E-Paper

উদ্বেগ সামলে সুস্থ ভাবে বাঁচার সহজ পাঠ

মহাভারত থেকে রবীন্দ্রকাল পর্যন্ত রাগরাগিণীর লীলাবিলসন ধরা আছে ছোট্ট এ বইয়ে।

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কম-বেশি ‘উদ্বেগ’ থাকা জীবনেরই অংশ। কিন্তু, যখন তা মাত্রা ছাড়ায়, গোটা জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তখন তাকে একটি মানসিক সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন, এবং সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন মনোচিকিৎসক মনোবিদের। অনলাইন টোটকা, পাঁচ জনের হরেক পরামর্শ বিপদ কমায় না, বরং বাড়ায়। সোমা মুখোপাধ্যায়ের ‘ভাবনায় নয়, ভরসায় বাঁচার পাঠ’ পুস্তকমালার চতুর্থ পর্বে আলোচ্য বিষয় উদ্বেগ। কী ভাবে সমস্যাটি চিহ্নিত করতে হবে, কী ভাবে নিজের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, আর কী ভাবেই বা পাশে থাকা যায় উদ্বেগে ভোগা প্রিয়জনের। বইটিতে রয়েছে অনেকের বাস্তব অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ বিষয়ে একাধিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্বেগের চরিত্র নিয়ে আলোচনা। তত্ত্বের বোঝায় ভারাক্রান্ত নয়, আবার সস্তা টোটকার ধারকাছ দিয়েও যাননি লেখক— উদ্বেগ সামলে সুস্থ ভাবে বাঁচার সহজ পাঠ।

উদ্বেগ: ভাবনায় নয়, ভরসায় বাঁচার পাঠ

সোমা মুখোপাধ্যায়

৩৫০.০০

আনন্দ

ছোটদের মতো ছবি আঁকতে চাওয়াই যেন ‘বড়’ শিল্পীদের চূড়ান্ত অভীপ্সা। তার যাত্রাপথটি অবশ্য দীর্ঘ— প্রথমে পটুত্ব অর্জন, এবং সেই পর্ব সমাপ্ত হলে সচেতন ভাবে স্বেচ্ছায় সেই পটুত্ব বিসর্জন দেওয়া। পাবলো পিকাসোর ‘ক্লদ আঁকছে’ শীর্ষক ছবিটিকে কেন্দ্র করে আধুনিক চিত্রকলার গভীর আলোচনা। প্রায় তিন দশক সময়কাল জুড়ে রচিত ১৩টি নিবন্ধের সঙ্কলন। যে ভ্যান গখের একটিমাত্র ছবি বিক্রি হয়েছিল তাঁর জীবনকালে, তাঁরই শতবর্ষ উপলক্ষে কী বিপুল আয়োজন হয়েছিল অ্যামস্টারড্যাম শহর জুড়ে, সেই বিবরণের পাশাপাশি চলে শিল্পীর চিত্রকলার নিপুণ বিশ্লেষণ। ভূমিকায় লেখক বলেছেন, “পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সারগর্ভ বলতে যা বোঝায়, তা এই লেখাগুলিতে নেই বলা যায়।” কথাটিকে নিতান্ত বিনয় বলে উড়িয়ে দেওয়া ভাল, কারণ সহজবোধ্য বাংলায় শিল্পকলার এমন বিশ্লেষণী পাঠ খুব সুলভ নয়। পরিশিষ্টে সঙ্কলিত ‘হিন্দু আর হিন্দুত্ব কি এক’ শীর্ষক নিবন্ধটি আজকের সময়ে অতি তাৎপর্যপূর্ণ।

পটে লিখা: রূপ, অরূপ আর স্মৃতির কহন

মনসিজ মজুমদার

৪০০.০০

রাবণ

মহাভারত থেকে রবীন্দ্রকাল পর্যন্ত রাগরাগিণীর লীলাবিলসন ধরা আছে ছোট্ট এ বইয়ে। লেখিকার কল্পনায় জেগে ওঠে রাজ্যহারা পাণ্ডবদের কাম্যকবনে বসবাসের চেহারাটি: দ্রৌপদীকে ধৌম্যদেব অনুরোধ করছেন বনবালিকাদের গীত-নৃত্যশিক্ষার ভার নিতে। পাঞ্চালীর স্বগতোক্তিতে ফুটে ওঠে সঙ্গীতকলার রহস্য: কৃষ্ণ যে মুরলী বাজান, বেণুর সঙ্গে তার তফাত কী; গ্রাম্য বালিকাদের কী করে শেখাতে হবে গান্ধর্ব গানের সপ্তস্বর, কাকে বলে মার্গ তাল, নৃত্যের রূপমাধুর্য ফুটিয়ে তুলতে হয় কী ভাবে। সপ্তদশ শতকের সঙ্গীতবেত্তা প্রশাসক ফকিরুল্লাহ সইফ খানের লেখা বিস্মৃতপ্রায় সঙ্গীতগ্রন্থ রাগ দর্পণ-এর কথা; উনিশ শতকের প্রথমার্ধের কলকাতা মাতিয়ে রাখা গান্ধর্বীদের থেকে শুরু করে গওহরজান মালকাজান আখতারীবাই সিদ্ধেশ্বরীবাইদের অননুকরণীয় গায়কি, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের গানের যাত্রাপথ, রবীন্দ্রনাথের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত-যোগ— সবই উঠে এসেছে। স্বাদু গদ্যে লেখা রচনাগুলি পড়ে আরাম হয়; সঙ্গীত নিয়ে একদা যাঁরা সরস মধুর লেখা লিখতেন, তাঁদের মনে পড়ায়।

রাগরাগিণীর গল্পকথা

অলি সেন

২০০.০০

পার্চমেন্ট, ভাণ

মেটেবুরুজের অশীতিপর ইউনুচ-চাচার মুখে শোনা ‘কিসসা’র বয়ানে এক অচিন সময়, মানুষ ও তাদের জীবনকথা শোনান লেখক এই বইয়ে। সেখানে দর্জি পিতার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে কলকাতার সায়েব-মেমদের শরীর ও পোশাকের মাপ নেওয়ার গল্প আছে, আছে ‘গ্রেট ওয়ার’-এ ব্যবহৃত শত শত প্যারাসুটের সেলাই খুলে ফের পাঠাতে হত, “চারটে প্যারাস্যুটের সেলাই খুললে দশ আনা... তখনকার দিনে দুটো পরোটা আর একটা শিক-কাবাব জুটে যেত।” এ স্রেফ কয়েক পুরুষের দর্জিমহলের অন্দরকথাই নয়, ওয়াজিদ আলি শাহের সূত্রে কলকাতায় এসে ঠাঁইনাড়া হওয়া দর্জিকুলের স্থানান্তর ও রূপান্তরের অন্তরকথাও। আকড়া-মেটেবুরুজের অলিগলি, মুসলমান বাড়ি ও পাড়ার খাবারের গায়ে গায়েই সেখানে জেগে থাকে লিটল ম্যাগাজ়িন, বিয়ে পড়া, ইদ, এস্তেমা (ইজ়তেমা)-র পুণ্যার্জন। আজকালকার অবধারিত প্রশ্ন— ‘তুই বাঙালি, না মহমেডান?’-এর মানবিক উত্তর এই সমগ্র বইটিই।

সেলাই-করা মানুষ

সাদিক হোসেন

২২৫.০০

প্রতিক্ষণ

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

book review

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy