Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

সম্পাদক সমীপেষু: এবং মূকাসন

‘বেটি বচাও’য়ের দেশ সারা বিশ্বের কাছে চিহ্নিত হচ্ছে নারীনিগ্রহের দেশ হিসাবে।

১৮ এপ্রিল ২০১৮ ০০:৪৫
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

পর পর আসছে ধর্ষণের খবর। কোনও ক্ষেত্রে, অভিযুক্তকে আড়াল করতে আসরে নামছেন একটি দলের প্রবল প্রভাবশালী নেতারা, কোনও ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের পক্ষে মিছিলে হাঁটছেন সেই দলের কেষ্টবিষ্টুরা। ঘৃণ্য অপরাধকে তাঁরা জাতিবিচারের ময়দানে টেনে আনছেন। অভিযুক্তরা এই জাতের, নিগৃহীতা সেই জাতের, এই বলে ব্যাপারটাকে গুলিয়ে দিচ্ছেন ও এমন মতামতও হাওয়ায় ছাড়ছেন: অভিযুক্তরা যদি তোমার সম্প্রদায়ের হয়, তবে তাদের সমর্থন করো, বলো তাদের মিথ্যে অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ আমলা দেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে লিখেছেন, যে বিদ্বেষের আবহ তৈরি হয়েছে দেশে, তার দরুন আজ এই অবস্থা। সেই বিদ্বেষের প্রশ্রয় যে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল লাগাতার দিয়ে চলেছেন, তাতে সন্দেহ নেই। এই অন্ধকার সময়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন যোগাসনের মুদ্রা নিয়ে বেশি ব্যস্ত। আর ব্যস্ত অনশনে ও মৌন পালনে। তিনি আগের প্রধানমন্ত্রীকে তিরস্কার করে বলতেন, তিনি নাকি মুখ খোলেন না। কিন্তু নিজে তো মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে বসে আছেন। তাঁর দল সংখ্যাগরিষ্ঠকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন জোগাচ্ছে, সংখ্যালঘুদের প্রতি নিপীড়নে। আর ‘বেটি বচাও’য়ের দেশ সারা বিশ্বের কাছে চিহ্নিত হচ্ছে নারীনিগ্রহের দেশ হিসাবে।

নরেশ সরকার কলকাতা-৬৪

Advertisement

কৃতিত্ব অন্যেরও

আসানসোল দাঙ্গার উত্তরকালে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে ওই দাঙ্গায় পুত্রহারা ইমাম রশিদির ভূমিকা সত্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিতে দোলন গঙ্গোপাধ্যায় (‘...ক্ষমা করুন, ইমাম রশিদি’, ৩-৪) সমগ্র হিন্দুসমাজের বিরুদ্ধে আত্মসমালোচনামূলক যে বিরূপ মন্তব্য করেছেন, তা এক জন সংবেদনশীল নাগরিক হিসাবে সঠিক দায়িত্বপালন হল কি? তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘‘সব সময় দেশের শান্তি বজায়ের ভার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকেই নিতে হবে কেন?’’ কিন্তু সংবেদনশীল হৃদয় শুধুমাত্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে থাকলেই দেশে শান্তি বজায় থাকে না। সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও থাকতে হবে। দেশে শান্তি বজায়ের কৃতিত্ব সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু— সকল সম্প্রদায়ের মানুষকেই দিতে হবে।

লেখক বলেছেন, ‘‘...কেন হিন্দু ব্রাহ্মণ্যবাদের অহঙ্কার ছেড়ে আমরা নতজানু হয়ে স্বীকার করলুম না, সরাসরি না হলেও, আসানসোলে যা ঘটেছে তার দায় আমাদের!...’’ এর ঠিক পরেই মন্তব্য করেছেন, ‘‘এই পর্যন্ত পড়ে প্রগতিশীল বাঙালি ভদ্রলোক এবং ভদ্রমহিলারা হয়তো-বা চটবেন।’’ এখানে প্রগতিশীল বাঙালি ভদ্রলোক এবং ভদ্রমহিলারা বলতে নিঃসন্দেহে হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরুষ ও মহিলার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কি বাঙালি নয়? যাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলেন, তাঁরাই তো বাঙালি।

বাচ্চাদের স্কুলজীবনের কথাবার্তার মধ্যেও লেখক ধর্মীয় বিদ্বেষ খুঁজেছেন— ‘‘...তোরা কি বাড়িতে গরু খাস? তোর বাবা দাড়ি রাখেন কেন, ফেজ টুপি পরেন কেন, এই গরমে তোর মা বোরখা পরে কী ভাবে থাকেন রে?’’ কিন্তু স্কুলজীবনে সংখ্যালঘু বন্ধুরা যখন আমাদের জিজ্ঞেস করত, ‘‘তোদের ঠিক কত কোটি দেবতা আছে? হনুমান ছাড়া আর কতগুলি জন্তুকে দেবতাজ্ঞানে তোরা পুজো করিস? মা কালী ঠিক কতগুলি বলি পছন্দ করেন? মৃত্যুর পরে আগুনে পোড়ালে কি পরিবেশ দূষণ হয় না?’’ তখন তো এই ধরনের আলোচনা বন্ধুত্বের ভেদাভেদ সৃষ্টি করেনি। বরং একে অপরের সংস্কৃতিকে জানতে সুবিধা হয়েছে।

সৈকত রায় সেকেন্দারপুর, খানাকুল, হুগলি

একপেশে

দোলন গঙ্গোপাধ্যায় কেন হিন্দু সমাজকে একপেশে ভাবে আক্রমণ করেছেন, বোঝা গেল না। বরং তিনিই শোকের আবহকে ‘আমরা-ওরা’ ভেদ এনে অপমান করলেন। উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই কিছু নেতিবাচক দিক ও মানুষ আছে। একটা সম্প্রদায়ের সবাই ভাল আর একটা সম্প্রদায়ের সবাই খারাপ, এটা অসম্পূর্ণ সমাজদর্শন।

অভিজিৎ পালুই গড়বেতা

দোষ কোথায়

আজকাল প্রায়ই শোনা যায়, রামনবমী ও হনুমান জয়ন্তী নিয়ে যা হচ্ছে, তা বাংলার সংস্কৃতি নয়। হ্যাঁ, হইচই করে রামনবমী ও হনুমান জয়ন্তী মিছিল আগে বিশেষ দেখা যেত না! এখন মিছিল নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে! এতে দোষটা কোথায়? আগে হত না বলে, কখনও হবে না— এই কথাটা বলার সংস্কৃতিই বরং বাংলায় আগে ছিল না। চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগে প্রায় প্রতি বাড়িতে ঝুলন যাত্রায় খেলনার পুতুল দিয়ে সাজানো হত। এখন আর তা দেখাই যায় না। আগে বিশাল বিশাল বাজেটে এত দুর্গাপুজো হত? হত না। সুতরাং বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে হইচই করার কারণ দেখছি না।

রণেন বসু কলকাতা-৬৫

কই তখন তো

পাকিস্তান বা বাংলাদেশে যখন সংখ্যালঘু হিন্দুরা অত্যাচারিত হন, তখন তো এখানকার খবরের কাগজের এত মাথাব্যথা থাকে না।

অম্লান চক্রবর্তী ই-মেল মারফত

ফাঁদের দায়

‘ফাঁদ পাতলেই পা দেব?’ (৬-৪) শীর্ষক লেখায় দেবাশিস ভট্টাচার্য সিপিএম এবং কংগ্রেস সম্পর্কে লিখেছেন, “ক্ষমতায় না থাকলেও তারা যদি নিজেদের সক্রিয় রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবং জনভিত্তি কিছুটা হলেও বজায় রাখতে পারত, তা হলে বিজেপির উত্থান কিছুতেই এত দ্রুত হত না।” প্রশ্ন এখানেই। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শাসকদল বাংলার মাটিতে কয়েক বছর ধরে যে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিপক্ষ বাম এবং কংগ্রেস শিবিরকে অত্যন্ত অনৈতিক ভাবে ক্ষয়িষ্ণু করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে, তার উল্লেখ লেখায় নেই কেন? অনৈতিক ভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে নিজের দলে নিয়ে আসার সংস্কৃতি পশ্চিমবঙ্গের ছিল না। যা শাসক তৃণমূলের একান্ত নিজস্ব রাজনৈতিক কালচার বলে পরিগণিত হতেই পারে। বিরোধীদের যেন তেন প্রকারেণ দুর্বল করা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিসরকে সীমায়িত করার অসাধু প্রয়াস। বাম এবং কংগ্রেসের শক্তিক্ষয় তৃণমূলের লক্ষ্য হওয়ায়, বিজেপির গতি ত্বরান্বিত হয়েছে।

লেখক সাম্প্রতিক কালে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্কটের ক্ষেত্রে পুলিশি ব্যর্থতার কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুকৌশলে আলাদা করে দেখিয়েছেন। লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রী পুলিশি ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলেছেন। ঘটনা হল, মুখ্যমন্ত্রী যে দলের নেত্রী সেই দলই নিজের ক্যাডারকুলকে রামনবমীর কাউন্টার করতে নামিয়েছেন। পাল্টা রামনবমী সমস্যা সমাধানের পথ নয়। এটা রাজ্যের যে কোনও সাধারণ মানুষও বোঝেন। মুখ্যমন্ত্রীও বোঝেন। বুঝেও তিনি নামিয়েছেন তাঁর দলকে, ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে।

আজ পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিপক্ষ শিবিরকে মনোনয়ন জমা না দিতে দিয়ে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হল বাংলার বুকে, তার দায় প্রধানত রাজ্যের প্রধান প্রশাসকের। তৃণমূল দল এবং রাজ্যের পুলিশবাহিনী তাঁর অঙ্গুলিহেলনে চলে। ইচ্ছে করলেই নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিয়ে, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে রাজধর্ম পালনের সুযোগ দিয়ে, উন্নয়নের অ্যাজেন্ডা নিয়ে ভোটে যেতে পারতেন। দুর্ভাগ্য, সে পথে তিনি হাঁটলেন না। উল্টে রাজ্যে দমন-পীড়নের এই রাজনৈতিক আবহে যদি অস্থির পরিবেশের সুযোগ নিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া দেয়, তার দায় কি এড়াতে পারবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী?

সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় আগরপাড়া, উত্তর ২৪ পরগনা

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement