Advertisement
E-Paper

বেলুড়ে ছোট শিল্পনগরীর সম্ভাবনা ঘিরেও সংশয়

বড় শিল্প ছাড়া এ রাজ্যে ছোট ও মাঝারি শিল্প বাঁচবে কী ভাবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে মাস খানেক আগে ওই দুই মুশকিল আসানের কথাই বলেছিলেন বিব্রত ক্রেতা সুরক্ষা ও স্বনিযুক্তি মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে।

দেবপ্রিয় সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০১৫ ০২:১৮

রেলের বরাত নয়তো পড়শি রাজ্যের বাজার!

বড় শিল্প ছাড়া এ রাজ্যে ছোট ও মাঝারি শিল্প বাঁচবে কী ভাবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে মাস খানেক আগে ওই দুই মুশকিল আসানের কথাই বলেছিলেন বিব্রত ক্রেতা সুরক্ষা ও স্বনিযুক্তি মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে। এখন ছোট-মাঝারি শিল্পের জন্য আলাদা শিল্পনগরীই গড়তে চলেছে রাজ্য। ফলে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে সেই পুরনো প্রশ্ন। অনেকেরই জিজ্ঞাসা, গত পাঁচ বছরে রাজ্যে বড় শিল্পে লগ্নি নেই বললেই চলে। সব বড় চালু সংস্থার অবস্থাও তেমন সুবিধার নয়। কিন্তু বড় শিল্পের বরাত ছাড়া ওই শিল্পনগরীতে তৈরি পণ্য কোথায় বেচবে ছোট সংস্থাগুলি? আদৌ কতটা লাভ হবে শিল্পনগরী গড়ে?

ছোট ও মাঝারি শিল্প দফতর এবং হাওড়া পুরসভার যৌথ উদ্যোগে বেলুড়ে তৈরি হবে ওই শিল্পনগরী। হাওড়া পুরসভার প্রায় ১৫০ একরে তা গড়ার প্রস্তাবে সম্প্রতি সায় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুকে জানিয়েছেন, বেলুড় শিল্পতীর্থ নামে ওই নগরীতে উৎপাদন ব্যবস্থার পাশাপাশি থাকবে লজিস্টিক্স হাব ও আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন ইত্যাদির পরিকাঠামো।

দফতরের সচিব রাজীব সিংহ জানান, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে পরিকাঠামো গড়তে মাস তিনেকের মধ্যেই দরপত্র চাওয়া হবে। ওই শিল্পনগরীতে জোর দেওয়া হবে ফাউন্ড্রি বা ঢালাই, বস্ত্র, ই়ঞ্জিনিয়ারিং, পাটজাত পণ্য ইত্যাদি শিল্পের উপর।

কিন্তু হাওড়ার এক ‘কাস্টিং’ কারখানার শিল্পোদ্যোগীর অভিযোগ, ওই জেলায় ৩০% কারখানায় কাজ নেই। ফাউন্ড্রি, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প ধুঁকছে। ফাউন্ড্রি পার্ক এখনও জমির ঊর্ধ্বসীমার জটে আটকে। তাঁর প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে নতুন শিল্পনগরী গড়ে লাভ হবে কতখানি? একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘ফাউন্ড্রি শিল্পে দূষণের সমস্যা রয়েছে। তাই শহরাঞ্চলে তা গড়াও অসম্ভব।’’

সবার উপরে রয়েছে পণ্য বেচার সমস্যা। যে-সমস্ত সংস্থা আগে রাজ্যের বিভিন্ন ইস্পাত কারখানা বা চা বাগানে যন্ত্রাংশ বিক্রি জোগাত, তাদের দশাও এখন তথৈবচ। মন্ত্রী রেলের বরাতের দাওয়াই দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও এক শিল্প-কর্তার পাল্টা বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক’ কারণেই ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ পিছিয়ে যাওয়ায় তার ফল ভুগছে ছোট-মাঝারি শিল্প।

রাজীববাবুর দাবি, কলকাতা ও তার আশেপাশে ছোট-মাঝারি শিল্পের জন্য যে-সব সরকারি তালুক রয়েছে, সেখানে নতুন সংস্থার জন্য আর জায়গা নেই। সেই কারণেই জাতীয় সড়কের কাছকাছি নয়া শিল্পনগরী গড়ার এই ভাবনা।

কিন্তু উলুবেড়িয়া শিল্প তালুকে কারখানা গড়া এক কর্তার অভিযোগ, ‘‘এখানে প্রায় ২০০টি কারখানা আছে। অথচ পরিকাঠামো কার্যত শূন্য। নিকাশি নেই। রাস্তা তথৈবচ। নিরাপত্তা বেহাল। সেই সঙ্গে রয়েছে চাঁদা, সিন্ডিকেটের জুলুম।’’ তাঁর দাবি, নতুন প্রকল্পের আগে বরং চালু শিল্প তালুকগুলিতে পরিকাঠামোর বিষয়টি নিশ্চিত করুক রাজ্য।

বিদ্যুৎ বণ্টন ও সরবরাহের যন্ত্রাংশ ব্যবসায় যুক্ত রাজ্যের এক শিল্প সংস্থার কর্তার কথায়, ‘‘এ রাজ্যে বড় শিল্প নেই বলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে না। ফলে বাড়ছে না আমাদের যন্ত্রাংশের চাহিদা। উপরন্তু সরকারি বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার কাছে রাজ্যের সংস্থা কোনও বরাত পায় না। শুধু ভিন্‌ রাজ্যের উপর নির্ভর করে ক’দিন আর ব্যবসা চালানো সম্ভব? সেখানে তো প্রতিযোগিতা রয়েছে।’’

শুধু রাজ্যের বাজারে আটকে না-থাকার পরামর্শ সরকার দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু শিল্পমহলের একাংশ মনে করছে, বড় শিল্পের অভাব ঢাকতে আসলে তা যুক্তির ঢাল।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy