Advertisement
E-Paper

হরমুজ় খুলবে, কিন্তু জলের নীচে পেতে রাখা ‘মাইন’ সরাবে কে? চুক্তির পরেও কত দিন লাগতে পারে পরিবহণ স্বাভাবিক হতে?

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের আগ্রাসনের পরেই হরমুজ়ে নৌপরিবহণে বাধা দিয়েছিল ইরান। সেখান দিয়ে যাতে কোনও জাহাজ যেতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতে সঙ্কীর্ণ জলপথ জুড়ে পেতে রাখা হয়েছিল মাইন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১০:০০
হরমুজ় প্রণালী জুড়ে ছড়িয়ে আছে ইরানের পাতা মাইন।

হরমুজ় প্রণালী জুড়ে ছড়িয়ে আছে ইরানের পাতা মাইন। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, রবিবার ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই সকলের জন্য সম্পূর্ণ খুলে যাবে হরমুজ় প্রণালী। কিন্তু বাস্তবে হরমুজ়ে যে ‘কাঁটা’ বিঁধে আছে, চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে তা উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। বরং তা সময়সাপেক্ষ।

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের আগ্রাসনের পরেই হরমুজ়ে নৌপরিবহণে বাধা দিয়েছিল ইরান। সেখান দিয়ে যাতে কোনও জাহাজ যেতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতে সঙ্কীর্ণ জলপথ জুড়ে পেতে রাখা হয়েছিল মাইন বা বোমা। এখনও সেগুলি সরানো যায়নি। নির্দিষ্ট একটি পথে কিছু জাহাজ চলাচল করছে বটে, কিন্তু সমগ্র হরমুজ় পণ্যবাহী জাহাজ পরিবহণের জন্য এখনও নিরাপদ নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ় আমেরিকান আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হরমুজ় থেকে মাইন সরানোর কাজ পরে করা হবে। আপাতত ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করে জলপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

ট্রাম্প ঘোষণা করে দিলেও রবিবারের চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও নিশ্চয়তা এখনও দেয়নি ইরান। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার চুক্তি হচ্ছে না। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা হতে পারে। অন্য দিকে, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার বিরুদ্ধে ইরানের রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের দফতরের সামনে চলছে জমায়েত। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন রিপোর্টে দাবি, প্রাথমিক চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে কেবলই হরমুজ়কে রাখা হয়েছে। উভয়পক্ষের বাকি শর্তগুলি নিয়ে পরে আলোচনা হবে। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, হরমুজ় থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেবে ইরান। তার পরিবর্তে আমেরিকাও ইরানের বিরুদ্ধে জলপথের অবরোধ তুলে নেবে। এক মার্কিন আধিকারিকের কথায়, ‘‘এই দু’টি একসঙ্গে ঘটবে। পরবর্তী ধাপে প্রণালী থেকে মাইন সরানোর কাজ শুরু হবে।’’

রাতারাতি চুক্তি স্বাক্ষর করা গেলেও হরমুজ়ের নীচ থেকে মাইন দ্রুত সরানো সম্ভব নয়। সাধারণ জমির উপর পাতা মাইন সহজে চিহ্নিত করা যায়। তাই তা সরিয়ে ফেলাও তুলনামূলক সহজ। কিন্তু জলের মধ্যে মাইন চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে আধিকারিকদের। আমেরিকা অনেক দিন ধরেই সেই চেষ্টায় লেগে আছে। অভিযোগ, ইরান যে মাইনগুলি পেতেছে, জলে ছেড়ে দেওয়ার পর আর তা ‘ট্র্যাক’ করা হয়নি। ফলে স্রোতের সঙ্গে সেগুলি বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সাবধানে পা ফেলতে হচ্ছে মার্কিন বাহিনীকে।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
৫৭ মিনিট আগে
Strait of Hormuz US Iran Conflict Donald Trump Tehran
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy