Advertisement
E-Paper

পরিষেবায় স্বস্তির ইঙ্গিত, তবু দুশ্চিন্তা মুছছে না অর্থনীতি নিয়ে

কল-কারখানায় উৎপাদনের ক্ষতে পরিষেবার মলম। তবুও দুশ্চিন্তা বহাল অর্থনীতি নিয়ে। ডিসেম্বরে কল-কারখানায় উৎপাদন সরাসরি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল গত ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত সমীক্ষা। দু’বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম। তার দু’দিনের মধ্যে সেই সংস্থারই সমীক্ষা জানাল, ফেলে আসা বছরের শেষ মাসে চোখে পড়ার মতো উন্নতি করেছে পরিষেবা ক্ষেত্র।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৫৮

কল-কারখানায় উৎপাদনের ক্ষতে পরিষেবার মলম। তবুও দুশ্চিন্তা বহাল অর্থনীতি নিয়ে।

ডিসেম্বরে কল-কারখানায় উৎপাদন সরাসরি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল গত ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত সমীক্ষা। দু’বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম। তার দু’দিনের মধ্যে সেই সংস্থারই সমীক্ষা জানাল, ফেলে আসা বছরের শেষ মাসে চোখে পড়ার মতো উন্নতি করেছে পরিষেবা ক্ষেত্র। সেখানে বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে দশ মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাতে অর্থনীতি নিয়ে পুরোপুরি আশ্বস্ত হওয়ার জো নেই। কারণ, বৃদ্ধির চাকায় গতি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংখ্যা তাড়াতাড়ি বাড়তে হলে, সবার আগে ছন্দে ফিরতে হবে উৎপাদন শিল্পকে।

দেশে পরিষেবা ক্ষেত্রের হাল কেমন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমীক্ষা করে সে বিষয়ে পূর্বাভাস দেয় নিক্কেই-এর সার্ভিসেস পারচেজিং ম্যানেজার্স সূচক। উপদেষ্টা সংস্থা মার্কিটের করা ওই সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে, গত বছরের শেষ মাসে ওই সূচক পৌঁছেছে ৫৩.৬-এ। নভেম্বরে যা ছিল ৫০.১। গত ১০ মাসের মধ্যে এই উত্থান সব থেকে ভাল।

Advertisement

একই ভাবে দেশে উৎপাদন শিল্পের হাল কেমন, তার পূর্বাভাস দেয় নিক্কেই-এর ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স (পিএমআই) সূচক। সমীক্ষা করে মার্কিটই। ডিসেম্বরে ওই সূচক নেমেছে ৪৯.১-এ। নভেম্বরের ৫০.৩-এর তুলনায় তো বটেই, গত ২৮ মাসের মধ্যেও তা সব থেকে নীচে। উল্লেখ্য, ওই সূচক ৫০-এর উপরে থাকার মানে উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধি। আর তা তার নীচে নেমে যাওয়ার অর্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সঙ্কোচন।

বুধবার পরিষেবা ক্ষেত্রের সমীক্ষা প্রকাশ উপলক্ষে মার্কিটের অর্থনীতিবিদ পলিআন্না দ্য লিমা বলেন, পরিষেবায় নতুন ব্যবসা বেড়েছে। সেই সঙ্গে নতুন বছরে ব্যবসাপত্তর ভাল হওয়ার আশা করছেন পরিষেবা প্রদানকারীরা। সেই কারণেই গত বছরের শেষ মাসে মুখ তুলেছে ওই সূচক। কিন্তু তা বলে একে দেশের অর্থনীতির হাল ফেরার ইঙ্গিত বলে না ধরাই ভাল বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর মতে, আলোচ্য মাসে পরিষেবা ভাল করেছে ঠিকই। কিন্তু সার্বিক ভাবে দেশের অর্থনীতি এখনও যথেষ্ট নড়বড়ে। বিশেষত যেখানে ক্রমাগত হোঁচট খাচ্ছে উৎপাদন শিল্প। এতটাই যে, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রয়োজনে ত্রাণ প্রকল্প ঘোষণার পরামর্শ পৌঁছচ্ছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির কানে। এমনকী তার জন্য রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত বাজেটে অর্থমন্ত্রী সেই রাস্তা বাছবেন কি না, তা অবশ্য অনেক দূরের প্রশ্ন।

উৎপাদন শিল্পের বেহাল দশা তুলে ধরার দিনে লিমা বলেছিলেন, প্রথমত ভারতের বাজারে চাহিদা এখনও সে ভাবে মুখ তোলেনি। তার উপর নভেম্বরের শেষ এবং ডিসেম্বরে চেন্নাই-সহ দক্ষিণ ভারতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার জেরে মার খেয়েছে বিভিন্ন সংস্থার উৎপাদন। মূলত তার প্রতিফলনই দেখা গিয়েছে ডিসেম্বরের পিএমআই সূচকে। তার আগে গত বছরের শেষ দিনে পরিকাঠামোর ঘর থেকেও ভাল খবর পায়নি দেশের অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান জানিয়েছিল, নভেম্বরে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি তো দূর অস্ত্‌, বরং তা সরাসরি কমেছে ১.৩%।

অনেকের মতে, পরিকাঠামো-উৎপাদন শিল্পে এই জোড়া ধাক্কার কারণেই এত সহজে স্বস্তি দিতে পারছে না পরিষেবায় ১০ মাসের চূড়ায় ওঠার খবর।

সম্প্রতি কেন্দ্র চলতি আর্থিক বছরের জন্য বৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা শিথিল করেছে ঠিকই। কিন্তু তা বলে ভারতকে বিশ্বে দ্রুততম বৃদ্ধির দেশ হিসেবে দাবি করা থেকে সরে আসেনি। বুক বাজিয়ে বারবার বলেছে এ ক্ষেত্রে চিনকে টপকে যাওয়ার কথা। তাই বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতির চাকায় গতি ফেরাতে ত্রাণ প্রকল্প ঘোষণা জরুরি হবে কেন? বিশেষত যেখানে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দর ক্রমাগত নীচে নেমে আসার পড়ে পাওয়া সুযোগ পেয়েছে মোদী সরকার। সেই সুযোগে গত ১৪ মাসে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর ৭ বার উৎপাদন শুল্ক বাড়িয়েছে তারা। শুধু তার দৌলতে ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বাড়তি আয় হয়েছে ৩২,৫০০ কোটি টাকা। তাঁদের প্রশ্ন, তার পরেও রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করার কথা উঠছে কেন? তবে কী নতুন নিয়মে হিসেব করা বৃদ্ধির হার যা-ই বলুক, আসলে দেশের অর্থনীতির ছবিটা আলাদা?

এই চিন্তায় এ দিন ঘি ঢেলেছে সমীক্ষার আর একটি অংশ। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আগামী দিনে ব্যবসাপত্তর কেমন হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার প্রত্যাশা আগের থেকে না-কমলেও, বেড়েছে অতি সামান্য। এই মূল্যায়ন চালু হওয়ার পর থেকে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হারে।

আর এই সমস্ত কারণেই হয়তো অর্থনীতি নিয়ে পুরোদস্তুর স্বস্তিতে নেই মোদী সরকার। এমনকী প্রয়োজনে ত্রাণ প্রকল্প ঘোষণার পরামর্শও ঘুরপাক খাচ্ছে নর্থ ব্লকের অলিন্দে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy