ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে রক্ষা করতে এ বার মানববন্ধন গড়ার ডাক দিল তেহরান। হরমুজ় প্রণালী নিয়ে আমেরিকার হুমকির পর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলার আশঙ্কা করছে ইরান। সেই আশঙ্কা থেকেই এ বার মানবশৃঙ্খল গড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা রুখতে চাইছে ইরান।
হরমুজ় প্রণালী নিয়ে ইরানকে ধারাবাহিক ভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। তবে ইরান প্রকাশ্যে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার চাপের কাছে বশ্যতা স্বীকারের কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। এ অবস্থায় আমেরিকা ফের হামলা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইরান। ইরানের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে মঙ্গলবার স্থানীয় সময়ে দুপুর ২টো (ভারতীয় সময়ে বিকেল ৪টে) থেকে জমায়েতের ডাক দিয়েছে ইরানের ক্রীড়া এবং যুব মন্ত্রক। ট্রাম্প হরমুজ় খোলার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে ইরানের তরুণ প্রজন্মকে। জমায়েতে সে দেশের শিল্পী এবং ক্রীড়াব্যক্তিত্বদেরও থাকার জন্য বলেছে ইরান সরকার।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী দিয়ে কিছু বন্ধু দেশের জাহাজকে চলাচল করতে দিচ্ছে ইরান। তবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের জাহাজকে সেই ছাড় দিচ্ছে না তারা। এ অবস্থায় হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের জন্য নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাত ৮টা (আমেরিকার সময় অনুযায়ী। ভারতীয় সময়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা) পর্যন্ত তিনি সময় দিয়েছেন ইরানকে। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ় না-খুললে ইরানের উপরে আরও জোরালো হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্পের দেওয়া ওই সময়সীমা এগিয়ে আসতেই এ বার হামলা ঠেকাতে নতুন কৌশল নিল ইরান।
আরও পড়ুন:
ইরানের ক্রীড়া এবং যুবকল্যাণ মন্ত্রকের উপমন্ত্রী আলিরেজা রহিমি এক ভিডিয়োবার্তায় বলেন, “তরুণদের পরামর্শেই এই কর্মসূচি (মানববন্ধন) গৃহীত হয়েছে। বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, তরুণ শিল্পী এবং বিভিন্ন যুব সংগঠন আমাদের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির চারপাশে একটি মানববন্ধন গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিল। এই প্রতীকী কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে— ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ইরানের তরুণদের মানববন্ধন’। আমরা আশা করি, সারা দেশের তরুণেরা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির চারপাশে এই মানববন্ধন গড়ে তুলবেন।”