বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের জন্য সুখবর। এ বার থেকে দু’শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুদ পাবেন প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ ট্রাস্ট তহবিলের গ্রাহকরা। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট তহবিলের ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনের উপর কড়া নজর রাখবে কেন্দ্র। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পিএফ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন’ বা ইপিএফও।
বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সারা দেশে বাধ্যতামূলক ভাবে চালু রয়েছে ‘এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড’ বা ইপিএফ। এই তহবিলে দু’ভাবে টাকা জমা রাখা হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির বেতন থেকে কিছু টাকা কেটে নিয়ে ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করে নিয়োগকারী সংস্থা। ওই তহবিলে সমপরিমাণ অর্থ দিতে হয় তাদেরও। সঞ্চিত অর্থের উপর সুদ দিয়ে থাকে কেন্দ্র, যা পরিবর্তনশীল।
তবে, সারা দেশের সমস্ত সংস্থায় ইপিএফ ব্যবস্থা রয়েছে, এমনটা নয়। কিছু কিছু কোম্পানি আবার কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় চালায় পিএফ ট্রাস্ট। এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো এ ক্ষেত্রেও কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কেটে ওই তহবিলে জমা করে তারা। পরে ট্রাস্টের অর্থ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লগ্নি করে থাকে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
এ-হেন পিএফ ট্রাস্টের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। অবসরের পর টাকা তুলতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের গ্রাহককে ইপিএফওর কাছে আবেদন করতে হয়। পিএফ ট্রাস্টে এই জটিলতা নেই। সংশ্লিষ্ট সংস্থাই অবসরপ্রাপ্তকে তাঁর সঞ্চিত অর্থ মিটিয়ে দিয়ে থাকে। ফলে অনেক দ্রুত হাতে টাকা পেয়ে যান তিনি। তা ছাড়া চাকরি ছাড়লে বা অন্য সংস্থায় যোগ দিলে ট্রাস্টের টাকা খুব সহজে ইচ্ছামতো অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করার সুবিধা রয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ট্রাস্ট তহবিলগুলির উপরেও নজরদারি চালিয়ে থাকে ইপিএফও। একটা সময় এগুলির আয়-ব্যয়ের হিসাব পরীক্ষা (পড়ুন অডিট) বাধ্যতামূলক করেছিল কেন্দ্র। সম্প্রতি, সেই নিয়মে বড় বদল এনেছে সরকার। বাধ্যতামূলক অডিট বাতিল করে চালু করা হয়েছে ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ব্যবস্থা।
এ ছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের তুলনায় ট্রাস্টের ক্ষেত্রে সুদের হার সর্বাধিক দু’শতাংশ বেশি রাখা যাবে বলে জানিয়েছে ইপিএফও। বর্তমানে বছরে ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ পাচ্ছেন ইপিএফের গ্রাহক। অর্থাৎ ট্রাস্টের তহবিলে সঞ্চিত অর্থের উপরে বছরে ১০.২৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পেতে পারেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মী।
ইপিএফও সূত্রে খবর, এত দিন কিছু কিছু সংস্থার সুদের হার ছিল বেশ কম। অনেকে আবার কর্মীদের ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছিলেন। এই পার্থক্য মুছে ফেলতেই নতুন নিয়ম চালু করেছে কেন্দ্র। এতে আর্থিক ভাবে বিপুল সংখ্যক কর্মী লাভবান হবেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।