আশঙ্কাটা ছিলই। প্রত্যাশিতও ছিল এই কুৎসিত ও কদর্য প্রচার শুরু হয়ে যাবে যে কোনও মুহূর্তে। অতএব আমরা খুব একটা চমকে উঠলাম না। শাসকের পছন্দ না হলেই কখনও দেশদ্রোহী, কখনও বা দেশবিরোধী আবার কখনও বা পাকিস্তানপন্থী হিসেবে তকমা লাগতে দেখেছি গত চার বছর ধরেই। অতএব শাহ ফয়জল নামে এক অসাধারণ উজ্জ্বল নাম, দেশের আইএএস টপার শাহ ফয়জল যখন কাশ্মীরের মানুষের ‘আসল মন কি বাত’-এর উল্লেখ করে ক্ষোভ জানান তখন তাঁকেও যে শাসকের রোষে পড়তে হবে ঠিক একই ধারায় তাতে আশ্চর্যের কী!

শাহ ফয়জল বলেছিলেন, “কাশ্মীরের সাধারণ মানুষদের হত্যা করার প্রতিবাদে, কেন্দ্রের তরফে কোনও সদর্থক আলোচনার উদ্যোগ না থাকার প্রতিবাদে, হিন্দুত্ববাদী শক্তির হাতে ভারতের ২০ কোটি মানুষের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে ওঠার প্রতিবাদে, মূল ভারতীয় ভূখণ্ডে উগ্র জাতীয়তাবোধের নামে বাড়তে থাকা ঘৃণা এবং অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে আমি সিভিল সার্ভিস থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” ফয়জল আইএএস চাকরি ছেড়েছেন। রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে। হুরিয়ত কনফারেন্সের মতো দলগুলোর সঙ্গে হাত মেলাতে চান না, সে কথাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। ভারতের মূল স্রোতের রাজনীতির অঙ্গ হিসেবে কাশ্মীরের কথা তুলে ধরতে চান শাহ ফয়জল। তাঁর প্রধান ক্ষোভ, কাশ্মীরের মানুষের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতাকে কেন্দ্র করে। কেন্দ্রের প্রতি ক্ষোভ, যে কেন্দ্রের শাসনে গেরুয়া শিবিরের নেতারা— অতএব দেশদ্রোহী, দেশবিরোধী এবং ফয়জল পদবীর কল্যাণে ‘দেশের চেয়েও ধর্মপ্রেমই বেশি’ এই তকমা জুটে গেল শাহ ফয়জলের কপালে। ব্রাইট স্কলার শাহ ফয়জল, আইএএস পরীক্ষার টপার শাহ ফয়জল, চোখে নবীন স্বপ্ন নিয়ে দেশ গড়ার লক্ষ্যের প্রতি শাহ ফয়জল এই আচমকা অন্যায় কু-বাণে কতটা আহত হলেন জানি না, কিন্তু রক্ত ঝরল এই ভারতের হৃদয়ের স্থলে।

অন্যায় এই অপবাদের রাস্তা থেকে কেন্দ্রের শাসক যতক্ষণ না সরে আসছে, যতক্ষণ না মূল ভূমির সুরেই এ দেশের সমস্ত প্রান্ত কথা বলবে এই ভাবনা থেকে সরে আসছে, তত দিন পর্যন্ত শাহ ফয়জলদের ক্ষোভ থাকবে। আরও শাহ ফয়জল তৈরি হয়ে যাবে যখন জম্মু-কাশ্মীরের বিজেপি নেতার দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে ‘দেশবিরোধী’ খোঁচাগুলো এক শাহ ফয়জলের চামড়া থেকে তুলে নেবে আর এক শাহ ফয়জল। জম্মু-কাশ্মীরের বিজেপি নেতা ফয়জলের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে যে মন্তব্যগুলো করলেন তার দায় নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কিন্তু এই মানসিকতার দায় আমাদের গোটা দেশকে বইতে হচ্ছে বহু দিন, না জানি বইতে হবে আরও কত দিন।

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

আরও পড়ুন: ‘অকৃতজ্ঞ, দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে যুক্ত’, শাহ ফয়জলকে তোপ বিজেপির