দেওয়ালির আগে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে কমলো খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি। সোমবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে সেপ্টেম্বরে তা নেমে এসেছে ৬.৪৬ শতাংশে। পাশাপাশি, শহরাঞ্চলে এই মূল্যবৃদ্ধির হার ৬.৩৪%, গ্রামে ৬.৬৮%।
২০১২-র জানুয়ারিতে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির এই সূচক চালু হওয়ার পর থেকে তা এত নীচে নামেনি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর আগাম সমীক্ষার ৭.২ শতাংশের তুলনায়ও এই হার কম। মূলত শাক-সব্জি ও ফলের দাম কমে আসার জেরেই এই হার বেশ কিছুটা কমেছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। অগস্টে খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৭.৭৩% (সংশোধিত হার)। শহরে ৭.০৪%, গ্রামে ৮.২৭%।
সার্বিক ভাবে সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার ৭.৬৭%, অগস্টে যা ছিল ৯.৩৫%। গত বছরের সেপ্টেম্বরের হার ১১.৭৫%। এ বছরের সেপ্টেম্বরে শাক-সব্জির দাম কমেছে ৮.৫৯%, ফলের দাম ২২.৪%। মাছ-মাংস-ডিমের দাম বাড়লেও আগের মাসের তুলনায় তা ঢিমেতালে বেড়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনা রূপায়ণ মন্ত্রকের এই পরিসংখ্যান।
খুচরো মূল্যবৃদ্ধি ২০১৫-র জানুয়ারির মধ্যে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই মুহূর্তে তা ওই লক্ষ্যমাত্রার নীচে নামলেও আগামী ২০১৫-’১৬ অর্থবর্ষের আগে শীর্ষ ব্যাঙ্ক সুদের হার কমাবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তার কারণ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না তারা। বার্কলেজ রিসার্চ-এর পক্ষ থেকে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, নতুন অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনে রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমাতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। একই মত মূল্যায়ন সংস্থা ইক্রা-র অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঋণনীতি ফিরে দেখতে গিয়ে সুদে স্থিতাবস্থা বজায় রেখেছে আরবিআই। পরবর্তী ঋণনীতি আগামী ২ ডিসেম্বর।