয়েছে ফ্লিপকার্টের মতো সংস্থাও। আর ক্রেতা টানতে হাতিয়ার হিসেবে উঠে আসছে অসংখ্য অ্যাপ। বিগবাস্কেট, গ্রোফার্স, পেপার ট্যাপ-এর মতো ফ্লিপকার্টও বাজার ধরতে হাত ধরছে অ্যাপের।

উৎসবের মরশুমে নেটবাজারে কেনাকাটার দৌড়ে দেশের ছ’টি বড় শহরকে টেক্কা দিয়েছে দিল্লি। সেই ধারা বজায় রেখে মুদিখানার কেনাকাটাতেও এগিয়ে রাজধানী শহর। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে বেঙ্গালুরু ও মুম্বই। তবে শুধুই বড় শহর নয়। দ্বিতীয় স্তরের শহর থেকেও ভিড় জমছে নেট দুনিয়ার মুদিখানায়। গ্রোফার্স-এর বিপণন কর্তা শরদ হার্জাইয়ের দাবি, ২৬টি শহরে ৪০০০ দোকানদারের সঙ্গে জোট বেঁধেছে সংস্থা।

দিল্লি, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর তুলনায় দেরিতে দৌড় শুরু করেছে কলকাতা। তবে পিছিয়ে থাকলেও ফারাক কমছে দ্রুত, দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা। গত দু’বছরে অন্তত ৪০% হারে বেড়েছে ক্রেতা। তাল মিলিয়ে না-হলেও বেড়েছে স্থানীয় অনলাইন মুদিখানার সংখ্যাও। গ্রোফার্স-এর মতো বড় সংস্থার পাশাপাশি রয়েছে আটটি স্থানীয় অনলাইন মুদির দোকান। তালিকায় রয়েছে ফ্যাব গ্রসারি, হোমজিনি, আই বাজার অনলাইন, জাস্ট শপ ২৪, মাই লোকাল বাজার, নিউটাউন গ্রসারি ও সল্ট অ্যান সোপ।

কলকাতার পাশাপাশি চাহিদা বাড়ছে শহরতলিতেও। ২০০৯ সালে চালু হয়েছিল মাই লোকাল বাজার ডট কম। মুদিখানার যাবতীয় জিনিসপত্রের সঙ্গে সব্জি , মাছ-মাংস বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অনলাইন ব্যবস্থা। সংস্থার প্রধান সন্দীপ সেনগুপ্তের দাবি, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা। তবে চাহিদা ও সরবরাহের সোজাসাপটা হিসেবই সব নয়। সন্দীপবাবুর মতে, নিজস্ব বন্টন ব্যবস্থা না থাকলে এই কাজটা সহজ নয়। আর সেই কারণেই এই ব্যবসায় নামার ভরসা করতে পারেন না অনেকেই।

সময়ে জিনিস পৌঁছে দেওয়া যে আসল চ্যালেঞ্জ, তা মানছেন জাতীয় স্তরের সংস্থার কর্তৃপক্ষও। পেপার ট্যাপের প্রধান নভনীত সিং-এর দাবি, ব্যবসা ধরে রাখতে কাঁচা সব্জি, ফলের মতো জিনিসের গুণগত মান বজায় রাখা জরুরি। আর সেই মান ধরে রাখার জন্য সময়ে জিনিস পৌঁছে দেওয়ার পরিকাঠামো অনলাইন ব্যবসার অন্যতম প্রধান শর্ত।

গত কয়েক বছর ধরেই রিটেল বা খুচরো বাজারের ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন নেটবাজারে। যানজট-ভিড় ঠেলে দোকানে না ঘুরে ল্যাপটপ বা মোবাইলের পর্দায় পণ্যের দাম যাচাই করেই কেনাকাটা সারছেন অনেকেই। বিশেষত নয়া প্রজন্ম এই ‘হাই-টেক’ বাজারেই স্বচ্ছন্দ। তথ্য পরিসংখ্যানও তাই বলছে। বিশেষজ্ঞ সংস্থা ফরেস্টারের সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে ৪৫০ শতাংশ বিক্রি বাড়িয়েছে নেটবাজার।

মূলত মোবাইল ও বৈদ্যুতিন জিনিসের পালে ভর দিয়েই নেটবাজারের এই রমরমা। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, নেটবাজারের এই বৃদ্ধির হার ধরে রাখতে মুদিখানার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানের বাড়বাড়ন্ত জরুরি। কারণ লভ্যাংশ বিশাল মাপের না হলেও ব্যবসার পরিমাণ বিপুল।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy