চিত্ত মুখোপাধ্যায়ের চিঠির (‘নকল বুদ্ধি আসল কাজ’, ১-৯) প্রেক্ষিতে এই চিঠি। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হল: ১) যুগান্তকারী প্রযুক্তি বেকারত্ব বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। ২) সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে বেকারত্ব ও দারিদ্র বিমোচনের কোনও সম্পর্ক নেই।

কিন্তু পত্রলেখক বক্তব্যকে সমর্থন করার জন্য কোনও পরিসংখ্যান বা গুণগত বিশ্লেষণ দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। কথাটির মধ্যে যদি সারবত্তা থাকত, তা হলে যে কোনও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে (প্রধান উদাহরণ অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ঘরের কাছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইজ়রায়েল) জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক বেকারত্ব এবং দারিদ্র বাড়ত, কিন্তু হয়েছে ঠিক তার বিপরীত। তার কারণ প্রযুক্তিগত পরিবর্তন scalable নয়। এক একটি প্রযুক্তি-যুগাবসানের সঙ্গে মানবসম্পদের এই জাতীয় পরিবর্তন ঘটে, যা নতুন কার্য ও পেশার শ্রম চাহিদার পরিপূরক রূপ গ্রহণ করে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ভারতেও আমরা এই ঘটনার প্রতিফলন দেখেছি। কিন্তু এখানে একটি শর্ত অবশ্যপালনীয়। এবং তা সমাজতাত্ত্বিক এবং মানসিকতা নির্ভর। তা হল, সার্বিক ভাবে মানুষদের পরিশ্রমী, চিন্তাভাবনায় স্বাধীনচেতা এবং আত্মনির্ভর হতে হবে। না হলে প্রযুক্তি তার রাস্তায় চলবে, তুলনামূলক অর্থনৈতিক রূপান্তর তার রাস্তায় চলবে।

শঙ্খশুভ্র মিশ্র, সল্টলেক

 

মাঝট্রেনে হুইসল

ইদানীং দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোতে যাত্রী-সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে, প্রতিটি ট্রেনের কোচের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে প্রায় কুড়ির অধিক হয়ে যাচ্ছে। ফলে বহু স্টেশনে ইঞ্জিন ও ট্রেনের শেষ প্রান্ত দেখা যায় না কারণ প্ল্যাটফর্ম বহু জায়গাতেই (প্ল্যাটফর্ম বাড়ানোর জন্য, যাতে কোচগুলো প্ল্যাটফর্ম পায়) বাঁক নিয়ে নেয়। ফলত ট্রেন ছাড়ার সময় ইঞ্জিনের হুইসল একদম শোনা যায় না, বিশেষ করে শেষের দিকের কোচে। অনেককেই ট্রেন থামলে জল বা খাবারের জন্য স্টেশন চত্বরের এ দিক ও দিক যেতে হয়। হুইসলের শব্দ শুনতে না পাওয়ায়, ট্রেন চলতে শুরু করে দিলে তাঁরা হুড়োহুড়ি করে উঠতে শুরু করেন। অনেকে বিপদের সম্মুখীন হন। রেকের মধ্যবর্তী অংশে যদি দু’বার জোরালো হুইসল-এর ব্যবস্থা করা যায়, ভাল হয়।

সুব্রত সেনগুপ্ত, কলকাতা-১৪০

 

সবুজায়নের মূল্য

আমাদের বাড়ির সামনে দু’কাঠা আমাদেরই খালি জমিতে বিরাট আম, নারকেল, বেল, নিম, তুলোগাছ সম্পূর্ণ জমিটাকে ঢেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও স্যাঁতসেতে করে রেখেছে। এই সবুজায়নে আমরা এবং পাড়ার লোকেরা প্রচুর উপকার পাচ্ছি, গাছের ছায়ায় অনেকে হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়িয়ে একটু বিশ্রামও নেন। পাড়াটা ঠান্ডা থাকে। এ ছাড়া অসংখ্য পাখির নিরাপদ আশ্রয় এই গাছগুলি। কিন্তু সবুজায়নের মূল্য দিতে দিতে আমরা জেরবার।

১) গাছের পাতা পড়ে সম্পূর্ণ জায়গাটা নোংরা হচ্ছে এবং জলে-কাদায় যাতে না মশার আঁতুড়ঘর হয়ে দাঁড়ায়, সে জন্য প্রতি দিন ওই নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার করতে, বছরে প্রায় ৯-১০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। ২) গাছগুলির শিকড় জলের লাইন, নিকাশি বা বাড়ির ভিত না নষ্ট করে দেয়, ভেবে আতঙ্কে থাকতে হয়। ৩) ডাল বা পাতা অন্যের বাড়ি স্পর্শ করলে, তাঁরা অসন্তুষ্ট হন। ডাল ছেঁটে ফেলার অনুরোধ জানান। সুতরাং এই সবুজায়নের মূল্য কি আমরা একাই দেব? পাড়ার লোক এবং কর্পোরেশনের সহানুভূতি এবং সাহায্য পাব না?

রঞ্জন চৌধুরী, কলকাতা-২৭

 

গাঁজাগাছের ঝাড়

হরিনাভির (কলকাতা-১৪৮) ১৮ নং ওয়ার্ডের ডি এন স্ট্রিটে জনবস্তির মধ্যে খালি জমিতে অবাধে বেড়ে উঠছে নিষিদ্ধ গাঁজাগাছের ঝাড়, বিষাক্ত পার্থেনিয়াম। জমিটি বিস্তর ঝোপজঙ্গলেও ভর্তি। ডেঙ্গির সম্ভাবনা বাড়ছে, পাশাপাশি মাছি মশা ও সাপখোপে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। জমি মালিকের ভ্রুক্ষেপ নেই, পুরসভা ও আবগারি দফতর দৃষ্টিহীন।

দীপঙ্কর মিত্র, কলকাতা-১৪৮

 

বিটি রোড

আমরা যারা উত্তর শহরতলির বাসিন্দা, বিটি রোড পেরিয়ে কর্মস্থলে যেতে গেলে সর্বদা আতঙ্কে থাকি, কখন যানজটে আটকে যাই। রাস্তার দু’পাশের অনেকটাই জবরদখল হয়ে গিয়েছে। বাস কিংবা অটো চলে নিজের মতো। অফিসটাইমে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। তার উপর অসংখ্য সিগনাল। গাড়ি যেন চলতেই চায় না। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট হওয়ার পর যে সাময়িক উন্নতি হয়েছিল, তা আজ অতীত। ডানলপ ব্রিজ উড়ালপুলের বেয়ারিংয়ে ত্রুটি ধরা পড়ার পর তার উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্ষার আগে রাস্তা চওড়া করার একটা উদ্যোগ হয়েছিল, কোনও অজানা কারণে তাও ঠান্ডাঘরে। ডানলপ ব্রিজের যানজট কমাতে নির্মীয়মাণ আন্ডারপাস কতটা কাজে লাগবে বলা মুশকিল। কারণ অটো রিকশা ব্রিজের তলায় এখনকার মতোই যে দাঁড়িয়ে থাকবে না, নিশ্চয়তা নেই। তাই বিটি রোডকে যানজটমুক্ত করতে হলে লরি চলাচল কমাতে হবে। সকাল সাতটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত লরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত করতে হবে। তা হলে উত্তরমুখী লরিগুলিকে আর বিটি রোড ধরতে হবে না। সিভিক ভলান্টিয়ার নয়,
সব সময় ট্র্যাফিক পুলিশকেই যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
চার মাথার সিগনালগুলিতে বিটি রোডের সিগনাল বেশি সময় খোলা রাখতে হবে।

শুভব্রত ভট্টাচার্য, কলকাতা-৫৭

 

বাসের মান্থলি

কলকাতা শহর-সহ সারা রাজ্যে চালু হোক সরকারি ও বেসরকারি বাসে ‘মান্থলি পরিষেবা’। অন্য কয়েকটি রাজ্যে এ পরিষেবা চালু আছে। এটি চালু হলে যে সমস্ত বাসযাত্রী দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের তাগিদে নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করেন তাঁদের খরচ অনেকাংশে কম হবে। বাস কন্ডাক্টরদেরও সুবিধে হবে। প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও ছাত্রছাত্রীদের ভাড়া ছাড়ের ব্যবস্থা থাক।

জয়দেব দত্ত, কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান

 

শেড নেই

দক্ষিণেশ্বর রেল স্টেশনে আপ প্ল্যাটফর্মে ছোট দুটো শেড আছে। ডাউন প্ল্যাটফর্মে বড় একটি শেড তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু কোনওটাতেই পাখার ব্যবস্থা নেই। গরমে যাত্রীরা হাঁসফাঁস করেন।

সুভাষ সরকার, কলকাতা-৩৫

 

ব্যাঙ্কের সমস্যা

সাধনা সরকারের ‘ব্যাঙ্কের দায়’ (১৭-৯) শীর্ষক চিঠির উত্তরে জানাই, আপনি কোনও সাইবার কাফেতে গিয়ে https://pgportal.gov.in-এ চিঠি লিখে সঙ্গে ব্যাঙ্কের জমা নেওয়া রসিদের কপি-টি স্ক্যান করে পাঠান। সাত দিনের মধ্যে ব্যাঙ্ক আপনার দরজায় কড়া নাড়বে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য। আমি নিজে এই ভাবে আদায় করেছি এবং কয়েক জনকে করে দিয়েছি। অনেকেই জানেন না, দেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটা public grievance cell আছে। যেখানে অভিযোগ করলে খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করা হয়। সঙ্গে আপনার মোবাইলটা নিয়ে যাবেন, ওটিপি-র জন্য।

অসিত ঘোষ, কলকাতা-৩৫

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।