Advertisement
E-Paper

রবিবারই চুক্তি? ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে ইরানের রাস্তায় বিক্ষোভ, জমায়েত! কী করবে তেহরান?

শনিবার ট্রাম্পের ঘোষণার আগে চুক্তি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমায়েলি বাঘেই। জানিয়েছিলেন, চুক্তি রবিবার হচ্ছে না। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা হতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৮:১০
ইরানের রাস্তায় মার্কিন ও ইজ়রায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ।

ইরানের রাস্তায় মার্কিন ও ইজ়রায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা করে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে রবিবার। দুই দেশের সংঘাতের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফও সেই ঘোষণায় সায় দিয়েছেন। কিন্তু ইরান থেকে এখনও কোনও নিশ্চয়তা আসেনি। আনুষ্ঠানিক ভাবে রবিবার চুক্তি স্বাক্ষরের কোনও ঘোষণা করেনি তেহরান। বরং, ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সেখানে বিক্ষোভ চলছে। অনেকেই পথে নেমেছেন।

শনিবার ট্রাম্পের ঘোষণার আগে চুক্তি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমায়েলি বাঘেই। জানিয়েছিলেন, চুক্তি রবিবার হচ্ছে না। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা হতে পারে। এর পর ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে রবিবার চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ঘোষণা করেন। জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে সকলের জন্য খুলে যাবে হরমুজ় প্রণালী। আর সেখানে কোনও বাধা থাকবে না। ঘটনাচক্রে, রবিবার ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন। ইরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করে সেই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু আমেরিকার ঘোষণার পর শনিবার সমাজমাধ্যমে ইরানের বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, সে দেশের রাস্তায় জড়ো হয়েছেন আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার বিরোধীরা। তেহরানে বিদেশ মন্ত্রকের দফতরের সামনে জমায়েত করে তাঁরা বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বিরুদ্ধে স্লোগানও দিয়েছেন। সমঝোতার রাস্তায় হাঁটার জন্য তাঁকেই দায়ী করছেন বিক্ষুব্ধরা। স্লোগানে বলা হয়েছে, ‘‘আরাঘচি, এ বার লজ্জা করো। আমেরিকাকে ছেড়ে দাও।’’ এই ছবি বা ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানে বিক্ষুব্ধদের অনেকের হাতেই পূর্বতন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এখনও তাঁর শেষকৃত্য করা যায়নি। ১৪ জুলাই সেই শেষকৃত্য হবে বলে ঘোষণা করেছে তেহরান। অনেকের মতে, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের সাধারণ মানুষের উপর রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর প্রভাব এবং সমর্থন বেড়েছে। জনগণের একটা বড় অংশ একজোট হয়েছে। তাঁরাই সমঝোতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তবে আমেরিকার হামলায় গত কয়েক মাসে ইরানের সামরিক ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। সমঝোতার ক্ষেত্রে সে দিকটিও মাথায় রাখতে হচ্ছে আরাঘচিদের।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
Tehran US Iran Conflict Donald Trump Mojtaba Khamenei Abbas Araghchi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy