E-Paper

নিরাপদ যাত্রা

ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ বাজার, যেখানে প্রতি বছর ৩৫ কোটিরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন।

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০২

ভারতে পাইলটের ঘাটতি এবং যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় একটি শক্তিশালী আইনের অনুপস্থিতির বিষয়টি সম্প্রতি উত্থাপিত হল এক সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, ভারতে পাইলট ও বিমানের অনুপাত আনুমানিক ১৪, যেখানে বৈশ্বিক মানদণ্ড হল ১৮ থেকে ২০। শুধু তা-ই নয়, বিশ্ব জুড়ে যেখানে বিমান সংস্থাগুলো পরিচালনগত ধাক্কা সামাল দিতে ২০-২৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর্মী বজায় রাখে, সেখানে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো যতটুকু প্রয়োজন শুধু ততটুকু কর্মী দিয়েই কাজ চালায়। ফলে সামান্য বিঘ্নও গোটা বিমান পরিষেবার প্রক্রিয়াটিকে প্রভাবিত করতে পারে। কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, অন্যান্য বড় বিমান চলাচল বাজারের তুলনায় ভারতে একটি ব্যাপক ও বিধিবদ্ধ যাত্রী অধিকার কাঠামোর অভাব রয়েছে। বস্তুত, রিপোর্টে যাত্রী পরিষেবার মান নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, বিশেষত আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে। ভারতের অসামরিক বিমান চলাচলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ডাইরেক্টরেট-জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর একটি নিরীক্ষণের কথাও উল্লেখ করা হয়, যা ৭৫৪টি বাণিজ্যিক বিমানের উপর পরিচালিত হয় জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে। দেখা গিয়েছে যে, ৩৭৭টি বিমানেই— যা মোট বিমানবহরের প্রায় অর্ধেক— নিয়মিত বিরতিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ বাজার, যেখানে প্রতি বছর ৩৫ কোটিরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। অথচ, রেকর্ড সংখ্যক যাত্রী চলাচল সত্ত্বেও, এই ক্ষেত্রটি বিবিধ সঙ্কটের সম্মুখীন— ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা দুর্ঘটনা (যেমন, ২০২৫-এর আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনা), উড়ানে ব্যাপক বিলম্ব এবং আর্থিক চাপ। গত ডিসেম্বরে লক্ষ লক্ষ যাত্রী সমস্যায় পড়েন যখন ভারতের একটি জনপ্রিয় বেসরকারি বিমান সংস্থা হাজারেরও বেশি উড়ান বাতিল করে। এর অন্যতম কারণ ছিল কর্মী এবং পরিচালনগত সীমাবদ্ধতা। আসলে, পাইলটদের ক্লান্তি কমাতে ডিজিসিএ কর্তৃক প্রবর্তিত কঠোরতর ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস নিয়মাবলির কারণে উড়ান পরিষেবা অব্যাহত রাখতে বিরাট সংখ্যক পাইলটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ডিসেম্বরের মতো ভ্রমণের ভরা মরসুমে বিমান সংস্থাটি অত্যন্ত কম সংখ্যক বাড়তি কর্মী মোতায়েন রাখে। সংস্থার এ-হেন পদক্ষেপ আপৎকালীন পরিকল্পনা এবং যাত্রী-সেবায় বিদ্যমান ঘাটতিগুলিরই ইঙ্গিতবাহী। লক্ষণীয়, এই ধরনের পরিষেবার গাফিলতি ক্রমে জন-আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে, যার প্রভাব পড়ে গোটা শিল্পের উপরেই।

ভারতের বিমান চলাচল ক্ষেত্রটি এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি সমান ভাবে প্রশাসনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও থাকা আবশ্যক। বিমান শিল্পের সুস্থায়ী বৃদ্ধি নির্ভর করবে স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ নিরাপত্তা তদারকি এবং মানব ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগের উপর। তা ছাড়া, জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে যাত্রী-সুরক্ষার কঠোর প্রয়োগ, স্বচ্ছ ভাড়া নীতি এবং কার্যকর অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে অপরিহার্য। মানুষের প্রাণ ও সময়ের বিষয়টি যেখানে জড়িয়ে সেখানে কোনও গাফিলতি চলে কি? আকাশপথ নিরাপদ হোক— সর্বতোভাবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Flight Safety

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy