Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু

অল্প বয়সে, বলা যায়, ফ্রক ছেড়ে শাড়ি পরার আগেই যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছি যাত্রী সংখ্যার নিরিখে। তবে তনুমন আমার অসংবৃত, আলুলায়িত।

শেষ আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৭ ০০:১০

নাম থেকে হল্ট সরান

ষোড়শ শতকে সৃষ্ট আমার বিরহ-বেদনার উপাখ্যান আজও অমলিন বাংলা ও বাঙালির ঘরে ঘরে। আমি ছিলাম নদিয়ার জনম-দুখিনী, গৌরাঙ্গ-ঘরনি ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’। একবিংশ শতকে আবার এসেছি ফিরে। নবজন্ম লাভ করেছি ‘ব্যান্ডেল-কাটোয়া’ শাখার রেল মানচিত্রে। এলাকার গুণমুগ্ধ মানুষ এবং ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ আমার নামকরণ করেছেন ‘বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট’।

অল্প বয়সে, বলা যায়, ফ্রক ছেড়ে শাড়ি পরার আগেই যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছি যাত্রী সংখ্যার নিরিখে। তবে তনুমন আমার অসংবৃত, আলুলায়িত। পর্যাপ্ত ছাউনির অভাবে রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে যাত্রীদের যন্ত্রণা দেখে, নীরব অভিমানে মুখ ঢাকি। প্ল্যাটফর্মগুলি এতটাই নিচু যে, ওঠা-নামার সময় মাঝেমধ্যে যাত্রীদের হুমড়ি খেতে দেখা যায়। বসার জায়গাও অপ্রতুল। তথাপি অতীত ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে অগণিত দেশি ও বিদেশি পর্যটক আমার আশিস মেখে, নৌকাযোগে নির্বিঘ্নে পাড়ি দেন নদিয়ার মায়াপুর ও সংলগ্ন দর্শনীয় স্থানে।

Advertisement

স্থানীয় গুণগ্রাহী মানুষজনসহ ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, ‘হল্ট’ কথাটি সরিয়ে, যুগাবতার শ্রীচৈতন্যদেবের সহধর্মিণী ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ নাম দিয়ে মডেল স্টেশনের ধরনে ও মর্যাদায় আমাকে সাজিয়ে তুলুন।

ভানুপ্রসাদ ভৌমিক ডানকুনি, হুগলি

দ্রোণাচার্য কেন

একলব্য, দ্রোণাচার্য সম্মান প্রদানের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি (‘পড়াশোনা শুধু নয়...’, ১৭-১১)। একলব্য সম্মান পাওয়ার যোগ্য দাবিদার। তিনি যে এক জন আদর্শ ও অনুকরণীয় ছাত্র ছিলেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সমস্ত রকম সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত, সমাজের নিম্নবর্গের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও যে প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের সাহায্যে তিনি সর্বোচ্চ শিক্ষালাভ করেছিলেন, তা তৎকালীন সমাজে স্বীকৃতি না পেলেও তাঁর উদাহরণে আধুনিক সভ্য সমাজের ছাত্ররাও অনুপ্রাণিত হয়। কিন্তু দ্রোণাচার্য? এক জন কুসংস্কারগ্রস্ত মানুষ, যিনি কিনা শঠতার আশ্রয় নিয়ে তাঁর সর্বোচ্চ কৃতী ছাত্রকে নিছক নিম্নজন্মের দোহাই দিয়ে বঞ্চিত করে তাঁর পছন্দের ছাত্রকে সর্বোচ্চ বিদ্যাদান করেছিলেন, তিনি কখনও আদর্শ শিক্ষক বলে গণ্য হতে পারেন? শিক্ষকরা কি এমন অসৎ শিক্ষককে অনুসরণ করে ছাত্রদের শিক্ষাদান করবেন? ‘দ্রোণাচার্য’ পুরস্কারপ্রাপ্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন শিক্ষকেরা নিজেদের দ্রোণাচার্যের মতো শিক্ষক ভেবে গর্ববোধ করবেন, না অপমানিত হবেন? প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য সফল করতে দ্রোণাচার্যের নাম বাতিল করে সক্রাতেস, রাধাকৃষ্ণণ বা রবীন্দ্রনাথের মতো আদর্শ শিক্ষকদের নামাঙ্কিত পুরস্কার দেওয়া হোক। শিক্ষকেরা যেন দ্রোণাচার্যের মতো শিক্ষক না হন।

অশোককুমার দাস কলকাতা-৭৮

আগে শিক্ষা

সংসদে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ বিষয়ক (‘প্রতীকী’, ২-১০) সম্পাদকীয়র সঙ্গে সহমত পোষণ করি। এই প্রসঙ্গে দু’একটি কথাও উল্লেখ করতে চাই। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই এই দাবি করে আসছে। এ বার বিজেপি সরকার দাবির বাস্তবায়ন চাইছে। পাখির চোখ মহিলা ভোট ব্যাংক। একটা হইচই ফেলে ফায়দা লোটা— দেখো আমরাই মহিলাদের যোগ্য সম্মান দিই, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি।

উক্ত সম্পাদকীয়তে যথার্থই উল্লেখিত হয়েছে ধনাঢ্য কোটিপতি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্ত্রী-কন্যা-পুত্রবধূরাই সুযোগ পুরোপুরি গ্রহণ করবেন। সার্বিক ভাবে মহিলারা এর কোনও সুফলই পাবেন না। উদাহরণ হিসেবে এ রাজ্যের কথাই বলি। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বিগত বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ এবং পুরসভা সর্বত্রই যথাসময়ে নির্বাচন শুধু নয়, মহিলাদের জন্য আসন, পদ সংরক্ষণও চালু হয় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। লক্ষ করা গেছে, এর ফলে মহিলারা সদস্য, প্রধান থেকে সভাধিপতি, কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়ে আসছেন বটে, কিন্তু ক্ষমতা সেই বকলমে প্রভাবশালী ধনাঢ্য কিংবা রাজনৈতিক নেতা স্বামী বা বাবারই রয়ে যাচ্ছে। শহরেও মহিলা কাউন্সিলরের স্বামী বা দলের কর্মকর্তারা যে ভাবে বলছেন, সে ভাবেই কাজ হচ্ছে।

এ সব দেখে আমার মনে হয়েছে মহিলাদের রাজনৈতিক ভাবে সচেতন না করে, সমাজ-সচেতন না করে এ ভাবে সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায়ন বা তাদের উন্নতি আদৌ সম্ভব নয়। সর্বাগ্রে প্রয়োজন মেয়েদের যথার্থ শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা। এর জন্য দেশ জুড়ে নারীশিক্ষার অগ্রগতির জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা দরকার। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত মহিলারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে, এখন যাঁরা বকলমে কাজ পরিচালন করছেন, তাঁদের প্রয়োজন ফুরোবে। সমাজে, দেশে এক বিরাট পরিবর্তন সূচিত হবে এবং সেখানে আর মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হবে না।

তা না করে ভোটসর্বস্ব রাজনীতির পথে হেঁটে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হলে সমাজের বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হবে না। দেশের মহিলারা যে তিমিরে আছেন, সেই তিমিরেই আচ্ছন্ন থাকবেন।

স্বপন মজুমদার রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর

বাড়তি খুচরো

স্কুলের মিড-ডে মিলের জন্য বাজার গিয়েছিলাম। কিন্তু সবজির দোকানে খুচরো এক বা দুই টাকা নেবে না। কথা কাটাকাটি হয়ে গেল। টোটোয় উঠতেই জানিয়ে দিল, ‘আমরা এক, দুই টাকার কয়েন নিচ্ছি না।’ ব্যাংক খুচরো জমা নিচ্ছে না। তা হলে রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়ে দিক, এক ও দুই টাকার কয়েন বাতিল। নয়তো সপ্তাহে অন্তত এক দিন সব ব্যাংকে কাউন্টার খুলে এক ও দুই টাকার কয়েন জমা নেওয়া হোক।

পল্লব চক্রবর্তী নেতাজি সুভাষ পল্লি, গাজল, মালদহ

বাংলায় অনুবাদ

ভারতবর্ষের স্বাধীনতাযজ্ঞে রাসবিহারী বসু একটি স্মরণীয় নাম। ১৯৬৩-তে ‘রাসবিহারী বসু: হিজ স্ট্রাগল ফর ইন্ডিয়াজ ইনডিপেন্ডেন্স’ স্মারকগ্রন্থে তাঁর কিছু ইংরাজি লেখা সংকলিত হয়। কিন্তু তাঁর অজস্র লেখা ইংরাজি ও জাপানি ভাষায় ছড়িয়ে রয়েছে, যা আজও একত্রে সংগৃহীত হয়নি। জাপানি ভাষায় তাঁর ষোলোটি গ্রন্থ অনুবাদের তাগিদ দেশ অনুভব করেনি। লেখক রাসবিহারী বসুর আলাপচারিতার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আমাদের অজানা। রাসবিহারীর কন্যা তেৎসুকো একটি অসাধারণ বই লিখেছেন ‘বাবা বোস’ শিরোনামে। শুনেছি, অনেক অকথিত কাহিনি রয়েছে এই বইটিতে। সূর্যোদয়ের দেশের এই অমর স্মৃতিকথা বাংলায় অনুবাদ কি একান্তই অসম্ভব? বইটি আমাদের সংগ্রহে আছে।

লিপিকা ঘোষ রাসবিহারী রিসার্চ ইনস্টিটিউট, চন্দননগর

নোংরা সিঁড়ি

বালি মেন বা কর্ড রেলস্টেশন থেকে রাস্তা ধরে দক্ষিণেশ্বরের দিকে যেতে হলে বালি হল্ট বাসস্টপে আসতে হয়। এর পর বিবেকানন্দ সেতু পার হওয়ার পালা। অসংখ্য নিত্যযাত্রী এই পথে যাতায়াত করেন।

কিন্তু যে গুরুত্বপূর্ণ সিঁড়ি দুটি (বাম ও ডান) বালি স্টেশনকে বালিহল্টের সঙ্গে যুক্ত করেছে, সেগুলো ‘ডাস্টবিন’ ছাড়া কিছু নয়। সিঁড়ির পাশে শোভা পায় পানের পিকের দেওয়ালচিত্র। সিঁড়ি এতই অপরিসর যে পা রাখাই দায়। অশক্ত মানুষ নামতে বা উঠতে গেলে পা মচকানো বা ভাঙার সম্ভাবনা প্রবল। বাড়তি পাওনা প্রস্রাবের ঝাঁঝালো গন্ধ।

‘মিশন নির্মল বাংলা’, তুমি কোথায়?

শিপ্রা ভৌমিক, খলিসানি, হুগলি

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy