আমেরিকাকে তেল দিয়ে সাহায্য করলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির তৈলভান্ডারেও হামলা চালানো হবে। মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে সেগুলি। খার্গ দ্বীপে শনিবার আমেরিকা মুহুর্মুহু হামলা চালানোর পরই পাল্টা হুঙ্কার দিল ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া-র সদর দফতরের এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁদের দেশের তৈলভান্ডারগুলিকে যদি নিশানা করা হয়, তা হলে তাঁরাও সেই পথে হাঁটবেন। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকাকে সাহায্যকারী দেশগুলির তৈলভান্ডারেও হামলা চালানো হবে। প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় বেশ কিছু তৈলভান্ডার রয়েছে যেগুলি আমেরিকার মালিকানাধীন। আবার এমন কিছু তৈলভান্ডার রয়েছে যেগুলি আমেরিকা যৌথ ভাবে পরিচালনা করে। এই তৈলভান্ডারগুলিকেই এ বার মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
শনিবার সকালে ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, খার্গ দ্বীপে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওই হামলাকে পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে জোরালো হামলা বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি এখনও হরমুজ় প্রণালীকে অবরুদ্ধ করে রাখে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তা হলে অনেক কিছুর বিনিময়ে এর খেসারত দিতে হবে তেহরানকে। তাদের তৈলভান্ডারগুলিকে নিশানা করা হবে।
আরও পড়ুন:
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ়-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খার্গ দ্বীপে ১৫টি বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে মার্কিন হামলায় কোনও তৈলভান্ডারের ক্ষতি হয়নি। সেনাঘাঁটি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে। নিশানা করা হয়েছে জোশেন সমুদ্রবন্দরকেও। এখানে হেলিকপ্টার এবং বিমান রাখার জায়গা (হ্যাঙ্গার) রয়েছে, সেগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প নিজে খার্গ দ্বীপে হামলার ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, ‘‘জোরদার হামলা চালিয়েছে আমাদের সেনা।’’
ইরানের উপকূল থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই দ্বীপটি। হরমুজ় প্রণালী থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয় এই খার্গ দ্বীপ থেকে। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল পৌঁছোতে ইরানের এই দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১৯:৫০
‘ইরানের বন্দরগুলিতে অবরোধ জারি রাখলে যুদ্ধবিরতির পথ কঠিন হবে’, ট্রাম্পকে বার্তা পাক সেনা সর্বাধিনায়কের -
ওমান প্রান্ত দিয়ে জাহাজ গেলেই তো মিটে যায় সমস্যা! তবু কোন সূত্রে হরমুজ়ে ‘অ্যাডভান্টেজ’ পায় ইরান? কোথায় আতঙ্ক?
-
চালাকির চেষ্টা করলেই ঝাঁপাব পুরো শক্তি দিয়ে, আমরা তৈরি! দ্বিতীয় বৈঠকের দিনক্ষণ নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই তোপ ইরানের
-
‘আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে’, আবার হরমুজ় অবরোধের ঘোষণা ইরানের! নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা
-
ট্রাম্পের ‘ঘাড়ে বন্দুক রেখে’ শত্রুদের খতম! পারস্যে শান্তি এলে আমেরিকার ‘বিশ্বাস’ ভাঙবেন ইহুদি প্রধানমন্ত্রী?