Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু

আবীর মুখোপাধ্যায়ের লেখাটিতে (‘ঋত্বিক একটি নদীর নাম’, পত্রিকা, ১১-৬) বড় বেশি মদের গন্ধ। ঋত্বিক ঘটকের আত্মঘাতী সুরাসক্তি তাঁর গুণমুগ্ধ হিতৈষীরা অনেকেই পছন্দ করতেন না। ১৯৭২-৭৩ সালের কথা। অ্যাকাডেমি মঞ্চে বহুরূপীর দুটো নাটক দেখে সাজঘরে এলেন ঋত্বিক।

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০১৬ ০০:০০

ঋত্বিকের শৃঙ্খলাহীনতা ও তার ‘যুক্তি’

আবীর মুখোপাধ্যায়ের লেখাটিতে (‘ঋত্বিক একটি নদীর নাম’, পত্রিকা, ১১-৬) বড় বেশি মদের গন্ধ। ঋত্বিক ঘটকের আত্মঘাতী সুরাসক্তি তাঁর গুণমুগ্ধ হিতৈষীরা অনেকেই পছন্দ করতেন না। ১৯৭২-৭৩ সালের কথা। অ্যাকাডেমি মঞ্চে বহুরূপীর দুটো নাটক দেখে সাজঘরে এলেন ঋত্বিক। কুমার রায় ও শম্ভু মিত্রের সঙ্গে নাটক নিয়ে নানা আলোচনা হল। অনেক কথার মধ্যে শিল্পীর জীবন নিয়ে শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাহীন জীবন নিয়ে কথা উঠতেই শম্ভু মিত্র বেশ তিরস্কারের ভঙ্গিতেই ঋত্বিককে বলেছিলেন, ‘ভুলে যাচ্ছ কেন, আমাদের সামনে রবীন্দ্রনাথ আছেন।’ কুমার রায় বলেছেন, কথাটা সে দিন তিনি মেনে নিয়েছিলেন। অথচ কোনও দিনই ঋত্বিক জীবনচর্যাকে সুশৃঙ্খল করে তুলতে পারেননি। সুতরাং যাঁরা বলেন, ঋত্বিকের প্রবল সুরাসক্তির পিছনে আছে সমকালের প্রতি আক্রোশ, দেশবিভাগের যন্ত্রণা ও নানামুখী হতাশা, তাঁরা এক জন বড় শিল্পীর আত্মসংযমের কথাটা মনে রাখেন না। সত্যজিৎ রায়ের জীবনে সংকট, হতাশা কিছু কম ছিল না। অর্থাভাবে একটা সময়ে তিনি তাঁর সংগ্রহের মূল্যবান আর্টের বইও বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর জীবনে কোনও বিশৃঙ্খলা ছিল না।

এই কোলাজধর্মী লেখার সব সেরা তারিফ করার মতো অংশ ঋত্বিক-সুরমার পূর্বরাগ ও দাম্পত্যজীবনের টানাপড়েন। আর সবচেয়ে ক্ষোভের বিষয় ঋত্বিক ঘটকের নাটক নিয়ে কিছু না-বলা, যে নাটক ও নাট্য ছিল তাঁর প্রথম প্রেম। চলচ্চিত্রের এক জন সফল অথচ বিতর্কিত মানুষ হিসেবে তিনি যতটা খ্যাতিমান, স্বাভাবিক কারণে নাটককার হিসেবে ততটা নন। যদিও যে বক্তব্য তাঁর বেশির ভাগ ছবিকে আলোড়িত করেছে তার বীজ ছিল তাঁর নাটকে।

Advertisement

পাঁচটি মৌলিক নাটক লিখেছেন ঋত্বিক ঘটক। ‘জ্বালা’, যে নাটকে ছেঁড়া কাঁথা পরে পাগলের ভূমিকায় ঋত্বিকের অভিনয়ের কথা বলা হয়েছে নিবন্ধে। নাটকের বাকি পাঁচটি চরিত্র জীবন থেকে নেওয়া, যাঁরা আত্মহত্যা করেছিলেন। পরের নাটকগুলি ‘দলিল’, ‘সাঁকো’, ‘সেই মেয়ে’ এবং ‘জ্বলন্ত’। দুটি নাটক অনুবাদ করেছেন: ব্রেখটের ‘গ্যালিলিও চরিত’ ও ‘খড়ির গণ্ডি’। দলিল-এর রচনাকাল ১৯৫২। বিষয় দেশভাগ। এর দু’বছর পরে দাঙ্গা ও দেশভাগ নিয়ে লিখলেন সাঁকো। ১৯৫৩ সালে গণনাট্য সঙ্ঘের সর্বভারতীয় বম্বে সম্মেলনে দলিল প্রথম পুরস্কার পায়। সঙ্ঘ ছেড়ে গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগে পৃথক দল করলেন: গ্রুপ থিয়েটার। ১৯৫৫ সালে এই গোষ্ঠী প্রযোজনা করে সাঁকো।

থিয়েটারে ঋত্বিকের আগ্রহ আশৈশব। কলকাতার পদ্মপুকুর ইনস্টিটিউশনে পড়ার সময় ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকে চাণক্য করেন। কলেজে পড়ার সময় বন্ধু কুমার রায়ের সঙ্গে করেছেন ‘ফাল্গুনী’ ও ‘রাজা’। রাজশাহী পাবলিক লাইব্রেরিতে নাটক করতেন। ‘অচলায়তন’, ‘ডাকঘর’ ও ‘বিসর্জন’ নাটকে অভিনয় করেছেন। ঘোড়ামারা নাট্য সমাজে ‘পরিত্রাণ’ নাটকে ধনঞ্জয় বৈরাগীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। ভারতীয় গণনাট্য সংঘ প্রযোজিত ‘বিসর্জন’ নাটকে রঘুপতি করেন। নির্দেশনা তাঁর না উৎপল দত্তের, এ নিয়ে মতান্তর আছে। গণনাট্য সংঘ থেকে বেরিয়ে এসে শম্ভু মিত্র যখন ‘নবান্ন’ করেন তখন ঋত্বিক তাতে রাজীব চরিত্রে অভিনয় করেন। পরের বছর নাট্যচক্র নাট্যদল প্রযোজিত ও বিজন ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘নীলদর্পণ’-এ চাষির ভূমিকায় অভিনয় করেন।

বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়। হুগলি

জানতে চাইও না

রমা রায় (‘কেন জানব না’, সম্পাদক সমীপেষু, ৩১-৫) লিখেছেন, ‘... বাঙালি হিন্দুরা বাঙালি মুসলমানদের খুব কম জানে। অন্য দিকে, বাঙালি মুসলমান সমাজ হিন্দু ধর্ম, দর্শন, রীতিনীতি সম্বন্ধে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। কেন এটা হয়েছে আমি ঠিক বুঝতে পারি না’।

বাঙালি মুসলমানরা অতীতে হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছেন। দেশভাগের পরবর্তী কালেও পূর্ববঙ্গ কিংবা বর্তমান বাংলাদেশের অনেক হিন্দু নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে মুসলমান হতে বাধ্য হয়েছেন। কাজেই বাঙালি মুসলমানের অধিকাংশই স্বাভাবিক কারণে হিন্দু ধর্ম, দর্শন ও রীতিনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। ভিন্‌রাজ্যের, যেমন উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের মুসলমানরা হিন্দু রীতিনীতি সম্পর্কে বিশেষ ওয়াকিবহাল নন। হয়তো সে কারণেই তাঁরা বাঙালি মুসলমানদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে সচরাচর আগ্রহী হন না।

তবে এ কথাও ঠিক, বাঙালি হিন্দুরা দীর্ঘ দিন ধরে একই সমাজে বাস করা সত্ত্বেও সাধারণত বাঙালি মুসলমানদের সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখাননি। এখনও সেই অনাগ্রহই রয়ে গেছে। কিন্তু সমাজের অগ্রগতির স্বার্থেই পরস্পরের চেনা-জানা জরুরি।

তপনকুমার রায়। দুর্গাপুর-১

জীবন আগে

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়ের লেখাটি (‘যেতে পারি তাই যাব’, রবিবাসরীয়, ৫-৬) প্রসঙ্গে দু’একটি কথা।

অনেক দিন আগে, আশির দশকের শুরুতে কলকাতার হিমালয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে পর পর তিন বছর শুশুনিয়া ও জয়চণ্ডী পাহাড়ে রক ক্লাইম্বিং কোর্স করার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তখন কিছু নামী পর্বতারোহীর সংস্পর্শেও এসেছিলাম। যেমন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদ্যুৎ সরকার (ছোড়দা), বনভূষণ নায়েক, গৌতম দত্ত প্রমুখ। তাঁদের দু’একটি কথা এখনও মনে আছে। যেমন, বিদ্যুৎ সরকার এক দিন কোর্স চলাকালীন বলেছিলেন, ‘তুমি যদি মনে কর ওখানে পৌঁছনো অসম্ভব, তবে নেমে এস। কেউ মাথার দিব্যি দেয়নি যে ওখানে যেতেই হবে’।

বনভূষণ নায়েক রক থেকে নেমে আসা শেখাচ্ছিলেন। এক জন বলল, ‘আমার ক্যারাবিনার (যার ভিতর দিয়ে রোপ যাতায়াত করে) তো উপরে থেকে গেল!’ নায়েকদার জবাব: ‘তোমার জীবনের চেয়ে কি একটি ক্যারাবিনার দাম বেশি হল?’

রাণাজী বসু। নিউ বারাকপুর

এক নম্বরে অসমিয়া

স্বপ্নময় চক্রবর্তী (‘টাকা মাখি, মাখি টাকা’, রবিবাসরীয়, ১২-৬) লিখেছেন, পাঁচশো টাকার নোটে যে পনেরোটি ভাষায় নোটের মূল্য লেখা আছে তার মধ্যে ‘বাংলা’ এক্কেবারে এক নম্বরে। এটা ঠিক নয়।

অসমিয়া ভাষায় লেখা আছে এক নম্বরে, দ্বিতীয় স্থানে বাংলা।

হিমাদ্রি মুখোপাধ্যায়। কলকাতা-১৯

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy