প্রস্তাব অনুযায়ীই চালু হল পাট শিল্প নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন। কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের আনা এই বিধি দেশের পাট শিল্পে এক শ্রেণির অসাধু চটকল মালিক এবং পাট ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি দূর করবে বলে মনে করছে শিল্পমহল। এর হাত ধরে জুট কমিশনার এক দিকে যেমন কাঁচা পাট ও বস্তার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, তেমনই অন্য দিকে মজুত উদ্ধার এবং তদন্তের পরে শাস্তিও দিতে পারবেন আইনভঙ্গকারীকে।
নতুন বিধিটির নাম জুট অ্যান্ড জুট টেক্সটাইলস কন্ট্রোল অর্ডার, ২০১৬। ২০০২ এবং ২০০৫ সালের জুট অ্যান্ড জুট টেক্সটাইলস (অ্যামেন্ডমেন্ট) কন্ট্রোল অর্ডার দু’টি বাতিল করেই এটি চালু করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি এই প্রতিবেদকের লেখাতেই জানানো হয়েছিল যে, আইনটি চালু হচ্ছে এবং তার খসড়া ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করেছে কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক।
এই বিধি এনে শুধু কাঁচা পাট এবং চটের বস্তার দাম বেঁধে দেওয়ার মতো ব্যবস্থাই নয়, পাট শিল্পের পুরো নিয়ন্ত্রণ হাতে নিল বস্ত্র মন্ত্রক। কাঁচা পাট ও বস্তার বেঁধে দেওয়া দাম কেউ না-মানলে এর আওতায় তাঁকে জরিমানা করতে পারবেন কমিশনার। কাঁচা পাট মজুত, নিম্ন মানের বস্তা সরবরাহ ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারবেন।
নতুন বিধিতে চট শিল্পে কী ধরনের ব্যবসায়িক কাযর্কলাপ বেআইনি হিসাবে গণ্য হবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় আরও যে-সব বিষয় রয়েছে, সেগুলি হল:
নির্দেশ ভঙ্গকারীকে ফৌজদারি আইনে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা জুট কমিশনারকে।
পাটজাত পণ্যের ক্রেতা, পাট সংগ্রহকারী (প্রকিওরমেন্ট) এজেন্সি ইত্যাদির স্বার্থরক্ষার ব্যবস্থা। ওই সব ব্যক্তি বা সংস্থার কোনও অভিযোগ থাকলে, তা জুট কমিশনারের কাছে পেশ করা যাবে। তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
চটকলগুলি থেকে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ বন্ধ করা। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সেই পণ্য নষ্ট করে ফেলার ক্ষমতাও থাকবে জুট কমিশনারের।
১৯৮৭ সালের জুট প্যাকেজিং মেটিরিয়ালস আইন ঠিক ভাবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনও চটকলের গাফিলতি থাকলে, সে ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন জুট কমিশনার।
চটকল অথবা অন্য কোনও স্থানে অনুমোদিত পরিমাণের বেশি কাঁচা পাট মজুত করা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য জুট কমিশনার সরেজমিনে তদন্ত এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্তও করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, দেশের চট শিল্পে বছরে লেনদেনের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা। পাট চাষি এবং শিল্পকে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটির বস্তা কেন্দ্রই কিনে নেয়। এক শ্রেণির অসাধু মিল মালিক যখন বস্তার দাম বেশি থাকে, তখন তা সরকারকে সরবরাহ না-করে বাজারে বিক্রি করেন। এই অসাধু কারবারে লাগাম টানতেই নতুন বিধিতে সরবরাহের বিষয়টির উপর নজরদারি ও দোষী ব্যক্তিকে শাস্তিদানের অধিকার দেওয়া হয়েছে জুট কমিশনারকে।
বেশ কিছু ক্ষেত্রে অসাধু মিল মালিকের দুর্নীতির জন্য দেশের পাট চাষি এবং চটকল কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। যেমন, অনেক ক্ষেত্রে বস্তা তৈরির জন্য দেশে উৎপন্ন পাট ব্যবহার না-করে বাংলাদেশ থেকে সস্তায় আমদানি করা কাঁচা পাট, পাটের সুতো বা বি-টুইল কাপড় ব্যবহার করা হয়। সেই বস্তাই সরকারকে বিক্রি করা হয়। ফলে দেশের পাট চাষি এবং চটকল কর্মীদের স্বার্থহানি হয়। নতুন বিধিতে জুট কমিশনার এই সব ক্ষেত্রেই তদন্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারবেন। প্রয়োজনে ৩ মাস থেকে দু’বছর ওই সব মিলের তৈরি বস্তা সরকার কিনবে না, এমন নির্দেশও দিতে পারেন কমিশনার।