E-Paper

‘হোল্ডিং’ ও জনগণনা নিয়ে বৈঠক নবান্নের

সবক’টি জেলার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার অগ্রগতি তুলনায় বেশি। বিশেষ করে বসিরহাটে প্রায় দেড় হাজার এমন মানুষকে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে সেখানকার ‘হোল্ডিং সেন্টারে’।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৮:৫৮
গ্রাফিক আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক আনন্দবাজার ডট কম।

‘অনুপ্রবেশকারীদের’ রাখার ‘হোল্ডিং সেন্টার’ এবং জনগণনার কাজে গতি আনতে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দিল নবান্ন। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এ নিয়ে জেলা-কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন
বলে খবর।

‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ চিহ্নিত করার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই মতো ইতিমধ্যে জেলাগুলিতে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরিও হয়েছে। তবে সে কাজ এখনও যথেষ্ট গতি পায়নি বলেই মনে করছে প্রশাসনের শীর্ষ মহল। তাই প্রত্যেক জেলার (বিশেষ করে সীমান্তবর্তী) অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়েছে এ দিন।

সূত্রের দাবি, সবক’টি জেলার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার অগ্রগতি তুলনায় বেশি। বিশেষ করে বসিরহাটে প্রায় দেড় হাজার এমন মানুষকে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে সেখানকার ‘হোল্ডিং সেন্টারে’। ‘অনুপ্রবেশকারী’ খুঁজে বের করার কাজ আরও নিবিড় ভাবে করার উপর জোর দিয়েছে নবান্ন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধি অনুযায়ী, জেলাস্তরে পুলিশ সুপার বা পুলিশের ডেপুটি কমিশনারেরা ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এফআরও) হিসেবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, বৈধ পাসপোর্ট, ভ্রমণের বিধিবদ্ধ যে কোনও নথি ছাড়া যাঁরা এ দেশে রয়েছেন, অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ধরা হবে তাঁদের। আবার বৈধ পাসপোর্ট-নথি থাকলেও, যাঁদের এ দেশের থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, আটক হওয়ার কথা তাঁদেরও।
এসআইআরের সময়ে বৈদেশিক আঞ্চলিক পঞ্জিকরণ শাখা (এফআরআরও) বেশ কয়েক হাজার এমন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে, যাঁদের এদেশের ভোটার কার্ড, বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে এবং তাঁরা প্রথাগত পথে এ দেশে
এসেছিলেন। তবে প্রশাসনের সন্দেহ এসআইআরে বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে একাংশ থাকতে পারেন, যাঁরা অবৈধ ভাবে এ দেশে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। সেই বৃত্তের মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের
করার কাজে গতি আনতে বলা হচ্ছে বলে খবর।

প্রশাসনের একটি অংশের ধারণা, কমবেশি ১০ লক্ষ মানুষ এই বৃত্তের আওতায় থাকতে পারেন। যদিও প্রশাসনের অপর একটি অংশের মতে, সংখ্যা নয়, বরং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বার করাই মূল লক্ষ্য।

পাশাপাশি, জনগণনার কাজে প্রত্যেক জেলাকর্তাকে বলে দেওয়া হয়েছে, একমাত্র সিনিয়র অফিসারদের দিয়েই সমীক্ষক দল গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে লোকবল বাড়াতে হবে জেলাকর্তাদের। জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনারও প্রত্যেক জেলায় গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন নিয়মিত। প্রসঙ্গত, জনগণনার কাজের উপর নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের পুরো বিষয়টি।
জনগণনার পরে জনসংখ্যার যে বিন্যাস ধরা পড়বে, সেই অনুযায়ী কেন্দ্রের প্রকল্প এবং বরাদ্দ নির্দিষ্ট হবে প্রত্যেক রাজ্যের জন্য। প্রসঙ্গত, গত ১১ মে রাজ্য মন্ত্রিসভা এ রাজ্যে জনগণনা শুরুর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। স্ব-গণনা (সেলফ এনুমারেশন) এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার কাজ শুরু হতে চলেছে অগস্ট থেকে। আগামী বছর ১ মার্চের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া
সম্পূর্ণ হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nabanna Holding Centre

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy