দেবদেবীদের আমরা ভীষণ ভক্তিভরে পুজো করি, পুজোয় যাতে কোনও রকম ত্রুটি না হয় তার জন্য কত নিয়ম নিষ্ঠাভরে মানি, ভয়ে ভয়ে থাকি এই বুঝি অমঙ্গল হয়ে গেল! কিন্তু পুজো হয়ে গেলেই আর পাপের, অমঙ্গলের ভয় থাকে না! ব্যাপারটা বেশ আশ্চর্য না? সেই দেবদেবীর মূর্তিগুলোর দিকে আমরা আর ফিরেও তাকাই না, অবলীলাক্রমে সেগুলোকে যেখানে সেখানে ফেলে দিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ করি! কে বলতে পারে, হয়তো এই অন্যায় কাজগুলোই আমাদের অবচেতন মনে গেঁথে যায়, আর তার ফলেই আমরা অবলীলাক্রমে আমাদের মা-বাবাদের দেখাশোনা না করে, কেউ রাস্তাঘাটে আর কেউ বা বৃদ্ধাশ্রমে তাঁদের ফেলে আসি! মনস্তত্ত্ববিদেরা ভেবে দেখতে পারেন! 

অরূপ দত্ত গুপ্ত

কলকাতা-৪৭

 

টাকা ফেরত চাই

আমি একটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের এক জন ডিপোজ়িটর। গত ৬-৯-২০১৩ তারিখে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া উক্ত ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করার পর ২৫-৮-২০১৫ তারিখে স্বাক্ষরিত ফর্ম অব ভেরিফিকেশন অব ডিপোজ়িটস ব্যাঙ্কে দাখিল করি। ২৫-২-২০১৭ তারিখে আমার সব পাশবই, এমআইএস ইত্যাদি ও প্যান কার্ড এবং আধার কার্ড আরবিআই পার্সোনেল দ্বারা পরীক্ষা করা হয়। সেভিংস অ্যাকাউন্টের পাশবইতে ব্যাঙ্ক আমার পদবি DATTA বানান DUTTA লেখায় আমাকে অ্যাফিডেভিট করতে বলা হয়। ২৮-১১-২০১৭’য় তা করে, জমা দিই। তার পর সব তথ্য নিয়ে দেখা করতে বলা হয়। সাক্ষাতে জানানো হয়, আমার জমা টাকা অনুমোদন হয়ে না আসায় চেক দেওয়া যাচ্ছে না। আমি ৬৬ বছর বয়স্ক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি। জমা টাকা ফেরত না পাওয়ায় খুব কষ্টের মধ্যে আছি।

সমর কুমার দত্ত

হাওড়া

 

ভুল শোধরান

একটি সরকারি আবাসনের পোস্ট অফিসের নবাগত পোস্টমাস্টার ১৫-২-২০১৯’এ চিঠি দিয়ে জানান, আমার সিনিয়র সিটিজ়েন সেভিংস স্কিম অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০-৬-২০১৮’য় ৩৪৮৮ টাকা টিডিএস কাটা হয়। প্রেরিত তালিকার ক্রমিক নম্বর ৯-এ উক্ত টাকার পাশে আমার নাম ও প্যান দুটোই ভুল লেখা হয়। মাস্টারমশাইকে প্রশ্ন করায় উনি বিরক্ত হন ও রূঢ় ব্যবহার করেন। আমার সঠিক নাম ও প্যান দিয়ে আইটি দফতরকে জানানোর অনুরোধ করে চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেলকে একাধিক ইমেল করি। ফল হয়নি। ৩১-০৩-২০১৯’এ আর্থিক বছর শেষ হয়ে গেল। আমি বৃদ্ধ এখন বিপাকে।

স্বরাজ ঘোষ

কলকাতা-১১০

 

ব্যাঙ্ক নির্বিকার

১৯৬৯ সালে ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ হয়েছিল ‘ক্লাস ব্যাঙ্কিং’ থেকে ‘মাস ব্যাঙ্কিং’-এ পরিবর্তনের জন্য, যার সুফল আমরা আজও পাচ্ছি। কিন্তু ইদানীং জাতীয় ব্যাঙ্কের সার্ভিস এমন তলানিতে চলে গিয়েছে (সব জাতীয় ব্যাঙ্ক নয়) যে এ বার হয়তো উলটপুরাণ হতে চলেছে।

আমি ছেলের জন্যে একটি ব্যাঙ্কের যাদবপুর শাখা থেকে এডুকেশনাল লোন নিয়েছিলাম। সুদের হার ছিল ৯.৫। মাস চারেক পরে দেখি সেটা ১১.৫ হয়ে গিয়েছে। ওঁরা বললেন ওটা রিভার্স করে দেবেন। দু’বছর পরে যখন আমার ইএমআই শুরু হবে, তখনও ওটা রিভার্স হয়নি। আমি আমার ইএমআই কত জানার জন্যে ওঁদের চিঠি লিখলাম। প্রায় ১৫ দিন পরে ওঁরা জানালেন, আমার সুদের হার ১১.৫ আর ইএমআই সেই অনুযায়ী। এ বার ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ জানালাম, কারণ ব্যাঙ্কের সঙ্গে চুক্তির কাগজে সুদের হার ছিল ৯.৫। চার বার রিমাইন্ডার দেওয়ার পরেও উত্তর না আসায়, মাসখানেক বাদে ব্যাঙ্কের ‘জ়োনাল কাস্টমার গ্রিভান্স সেল’-এ নালিশ করলাম। দশ দিন বাদে ওঁদের ফোন করলাম। এক জন অফিসার বললেন, ‘‘আমরা কমপ্লেন্ট ব্রাঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছি।’’ আমি ইএমআইয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম, কারণ কিস্তি বাকি হলে ব্যাঙ্ক ২% ওভারডিউ ইন্টারেস্ট নেয়। উনি একটা অমূল্য উপদেশ(?) দিলেন। বললেন, ‘‘টাকা বেশি করে জমা দিন, তাড়াতাড়ি শোধ হবে।’’

তার পর আরও ১৫ দিন কেটে গেল। কোনও খবর নেই। এর পর আমি ব্যাঙ্কের হেড অফিস বেঙ্গালুরুতে কমপ্লেন করলাম। তার পরও ১৫ দিন কেটে গেল। এ বার আমি বাধ্য হয়ে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের অম্বুডসম্যানের কাছে কমপ্লেন করলাম। সাত দিনের মধ্যে ওঁরা অ্যাকনলেজ করলেন। দশ দিনের মধ্যে ওঁরাই উত্তর দিলেন, আমার ইন্টারেস্ট কমেছে ও বেশি সুদ রিভার্স হয়েছে। ব্যাঙ্কের কোনও স্তর থেকে কোনও রকম উত্তর আজ পর্যন্ত পেলাম না।

দীর্ঘ ৩৫ বছর ব্যাঙ্কিং জীবনে ছিলাম বলে তার নাড়িনক্ষত্র কিছুটা জানি। আমি যে ব্যাঙ্কে ছিলাম তাদের ট্যাগলাইন ছিল ‘রিলেশনশিপ-বিয়ন্ড-ব্যাঙ্কিং’, মানে ‘ব্যাঙ্কিং পেরিয়ে সম্পর্ক’। আমার টেবিলের সামনে সর্বদা দুটো চেয়ার থাকত। আমার দুটো মন্ত্র ছিল: ‘স্মাইলিং ফেস’ আর ‘প্লিজ় সিট ডাউন’। আমাদের যত না ব্যাঙ্কিং পড়ানো হত, তার থেকে বেশি পড়ানো হত বিহেভিয়রাল সায়েন্স, এমনকি গীতা থেকে পড়ানো হত। শেখানো হত, সর্বপ্রথম কাস্টমারকে ব্যাঙ্কের বৃহত্তর পরিবারের সদস্য রূপে মনে করতে হবে।

রঞ্জন মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-৪৭

 

বয়স্কদের জন্য

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় আধা-সরকারি সংস্থার অফিস থেকে অবসর নিই। আমার একমাত্র মেয়ের বিয়ের খরচ মেটাতে, বাধ্য হই ২০১৬-র মে মাসে স্থানীয় ব্যাঙ্কে দীর্ঘ ১৫ বছরে জমানো সঞ্চিত পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের সমস্ত অর্থই তুলে নিতে। অবসরকালীন সময়ে আমার ব্যক্তিগত সঞ্চয় বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। আমি সংস্থার নিয়মে এক জন পেনশন প্রাপকও।

বর্তমানে অথৈ জলে পড়েছি। অবসরের পর দেখছি, ৬০ বা তার বেশি বয়সের নাগরিকদের জন্য সরকারি কোনও স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্প নেই। যা আছে, বিশেষ করে জীবনবিমা কর্পোরেশন বা পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের ন্যায় আকর্ষক সঞ্চয় প্রকল্পগুলি, সেগুলিরও মেয়াদকাল ১৫ বছর বা তারও বেশি। কোম্পানি থেকে অবসরকালীন সুবিধা হিসাবে প্রাপ্য অর্থের কিছু অংশ রেখেছিলাম সিনিয়র সিটিজ়েন সেভিংস স্কিম-এ, তা থেকে অর্থবছর ২০১৮-১৯’এ আয়করের ৮০সি-র অন্তর্গত ধারায় বছরে করযোগ্য আয় থেকে দেড় লক্ষ টাকা ছাড় পাওয়ার অধিকারী হলেও, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের আয়কর রিটার্নে কর ছাড়ের সুবিধা ভোগ করতে পারব না, কারণ স্কিমটি থেকে কর ছাড় এক বারই পাওয়া যায়।

তাই অনুরোধ, ৬০ বা তার বেশি বয়সের নাগরিকদের অবসরকালীন আয়ে আয়কর ছাড়ের সুবিধাদানে, কিছু বিমা প্রকল্প বয়স্ক নাগরিকদের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের মেয়াদে করা হোক ও এঁদের জন্যই পিপিএফ-এর মেয়াদকেও পাঁচ বছরের সময়সীমার মধ্যে নিয়ন্ত্রিত করা হোক।

তাপস সাহা

শেওড়াফুলি, হুগলি

 

টাকা কেটেছে

আমি কেন্দ্রীয় সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন প. ব. সার্কল থেকে অবসর নিয়েছি ৩১-৭-২০১৫’তে। সময় মতো ২০১৯-২০ আর্থিক বছরের সঞ্চয়ের ঘোষণাপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও, আমার মার্চ ২০১৯-এর পেনশন (যা ইনকাম ট্যাক্সের হিসাবে এপ্রিল ২০১৯-এর পেনশন) থেকে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ টিডিএস ৯৭৮ টাকা কেটে নিয়েছে। অথচ আমার ঘোষণাপত্র বিবেচনা করে চলতি আর্থিক বছরের আইটি নিয়ম অনুযায়ী আমার ইনকাম ট্যাক্স হয় শূন্য। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ওই কাটা টিডিএস এখনও ফেরত পাইনি।

শ্যামসুন্দর মণ্ডল

চন্দননগর, হুগলি

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।