E-Paper

দুনিয়া ডায়েরি: মাঠে ফুটবল, কিন্তু পরিবেশের নাভিশ্বাস

ইংল্যান্ড ও তাদের সমর্থকদের দীর্ঘতম দূরত্ব যাতায়াত করতে হবে: তিনটে গ্রুপ ম্যাচ মিলিয়ে ১,৭২১ মাইল! বিজ্ঞানীরা বলছেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে ফিফা তত সক্রিয় নয়, বিশ্বকাপের জন্য তাদের নির্দিষ্ট কার্বন-লক্ষ্যমাত্রা নেই।

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১০:০২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে পরিবেশগত ক্ষতি হবে আগের বিশ্বকাপের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি— জানা গেল। এক সংস্থার তথ্য, নির্গত হবে প্রায় ৭.৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাইঅক্সাইড— প্রায় ১৭ লক্ষ গাড়ির এক বছরের মোট দূষণের সমান। টুর্নামেন্টের মোট নির্গমনের প্রায় ৮৭%-ই নাকি আসবে যাতায়াত, বিশেষত বিমান ভ্রমণ থেকে। কাতার বিশ্বকাপে নতুন স্টেডিয়াম তৈরি নিয়ে কথা উঠেছিল। এ বার নতুন স্টেডিয়াম হয়নি, কিন্তু বেড়েছে দল, দূরে দূরে খেলা। ইংল্যান্ড ও তাদের সমর্থকদের দীর্ঘতম দূরত্ব যাতায়াত করতে হবে: তিনটে গ্রুপ ম্যাচ মিলিয়ে ১,৭২১ মাইল! বিজ্ঞানীরা বলছেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে ফিফা তত সক্রিয় নয়, বিশ্বকাপের জন্য তাদের নির্দিষ্ট কার্বন-লক্ষ্যমাত্রা নেই। আর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট নিয়ে তো কথাই হয় না: সম্প্রচার, স্ট্রিমিং, ডেটা ফিড, বেটিং প্ল্যাটফর্ম— সবেতেই প্রয়োজন বিপুল শক্তির; ডেটা সেন্টার, স্যাটেলাইট, কোটি কোটি দর্শকের বৈদ্যুতিন যন্ত্রাদি যে ব্যবস্থার অংশ। মিলিত প্রভাব বিরাট— যে যেখানে বসে যে ভাবেই খেলা দেখছেন, আসলে চাপ বাড়াচ্ছেন পরিবেশের উপর!

অভিঘাত: বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনায় ক্ষতির মুখে আন্তর্জাতিক পরিবেশ?

অভিঘাত: বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনায় ক্ষতির মুখে আন্তর্জাতিক পরিবেশ?

বন্ধ সেতু

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ঘোষণা সত্ত্বেও, আপাতত চালু হচ্ছে না নর্বনিমিত গর্ডন হউই আন্তর্জাতিক সেতু। সেতুটি আমেরিকার ডেট্রয়েট, মিশিগানকে কানাডার উইন্ডসর, অন্টারিয়োর সঙ্গে যুক্ত করছে। উপকৃত হবেন দু’তরফেরই মানুষ— দাবি কার্নির। যদিও সেতু খোলায় সায় ছিল না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নির্মাণের ক্ষেত্রেও দু’তরফের অবদান রয়েছে— স্বীকার করতে চাননি তিনি। ঐতিহ্যগত ভাবে কানাডা এবং আমেরিকার মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও, ট্রাম্পের দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর বাণিজ্য শুল্ক থেকে শুরু করে হরেক ক্ষেত্রে উত্তেজনা বেড়েছে দুই দেশের মধ্যে। ফলে, এ ক্ষেত্রেও ট্রাম্প কলকাঠি নাড়লেন কি না, প্রশ্ন উঠছে।

ক্ষুব্ধ জনতা

কেনিয়ার নানইউকি উত্তাল গণ-আন্দোলনে। এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে একাধিক ব্যক্তির। সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের কারণ এখানকার এক বিমানঘাঁটিতে আমেরিকার ইবোলা ভাইরাসের ‘কোয়ারান্টাইন সেন্টার’ নির্মাণের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আমেরিকা ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের শিকার ব্যক্তিদের সেবা-শুশ্রূষার ঝুঁকি তাঁদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। ওই অঞ্চলগুলোতে এখনও ৫০০-এর বেশি নিশ্চিত আক্রান্ত এবং ১০০ জনের নিশ্চিত মৃত্যুর খবর মিলেছে। আন্দোলনকারীদের আরও রাগ প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর উপরেও, যিনি আমেরিকাকে তাঁর দেশে সেন্টার গড়ায় সায় দিয়েছেন। সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সেখানকার উচ্চ আদালত রায় দিলেও, এখনও সিন্ধান্তে অনড় সে দেশের সরকার।

বোম ফেলেছে জাপানি

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন বোমাকে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আশি বছর আগে মাটিতে পড়ে না ফাটলেও, বোমাটি সরানো নিরাপদ ছিল না, প্রাপ্তিস্থলেই নিয়ন্ত্রিত ভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, বিমানবন্দরে ব্যাঘাতও ঘটেনি। তবে, বোমাটি মনে করাল, সাম্রাজ্যবাদীদের তেষ্টা মেটাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কী ভাবে জড়িয়ে পড়েছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। কলকাতা, খড়্গপুর, ইম্ফল, কোহিমা, সিঙ্গাপুর রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। ব্রিটিশদের সাধের ‘পূর্বের জিব্রাল্টর’ অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি সিঙ্গাপুর রক্ষায় যোগ দিতে হয়েছিল ভারতীয়দেরও। সিঙ্গাপুরকে জাপানের কব্জা থেকে মুক্ত করতে বিমান উড়েছিল খড়্গপুর সংলগ্ন বিমানঘাঁটি থেকে। আমেরিকার বোমারু বিমান নিশানা করেছিল সিঙ্গাপুরের জাপানি নৌঘাঁটি, তেলভান্ডার। ধ্বংসস্তূপের নীচে তেমনই একটি বোমা জানাল, এতগুলি দশকেও মিলিয়ে যায়নি বিশ্বযুদ্ধের ছায়া।

আতঙ্ক: বিশ্বযুদ্ধকালীন বোমা

আতঙ্ক: বিশ্বযুদ্ধকালীন বোমা

সবেধন ‘চিন-মণি’

২০০২-এ প্রথম এবং শেষ বার ফুটবল বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছিল চিন, যদিও পয়েন্ট পায়নি। এ বারও যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ চিনাদের টুর্নামেন্টে একমাত্র প্রতিনিধি রেফারি মা নিং। কড়া রেফারি; একটি খেলায় নয়টি হলুদ কার্ড, তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে পেয়েছেন ‘কার্ডমাস্টার’ উপাধি। তাঁকে নিয়েই মিম-প্রচারে মেতেছে চিনা সমাজমাধ্যম, ভিড় করেছে বিজ্ঞাপনদাতারা। মা নিং এখন চিনের জাতীয় নায়ক। অনেকে বলছেন এক ব্যক্তির এ-হেন সাফল্য আসলে চিনের ফুটবলের দুরবস্থারই প্রতীক। বিপুল জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি সত্ত্বেও দুর্নীতি, আর্থিক সঙ্কট এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে রাহুগ্রস্ত চৈনিক ফুটবল। গন্ধটা চেনা ঠেকছে?

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pollution Carbon dioxide

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy