জম্মু-কাশ্মীর থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক দিনে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। সেখানে বিভিন্ন সংগঠনের মঞ্চ, জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি এই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি করে আসছে। কারণ তাদের অভিযোগ, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সেখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে হাতিয়ার করছে।
১৯৪৭ এবং তার পর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে বহু মানুষ পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মানুষদের পাকিস্তানে উদ্বাস্তু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই উদ্বাস্তুদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি আসন কাশ্মীর উপত্যকা এবং ৬টি আসন জম্মু থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত। উদ্বাস্তুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে— বিশেষ করে পঞ্জাব প্রদেশে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই সংরক্ষিত আসনগুলির নির্বাচন পিওকে-র বাইরে হয়ে থাকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে আসনগুলির যোগসূত্র রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উদ্বাস্তু প্রতিনিধিদের দেখিয়ে ইসলামাবাদ বলতে চায়, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি।
তবে অনেকেই মনে করেন, এই উদ্বাস্তু আসনগুলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। আসনগুলিতে, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলিতে ভোটারের সংখ্যা খুব কম। ভোট পড়েও খুব কম সংখ্যায়। তবে আসনগুলি থেকে জিতে আসা ১২ জন প্রতিনিধি পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় নির্বাচিত অন্য প্রতিনিধিদের মতোই ক্ষমতা পান। সেখানে সরকার গড়া বা সরকারের পতনে ভূমিকা নেন এঁরা। অভিযোগ, এই প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসলামাবাদ।
কয়েক জন জনপ্রতিনিধির পরিচয় নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই বছরের শুরুতেই উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত কেন্দ্রের এক জন জনপ্রতিনিধির পরিচয়পত্র বাতিল করে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। ভোট দিতে এবং নির্বাচনে লড়তে এই পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যায় পাকিস্তান। এখন যা নিয়ে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)