পেশায় চিকিৎসক। বাবার কিডনি খারাপ হওয়ায় নিজের কিডনি দিতেও পিছপা হননি লালু প্রসাদ কন্যা রোহিণী। কিন্তু তাঁর ‘অপরাধ’, বিহার নির্বাচনে দলের পরাজয়ে ভাই তেজস্বীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাই এক সময় যাঁকে ধন্য-ধন্য করেছে গোটা যাদব পরিবার, সেই রোহিণী নাকি ইচ্ছে করেই প্রিয়পাত্রী হতে নিজের ‘বাজে কিডনি’ বাবাকে দিয়ে লালু প্রসাদ যাদবকে সুস্থ করে তুলেছেন— অভিযোগ তেজস্বীর। পারিবারিক বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান রোহিণী। তেজস্বীর ভূমিকাকে যাদব পরিবারের অন্য সদস্যরা নীরবে সমর্থন করলেও, ব্যতিক্রম ত্যাজ্যপুত্র তেজপ্রতাপ। রোহিণীর পাশে দাঁড়িয়ে তেজস্বীকে সতর্ক করে বলেছেন, আরজেডি এ বার ২৫টি আসন পেলেও, ‘যে ভাবে মা লক্ষ্মীর অপমান হল, আগামী নির্বাচনে পাঁচটি আসনও পাবে না’। সব মিলিয়ে নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ে আড়াআড়ি ভাবে বিভাজিত যাদব পরিবার।
সুখস্মৃতি: বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে লালু-কন্যা রোহিণী —ফাইল চিত্র।
‘চর্চে পে চায়ে’?
লাল কেল্লার নাশকতা নিয়ে তদন্তের মধ্যেই গত শুক্রবার রাতে জম্মু-কাশ্মীরের নওগাম থানা কেঁপে ওঠে বিস্ফোরণে। অবস্থান স্পষ্ট করতে তড়িঘড়ি পরের দিন সাতসকালে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নামেই সাংবাদিক সম্মেলন। আসলে বিবৃতি পাঠ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জম্মু-কাশ্মীর ডিভিশনের যুগ্ম সচিব প্রশান্ত লোখণ্ডে বিবৃতি পাঠ শুরুর পরেই চা দিতে ঢোকেন এক কর্মী। প্রশান্তের সামনে চা রাখবেন কি না, দোনামোনা করতে থাকেন। ক্যামেরায় চলে আসায় তাঁকে প্রশান্তের পিছন থেকে সরে যেতে বলেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। তাল কেটে যায় প্রশান্তের। থমকে যান। হাত দিয়ে কর্মীকে সরে যেতে একাধিক বার নির্দেশ দিতে দেখা যায় তাঁকে। গোটাটিই সম্প্রচারিত হতে থাকে সংবাদমাধ্যমে। বিবৃতি পাঠ শেষে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর অফিসারদের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রশান্ত। কার নির্দেশে চা দিতে এসেছিলেন, জানতে ডাকা হয় ক্যান্টিন ম্যানেজারকে। চাকরি প্রায় যায়-যায় কর্মী বেচারার। কোনও ভাবে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ঠান্ডা করা হয় কর্তাকে।
শুভেচ্ছায় কাঁটা
কিরেন রিজিজুকে দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি সদ্য ৫৪-তে পা দিলেন। নিয়মিত ব্যাডমিন্টন আর ক্রিকেট খেলেন, জিম করেন। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে তাঁর বড় দায়িত্ব ছিল সংসদে ওয়াকফ বিল পাশ করানো। বছরের শেষে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে তাঁর ব্যস্ততা বাড়বে। বিরোধীদের সঙ্গে খটাখটিও। ৫৪-তে পা দেওয়া রিজিজুকে অবশ্য শাসক ও বিরোধী, উভয় পক্ষই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কংগ্রেসের নেতা মাণিকম টেগোরের মতো অনেকে আবার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে রিজিজুকে কটাক্ষ করে বলেছেন, সংসদের আসন্ন অধিবেশনে স্বাগত জানানোর মতো পরিবর্তন আসুক। শুধু তাড়াহুড়ো করে সরকারি বিল পাশ করানো নয়, বিরোধী শিবির ও বিরোধী দলনেতাদের মানুষের সমস্যা তুলতে দেওয়া হোক।
রাজনীতি ও গান
গত বছর হেমন্ত সোরেন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে যাওয়ায় আচমকাই রাজনীতিতে নামতে হয়েছিল তাঁর স্ত্রী কল্পনা মুর্মু সোরেনকে। উপনির্বাচনে ভোটে লড়ে বিধায়ক হন। হেমন্ত যত দিন জেলে ছিলেন, তত দিন কল্পনাই কার্যত ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন— প্রশংসাও পেয়েছেন বিস্তর। কল্পনা সোরেন এ বার নতুন ভূমিকায়। ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের ২৫ বছর পূর্তি বা রজত পর্ব অনুষ্ঠানে কল্পনা মঞ্চে উঠে গান গাইলেন বলিউডের প্রখ্যাত গায়িকা শিল্পা রাওয়ের সঙ্গে। শিল্পা ঝাড়খণ্ডেরই ভূমিকন্যা। তাঁর সঙ্গে গলা মিলিয়ে রাজ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছেন শিবু সোরেনের পুত্রবধূ। ইলেকট্রিক্যাল এঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রিধারী কল্পনা রাজনীতিতে নামার আগে বাড়িতে বসে দূরশিক্ষা মাধ্যমে লেখাপড়া করে এমবিএ-ও পাশ করে ফেলেছিলেন।
নৈপুণ্য: শিল্পা রাওয়ের পাশে কল্পনা।
দৃষ্টান্ত স্থাপক
গান্ধীগিরিতে মন জয় করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে জন আন্দোলনের রূপ দিতে উদ্যোগী হওয়ার জন্য। অশ্বিনী হাতেকলমে তা করে দেখালেন। পাঁচতারা হোটেলের অনুষ্ঠান সেরে বেরোনোর সময় তাঁর নজরে আসে একটি কাগজ দলাপাকানো অবস্থায় সিঁড়িতে পড়ে রয়েছে। কয়েক ধাপ উঠে নিজে ঝুঁকে সেটা হাতে নিয়ে সাফাই কর্মীর ঝুলিতে ফেলে দেন। জনতা চমৎকৃত।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)