ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করল পকেট এফএম! মোট কর্মীসংখ্যার ১০ শতাংশ হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই অডিয়ো সিরিজ় প্ল্যাটফর্ম। সেক্ষেত্রে কাজ হারাবেন প্রায় ১০০ থেকে ১৩০ জন। ছাঁটাই করা হচ্ছে না এমন কিছু কর্মীকে কাজের মানোন্নয়নের জন্য সময় দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। সূত্রের খবর, বিশ্বব্যাপী বার্ষিক পুনরাবৃত্ত আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রমকে সুসংহত করতে এবং ‘কর্মী প্রতি আয়’ উন্নত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ আবার বিষয়টিতে কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের প্রভাব বলে মনে করছেন।
বিষয়টির সঙ্গে ওয়াকিবহাল এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অডিও সিরিজ প্ল্যাটফর্মটি যাঁদের ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাঁদের সিংহভাগই ‘কন্টেন্ট’ এবং ‘প্রোডাক্ট’ বিভাগের কর্মী। জানা গিয়েছে, এই ছাঁটাই পদ-ভিত্তিক এবং এটি সংস্থা জুড়ে সর্বত্র কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনও ইঙ্গিত দেয় না। সূত্রের খবর, কিছু কর্মী তাঁদের পদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার মানদণ্ড পূরণ করতে না পারার কারণেই তাঁদের উপর ছাঁটাইয়ের কোপ পড়েছে। ছাঁটাই কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং তাঁরা বর্তমানে কোনও সক্রিয় দায়িত্ব ছাড়াই নোটিশ পিরিয়ড পালন করছেন বলেও জানা গিয়েছে।
এ ছাড়া ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি সংস্থার প্রায় ২,০০০ চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কুয়েস কোর’-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ডিজ়াইনার এবং কন্টেন্ট রাইটার (বিষয়স্রষ্টা)-রা রয়েছেন বলেও খবর। উল্লেখ্য, খরচ একত্রিত করতে এবং ব্যালেন্স শিট সুবিন্যস্ত করতে সংস্থাগুলি প্রায়শই কুয়েস কোর-এর মতো কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থানান্তরিত করে থাকে।
অন্য দিকে, পকেট এফএমে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের একটি সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা চলছে, যা জুনের শেষ নাগাদ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্মীকে প্রভাবিত করতে পারে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। তবে, সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক ভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
পকেট এফএমের জন্ম ২০১৮ সালে। রোহন নায়ক, নিশান্ত কেএস এবং প্রতীক দীক্ষিত তৈরি করেন এই সংস্থা। গত মাসের শুরুতে সংস্থাটি ঘোষণা করে যে তাদের এআই-ভিত্তিক স্টোরিটেলিং সিস্টেমের মাধ্যমে তারা ৪৫ কোটি ডলারের বার্ষিক পুনরাবৃত্ত আয় করেছে। উল্লেখ্য, পকেট এফএম বর্তমানে ২০টিরও বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।