সকালেও ছেলেকে দেখেছেন সুস্থ সবল। কিন্তু বিকেলেই মাথায় বজ্রপাত। এখনও সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে ঢুকরে উঠছিলেন নীলকমল সরকার। রাজেশ সরকারের বাবা।

নীলকমলবাবু বলছিলেন, ‘‘আমি মাঠে কাজ করছিলাম। হঠাৎ শুনি গুলির আওয়াজ। ছুটে যাই সঙ্গে সঙ্গে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। দেখি মাটিতে পড়ে ছটফট করছে রাজেশ। সমানে রক্ত ঝরছে।’’ তাঁর কথায়, গলার গামছা দিয়ে বেঁধে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় প্রথমে। তার পর দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু কিছুই করা যায়নি। নীলকমলবাবু ফের ঢুকরে উঠলেন, ‘‘চোখের সামনে দেখলাম, ছেলেটা মারা গেল।’’

রাজেশের আর এক আত্মীয় যতীন সরকার বলছিলেন, ‘‘রাজেশ তো নিরীহ ছেলে। কী ভাবে ও গোলমালের মাঝে ঢুকে পড়ল!’’ নীলকমলবাবু বলেন, ‘‘পুলিশ অন্যায় ভাবে গুলি চালিয়েছে আমার ছেলের উপর।’’

সাধারণ পরিবার রাজেশদের। সামান্য কিছু জমিতে বাবা চাষবাস করেন। রাজেশের ছোট ভাই কলেজে পড়ে। রাজেশ আইটিআইয়ের ছাত্র। একই সঙ্গে তিনি রোজগারের চেষ্টাও করতেন। পাড়ার লোকেদের কথায়, না হলে সংসার চলবে কী করে!

আরও পড়ুন: ছুটে এসে দেখি, ছেলে নেই

রাজেশের বাড়ি স্কুল থেকে ৫০০ মিটার দূরে। তিনি দুপুরে বাড়িতে মোটরবাইক রেখে দৌড়ে বার হয়ে যান। মা ঝর্ণা দেবী বলেন, ‘‘বেলা তখন সাড়ে তিনটা। জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাচ্ছ। বলল, বাজার যাচ্ছি। আমি বারবার বাধা দিয়েছিলাম। বললাম, যেও না। স্কুলে গণ্ডগোল চলছে। ছেলে বলল, বাজার থেকে ঘুরে এখনই আসছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে খবর আসে ওর গুলি লেগেছে।’’

আরও পড়ুন: ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় অপসারিত ডিআই, আজ উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির বন্‌ধ

এখনও এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি পাড়ার লোকজনেরাও। তাঁরাও প্রশ্ন তুলেছেন, এমন ঘটনা কেন এড়ানো গেল না? 

ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল অগ্রবাল এর মধ্যে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন। প্রধান শিক্ষকের ফোন অবশ্য বন্ধ ছিল।