E-Paper

তথ্যের নাগাল পাওয়া কঠিন হবে আরও

আদালত বাক্‌স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়ে পেন্টাগনের নিষেধাজ্ঞা খারিজ করামাত্র, তিন দিন পর বন্ধ করে দেওয়া হল সাংবাদিকদের বসার স্থানটি।

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩২
নিষেধভূমি: পেন্টাগন, ২০২২ সালের ছবি। রয়টার্স

নিষেধভূমি: পেন্টাগন, ২০২২ সালের ছবি। রয়টার্স

বন্ধ হয়ে গেল পেন্টাগনের ‘করেসপনডেন্ট’স করিডর’। আমেরিকার প্রতিরক্ষা ও সামরিক বিষয়ে যে সাংবাদিকরা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন, বহু দশক ধরে তাঁদের কাজের জন্য এই জায়গাটি নির্দিষ্ট ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা হবে অ্যানেক্স বিল্ডিং-এ। সাংবাদিকরা পেন্টাগনে ঢুকতে চাইলে সঙ্গে থাকবে এক জন নজরদার (এসকর্ট)। ফলে সামরিক বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা, কথাবার্তার সুযোগ হারাবেন সাংবাদিকরা। তাঁদের দাবি, এটা প্রতিশোধ। গত বছর সাংবাদিকদের উপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করে পেন্টাগন। তার বিরুদ্ধে আদালতে যায় নিউ ইয়র্ক টাইমস। আদালত বাক্‌স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়ে পেন্টাগনের নিষেধাজ্ঞা খারিজ করামাত্র, তিন দিন পর বন্ধ করে দেওয়া হল সাংবাদিকদের বসার স্থানটি। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, কেন আদালতের রায়ের বিপক্ষে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা বিভাগ, কেনই বা যুদ্ধের এই সঙ্কটপূর্ণ সময়ে সংবাদের স্বাধীনতা খর্ব করছে, যার ফলে তথ্যের নাগাল পাওয়া কঠিন হবে? অভিযোগ, মুখে স্বচ্ছতার কথা বললেও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্বাধীন সাংবাদিকদের সরিয়ে ক্রমাগত সরকার-অনুগতদের জায়গা দিচ্ছেন, সাংবাদিকদেরই দেশের ‘নিরাপত্তার ঝুঁকি’ বলে তুলে ধরতে চাইছেন।

মায়ের কোলে

গাজ়ার হাসপাতাল মানেই হামাসের আশ্রয়স্থল, এই যুক্তিতে আড়াই বছর আগে শিফা হাসপাতালের দখল নিয়েছিল ইজ়রায়েলি সেনা। হুলস্থুল পড়ে গিয়েছিল হাসপাতাল খালি করতে। কিন্তু সেখানে তখন তিরিশেরও বেশি নবজাত রয়েছে ইনকিউবেটরে, অষ্টপ্রহর নার্স ও চিকিৎসা-কর্মীদের নজরদারিতে— তাদের কী হবে? কী যে হয়েছিল তা এখনও ধোঁয়াশায়, তবে সম্প্রতি অন্তত আটটি শিশুর খোঁজ মিলেছে— যুদ্ধের শিকার প্যালেস্টাইনিদের পরিচর্যায় মিশর কয়েকটি ‘ফিল্ড হাসপাতাল’ গড়েছে, তারই একটিতে। টলমল পায়ে চলতে শিখেছে তারা, শরীর-স্বাস্থ্য ভালই আছে, আর সবচেয়ে বড় কথা— বেঁচে আছে তারা। মা খুঁজে পেয়েছেন সন্তানকে, এর থেকে বড় সুসংবাদ আর কী!

লক্ষ্য শুধু চাঁদ নয়

আর্টেমিস-২ অভিযানে চাঁদে আবার লোক পাঠাচ্ছে নাসা। তবে এই অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার একাধিক লক্ষ্যপূরণের ইচ্ছা। প্রথমত, মহাকাশ আধিপত্য। এই বিষয়ে চিন সম্প্রতি বেশ তৎপর হওয়ায় সেই দৌড়ে পিছিয়ে পড়তে রাজি নয় তারা। শুধু তা-ই নয়, চাঁদের গভীরে থাকা সম্ভাব্য বিরল খনিজের সম্ভারও এই প্রতিযোগিতার অন্যতম কারণ। অন্য দিকে, আগামী দিনে মঙ্গলে পাড়ি দেওয়ারও ইচ্ছে আছে নাসা-র। সে ক্ষেত্রে অপরিচিত পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত চাঁদই সবচেয়ে উপযোগী বিকল্প। তবে নাসা-র বিজ্ঞানীদের আশা, অভিযান সফল হলে তা আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞানের প্রতি আরও আকৃষ্ট করবে।

সাহারার শিহরন

যে পাখিরা সন্ধে ছাড়া গাছে এসে বসে না, দিনের বেলাতেও তারা বসে আছে ডালে। বন্দর থেকে দূরদিগন্তরেখা দেখা যাচ্ছে না, শুধু এক কমলা-হলদে ধোঁয়াটে আলো ঢেকে রেখেছে দৃষ্টিপথ। শহরের রাস্তা, পার্ক, পার্কিং লট, বিখ্যাত ন্যাচরাল মিউজ়িয়মের বাইরের অতিকায় ডাইনোসর— সবই কমলারঙা। গ্রিসের দ্বীপ ও বন্দর-নগরী, ইতিহাসখ্যাত ক্রিট-এ এমনটাই দেখা গেল এপ্রিলের প্রথম দিন। কারণটা আশ্চর্যের— সাহারা মরুভূমির বালিকণা উড়ে আসছে জোরালো দখিনা বাতাসে, মহাদেশীয় মানচিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে অনেক দূরের দেশের চেহারাও দিচ্ছে পাল্টে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করছে জনগণকে, মুখচোখ মাস্কে ঢেকে কাজে বেরোচ্ছে সবাই।

চেয়ার নিয়ে ছুট

হেলমেট ঢাকা মাথা, কনুই-হাঁটুতে সেফটি গার্ড, হাতে গ্লাভস। এই বেশে এক ঝাঁক অফিসকর্মী চাকাওয়ালা চেয়ারসুদ্ধ প্রতিযোগিতার মাঠে! ভোঁ বাজলেই ছুটছেন চেয়ার নিয়েই, মাটি ঠেলে। এই দৃশ্য জাপানের। সেখানে খুবই জনপ্রিয় অফিস চেয়ার প্রতিযোগিতা। ২০১০-এ সুয়োশি তাহারা এর প্রবর্তক। শৈশবে চেয়ার নিয়ে খেলায় শিক্ষক তাঁকে বকেছিলেন, তাই বড় হয়ে খেলাটি চালু করেছেন। পুরস্কারও জম্পেশ: ৯০ কিলো চাল, পাঁচ কিলো টুনা মাছ। কর্মব্যস্ততার জন্য ‘কুখ্যাত’ দেশে কর্মীদের চার দেওয়ালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দিতে, সহকর্মীদের মধ্যে আত্মিক বন্ধন গড়তেই অফিসের চেয়ার নিয়েই ছোটাছুটি চলছে, যেন ছোটবেলার দিকেই!

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pentagon america

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy