সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

যথেচ্ছাচার নহে

COVID-19

স্বাধীনতা উদ‌্‌যাপন। অন্তত একটি দিনের জন্য। মুখাবরণী না পরিবার স্বাধীনতা, দূরত্ববিধি না মানিবার স্বাধীনতা। সম্প্রতি পাঁচ মাসের অধিক সময় ধরিয়া চলা অতিমারি-সংক্রান্ত নিয়মবিধির ‘পরাধীনতা’ হইতে মুক্তির দাবিতে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে পথে নামিয়াছিলেন প্রায় কুড়ি হাজার নাগরিক। তাঁহাদের মুখে মাস্ক নাই, দূরত্ববিধির পরোয়া নাই। প্রতিবাদীদের মূল সুরটি ছিল, করোনা লইয়া অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হইতেছে, এবং বাধ্য করা হইতেছে মুখ ঢাকিয়া রাখিতে। তাঁহারা পুনরায় গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরিতে চাহেন, নিষেধের বেড়াজাল যা তাঁহাদের নিকট হইতে হরণ করিয়াছে। তাঁহারা অতিমারি লইয়া সরকারের নিষেধাজ্ঞার বাড়াবাড়িতে বীতশ্রদ্ধ। প্রসঙ্গত, জার্মানিতে সংক্রমণের হার এবং মৃতের সংখ্যা ইউরোপের অন্য কোভিড-আক্রান্ত দেশগুলির তুলনায় কম। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হইতেছে। এমতাবস্থায় বিধি উড়াইয়া কয়েক হাজার মানুষের জমায়েত সংক্রমণকে কোন স্তরে লইয়া যাইবে, গভীর আশঙ্কায় পড়িয়াছেন বিশেষজ্ঞেরা।

আশঙ্কা স্বাভাবিক। এই এক রোগ, যেখানে সামান্যতম শিথিলতা, বেপরোয়া আচরণের স্থান নাই। অস্ট্রেলিয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসিবার অব্যবহিত পরই প্রশাসনের পক্ষ হইতে নিয়ন্ত্রণবিধি শিথিল করা হইয়াছিল। তাহাতে সংক্রমণের হার ফের তীব্র হইয়াছে। অবস্থা এমনই সঙ্কটজনক যে, বিভিন্ন প্রদেশে পুনরায় বিধিনিষেধ ফিরাইতে হইয়াছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট-সহ সাধারণ মানুষের একাংশও মুখ ঢাকিতে প্রবল অনিচ্ছুক। মাস্ক না-পরিবার জন্য সেখানেও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলিতেছে। পরিণতি কাহারও অজানা নহে। সংক্রমিত এবং মৃত— উভয় সংখ্যার ক্ষেত্রেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতেছে প্রবল শক্তিধর দেশটি। ভারতের পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। দীর্ঘ লকডাউন শেষে আনলক প্রক্রিয়া শুরু হইবার সঙ্গে সঙ্গেই সংক্রমণের ঢেউ আসিয়াছে। দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যায় কখনও কখনও আমেরিকা এবং ব্রাজিলকেও পিছনে ফেলিতেছে এই দেশ। এই উদাহরণগুলির প্রত্যেকটি একই দিকে নির্দেশ করিতেছে— সাহসী হইবার সময় এখনও আসে নাই। সুতরাং, নিয়ম মানিতেই হইবে, তাহা যতই অসহনীয় হউক না কেন।

লক্ষণীয় ইহাই, যে দেশে বাক্‌স্বাধীনতার প্রকাশ যত বেশি, সেই দেশে নিয়ম ভাঙিবার প্রবণতা ততোধিক। সংক্রমণের হারও অত্যধিক। ভারতও সেই পথেই হাঁটিতেছে। স্বাধীনতার অর্থ কিন্তু যথেচ্ছাচার নহে। স্বাধীনতা দায়িত্ববোধকেও বুঝায়। নাগরিক হিসাবে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব। নাগরিক স্বয়ং নিজের ভাল বুঝিবেন এবং অন্যের ভাল-র দায়িত্বটি লইবেন। এই দায়িত্ববোধের কথাটি স্মরণ করাইতে রাষ্ট্রকে হাতে চাবুক উঠাইতে হইবে না। রাষ্ট্র নির্দেশ দিতেছে বলিয়াই নাগরিক মাস্ক পরিবেন না। তিনি মাস্ক পরিবেন এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক হিসাবে। দুর্ভাগ্য, পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রেও এই দায়িত্ববোধটি অবলুপ্তপ্রায়। নাক-মুখ ঢাকিবার পরিবর্তে মাস্ক শোভা পায় নাগরিকের কানে অথবা চিবুকে। যথেচ্ছাচারকে ব্যক্তিগত অধিকার মনে করিবার দামটি গোটা সমাজের জন্য এতই বেশি যে, শাস্তির পথ ভিন্ন গত্যন্তর আছে বলিয়া মনে হয় না।  

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন