ভারতে নিজেদের কারখানা খোলার জন্য বছর তিনেক আগে তামিলনাড়ুতে ৫০ একর জমি কিনেছিল মার্কিন বহুজাতিক সরাসরি পণ্য বিক্রেতা (ডিরেক্ট সেলিং) সংস্থা অ্যামওয়ে। অবশেষে সোমবার সেখানে কারখানা চালু করল সংস্থা। আমেরিকার বাইরে এটি সংস্থার তৃতীয় কারখানা। প্রাক্ পরিকল্পনা পর্বে লগ্নির অঙ্ক ৩০০ কোটি থাকলেও শেষ পর্যন্ত কারখানাটি গড়তে তারা বিনিয়োগ করেছে ৫৫০ কোটি টাকা।
ভারতে দেড় দশকেরও বেশি ব্যবসা করলেও এত দিন অন্য সাতটি বেসরকারি সংস্থার কারখানায় চুক্তির ভিত্তিতে তাদের পণ্য তৈরি করত অ্যামওয়ে। দীর্ঘ দিন ধরে ভারতে নিজস্ব কারখানা চালুর কথা বললেও ২০১২-তে তামিলনাড়ুর ডিনডিগুল জেলার নিলাকোট্টাইয়ের জমি চিহ্নিত করেছিল সংস্থাটি।
এর মধ্যে অবশ্য ভারতে ব্যবসা চালাতে গিয়ে চিট ফান্ড সংক্রান্ত বিধিনিষেধ না-মেনে ব্যবসা করা, আর্থিক অনিয়ম-সহ নানা অভিযোগের মুখে পড়তে হয় সংস্থাটিকে। এমনকী সংস্থার তৎকালীন শীর্ষ কর্তা ইউলিয়াম এস পিঙ্কনিকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। এ ধরনের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে শিল্পমহলের দাবি ছিল, নিয়ম মেনেই সরাসরি পণ্য বিক্রেতা সংস্থাগুলি এ দেশে ব্যবসা করে। চিট ফান্ডের ব্যবসার সঙ্গে সরসারি পণ্য বিক্রির আদৌ কোনও মিল নেই। এই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে তাদের নিজস্ব কারখানা গড়ার সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব পড়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই।
কারখানা গড়লেও সংস্থার পূর্ব অভিজ্ঞতার রেশ যে এখনও কাটেনি তা স্পষ্ট হয়ে যায় অ্যামওয়ের রিজিয়নাল প্রেসিডেন্ট সমীর বেহল-এর কথায়ও। তাঁর কথায়, ‘‘এ দেশে এই ব্যবসার সম্ভাবনা প্রচুর। আমরা ভারতের বাজারের প্রতি দায়বদ্ধও। সরাসরি পণ্য বিক্রির ব্যবসা কী ভাবে কাজ করে, তা আরও ভাল ভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে তাঁদের সঙ্গে আমরা কাজ করব।’’ সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ডগ ডে ভস-ও বলেন, ‘‘এটা ভারতের বাজার সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতার উদাহরণ।’’ বিশ্ব জুড়ে সংস্থা তার সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৩০ শতাংশ অর্থ খরচ করছে ভারতে।
এ দিন চেন্নাইয়ের সচিবালয় থেকে কারখানাটির উদ্বোধন করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতা। আমেরিকা, চিন ও ভিয়েতনামের পরে এটি সংস্থার চতুর্থ কারখানা। অ্যামওয়ে-ইন্ডিয়া-র সিইও অংশু ভারদ্বাজ জানান, এই আধুনিক কারখানাটি ভারতীয়দের চাহিদার প্রায় ৬৫০০ কোটি টাকার পণ্য তৈরি করতে সক্ষম। এ দেশে সংস্থাটি যা যা পণ্য বিক্রি করে, তার সবই এ বার এখানে তৈরি হবে। নতুন পণ্য তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।