Advertisement
E-Paper

পাটশিল্পে আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আনছে কেন্দ্র

পাটশিল্পের জন্য এ বার পাকাপাকি ভাবে কড়া বিধি আনছে কেন্দ্র। শুধু কাঁচা পাট এবং চটের বস্তার দাম বেঁধে দেওয়ার মতো নির্দেশ জারি করেই দায়িত্ব না-সেরে সার্বিক ভাবে এই শিল্পের উপর নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে চায় কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক।

প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৩০
প্রস্তুত বস্ত্র মন্ত্রকের খসড়া বিধি

প্রস্তুত বস্ত্র মন্ত্রকের খসড়া বিধি

পাটশিল্পের জন্য এ বার পাকাপাকি ভাবে কড়া বিধি আনছে কেন্দ্র। শুধু কাঁচা পাট এবং চটের বস্তার দাম বেঁধে দেওয়ার মতো নির্দেশ জারি করেই দায়িত্ব না-সেরে সার্বিক ভাবে এই শিল্পের উপর নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে চায় কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক। এর আওতায় এক দিকে যেমন জুট কমিশনার কাঁচা পাট ও বস্তার দাম ঠিক করে দিতে পারবেন, অন্য দিকে যে-কেউ সেই নির্দেশ না-মানলে তাঁকে জরিমানা করতে পারবেন তিনি।

এই লক্ষ্যে নতুন বিধি চালু করতে চলেছে কেন্দ্র, যার খসড়া ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করেছে বস্ত্র মন্ত্রক। ২০০২ এবং ২০০৫ সালের জুট অ্যান্ড জুট টেক্সটাইলস (অ্যামেন্ডমেন্ট) কন্ট্রোল অর্ডার দু’টি বাতিল করেই নতুন বিধি আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার নাম হবে জুট অ্যান্ড জুট টেক্সটাইলস কন্ট্রোল অর্ডার, ২০১৬। পাটশিল্প মহল সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত বিধিটি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের সবুজ সঙ্কেত পেয়েছে। আগামী সপ্তাহেই এটি গেজেটে প্রকাশ করা হতে পারে।

ফাটকা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি চটের বস্তা বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দাম কী হবে, তা ঠিক করে দিতে একটি নির্দেশ জারি করেন জুট কমিশনার সুব্রত গুপ্ত। তার পর কাঁচা পাটের দামও বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত নতুন বিধি চালু হলে এই ধরনের নির্দেশ কার্যকর করার ব্যাপারে কমিশনারের হাত আরও শক্ত হবে বলেই মনে করছে পাটশিল্প মহল।

Advertisement

বস্তার দাম বেঁধে দেওয়ার বিরোধিতা করে চটকল মালিকরদের সংগঠন ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আই জে এম এ) ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন বিধির ব্যাপারে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আইজেএমএ। সংগঠনের চেয়ারম্যান মণীশ পোদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি এখন বিদেশে আছি। বিষয়টি আমার সঠিক জানা নেই। তাই কিছু বলতে পারব না।’’ আইজেএমএ-র ডেপুটি চেয়ারম্যান রাঘবেন্দ্র গুপ্ত-র সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন, ‘‘খসড়া নিয়ে কোনও মন্তব্য আমি করব না।’’

প্রস্তাবিত খসড়া বিধি কার্যকর হলে কাঁচা পাট এবং চটের বস্তার দাম ঠিক করা ছাড়া সেটির আওতায় অন্য যে-সব বিষয় থাকবে, তার মধ্যে রয়েছে:

• কোনও চটকল মালিক বা ব্যবসায়ী অথবা সংশ্লিষ্ট যে-কেউ বিধি না-মানলে নির্দেশ ভঙ্গকারীকে জুট কমিশনার জরিমানা করতে পারবেন।

• নির্দেশ ভঙ্গকারীকে ফৌজদারি আইনে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে জুট কমিশনারের হাতে।

• পাটজাত পণ্য যাঁরা কেনেন, পাট সংগ্রহকারী (প্রোকিওরমেন্ট) এজেন্সি ইত্যাদির স্বার্থরক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। ওই সব ব্যক্তি বা সংস্থার কোনও অভিযোগ থাকলে, তা জুট কমিশনারের কাছে পেশ করা যাবে। তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

• চটকলগুলি থেকে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ বন্ধ করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সেই পণ্য নষ্ট করে ফেলার ক্ষমতাও থাকবে জুট কমিশনারের।

• ১৯৮৭ সালের জুট প্যাকেজিং মেটিরিয়ালস আইন সঠিক ভাবে কার্যকর করায় কোনও চটকলের তরফে কিছুটা গাফিলতি থাকলে, সে ব্যাপারেও এ বার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন জুট কমিশনার।

• চটকল অথবা অন্যত্র অনুমোদিত পরিমাণের বেশি কাঁচা পাট মজুত করা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য জুট কমিশনার সরেজমিনে তদন্ত করতে এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন।

দেশের পাট শিল্পকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত নতুন বিধিটি বিশেষ কার্যকরী হবে বলে মন্তব্য করেছেন পাট শিল্প বিশেষজ্ঞদের অনেকেই। এক বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘প্রস্তাবিত বিধিটি চালু হলে জুট কমিশনার এক দিকে যেমন পাটের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, তেমনই অন্য দিকে মজুত উদ্ধার এবং তদন্তের পরে প্রয়োজনে শাস্তিও দিতে পারবেন আইনভঙ্গকারীকে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy