Advertisement
E-Paper

নিলামেই ৫০ শতাংশ বিক্রির ঢালাও নির্দেশ চা শিল্পকে

বাগান বা বটলিফ কারখানা, সবাইকেই উৎপাদনের অন্তত ৫০% চা নিলামেই বাধ্যতামূলক ভাবে বিক্রি করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের এই নয়া ফরমানে চা শিল্প ও কেন্দ্রের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। কেন্দ্র ও টি বোর্ডের যুক্তি, এই ব্যবস্থা চালু হলে চায়ের সঠিক দাম নির্ধারণ সহজ হবে। গোটা ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে।

দেবপ্রিয় সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৩৩

বাগান বা বটলিফ কারখানা, সবাইকেই উৎপাদনের অন্তত ৫০% চা নিলামেই বাধ্যতামূলক ভাবে বিক্রি করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের এই নয়া ফরমানে চা শিল্প ও কেন্দ্রের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। কেন্দ্র ও টি বোর্ডের যুক্তি, এই ব্যবস্থা চালু হলে চায়ের সঠিক দাম নির্ধারণ সহজ হবে। গোটা ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে।

শিল্পের পাল্টা অভিযোগ, খোলা বাজার ও নিলামের মধ্যে নমনীয়তার বদলে কেন্দ্র এ ভাবে শর্ত দিলে আখেরে তা সমস্যা ডেকে আনবে চা শিল্পে। কারণ নিলাম ব্যবস্থা যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনই সব সময়ে সেখানে চায়ের দাম ঠিক মতো ওঠে না। তাই ওই নির্দেশ প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছে তারা। তবে ক্ষুদ্র চা চাষিরা এই শর্তকে স্বাগত জানান। তাঁদের সংগঠন সিস্টা-র প্রেসিডেন্ট বিজয়গোপাল চক্রবর্তীর দাবি, ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য বটলিফ কারখানার ক্ষেত্রে আরও বেশি চা নিলাম জরুরি। তা হলে দামে স্বচ্ছতা আসবে।

ক্যালকাটা টি ট্রেডার্স অ্যাসো- সিয়েশনের হিসেবে, ২০১৪-য় দেশে তৈরি মোট ১২.০৭ কোটি কেজি চায়ের প্রায় ৫.১৪ কোটি কেজি নিলামে বিক্রি হয়। এ বছর জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে নিলামে বিক্রি প্রায় ৩.৬৫ কোটি কেজি।

Advertisement

তবে ক্ষুদ্র চা চাষিদের অভিযোগ, খোলা বাজারে বিক্রি হওয়ায় দামে স্বচ্ছতা থাকে না। অথচ চায়ের দামের উপরই নির্ভর করে তাঁদের পাতার দাম।

এই অবস্থায় সম্প্রতি ‘টি মার্কেটিং কন্ট্রোল অর্ডার’ আইন সংশোধন করে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব রজনী রঞ্জন রশ্মি জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর থেকে সব বাগান ও বটলিফ কারখানাকেই ৫০% চা নিলামে বাধ্যতামূলক ভাবে বিক্রি করতে হবে।

নিলামের প্রয়োজনীয়তার কথা মানছেন ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান আজম মোনেম, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সি এস বেদী প্রমুখ। কিন্তু তাঁদের পাল্টা দাবি, নিলাম ব্যবস্থা এখনও ১০০% দক্ষ নয়। ফলে ঠিক দাম যে-মিলবেই তা নিশ্চিত নয়। উপরন্তু নিলাম কেন্দ্রে বিক্রির জন্য বাগানকে কেজিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়।

আইটিএর সুরেই বটলিফ কারখানার সংগঠন নর্থ বেঙ্গল টি প্রোডিউসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সতীশ মিত্রুকারও দাবি, নিলামে ওঠা চায়ের একটা বড় অংশ অবিক্রীত থেকে যায়। দার্জিলিঙের বাগান -গুলির বেশিরভাগ আবার সরাসরি চা রফতানি করে। তাই এই শর্তে আপত্তি তুলেছেন দার্জিলিং টি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এস এস বাগারিয়া।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy