Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: তাঁরই আমলে!

১৬ এপ্রিল ২০১৮ ০০:৪১

এক জন মূক-বধির তরুণী, নির্যাতিতা, ধর্ষিতা— তাঁকে নিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী রাইটার্সে গিয়েছিলেন সুবিচার চাইতে। সুবিচার দূরে থাক, নেত্রীকেই পুলিশ চুলের মুঠি ধরে বার করে দিয়েছিল। রাজ্যে তখন বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। ওই বিরোধী নেত্রীই যখন আবার সিঙ্গুর কৃষক আন্দোলনের সময় স্থানীয় বিডিও অফিসে ধর্নায় বসেছিলেন, রাতগভীরে এলাকার আলো নিভিয়ে দিয়ে নেত্রীকে টেনেহিঁচড়ে, মারতে মারতে (চাক্ষুষ করেছি) বার করে পুলিশ গাড়িতে তুলে কলকাতার রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছিল। সেই বিরোধী নেত্রীই আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। যিনি বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন হাজরা মোড় ও ধর্মতলায় দু’বার রাজনৈতিক লুম্পেনদের হাতে নিগৃহীতা হয়েছিলেন (ছবিতে)। তাঁর আমলেই কিনা পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে একদল লুম্পেন প্রকাশ্যে নারী নিগ্রহের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে, ভাবা যায়! ভোটে জিততে বা রাজনৈতিক ক্ষমতা কায়েম রাখতে নারীনিগ্রহের মতো ঘৃণ্য কাজে তৃণমূলের একাংশকে লিপ্ত হতে হবে? কী দেখলাম আমরা দু’দিন পর পর হুগলির আরামবাগ, আর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে, মনোনয়ন পেশ আটকাতে জনাকয়েক পুরুষ মিলে রাস্তায় ফেলে বিরোধী দলের মহিলা কর্মীকে পেটাচ্ছেন!

প্লিজ, হঠাৎ করে অজুহাত খাড়া করতে কেউ এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালাবেন না। ‘বদলা নয়, বদল চাই’— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্লোগান তথা নির্দেশ ২০১১ সাল থেকে তো প্রায় অক্ষরে অক্ষরে মেনেছেন রাজ্যের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তা হলে আজ কেন নারীনিগ্রহের মতো ঘৃণ্য কাজকে হাতিয়ার করতে হবে ক্ষমতা ধরে রাখতে? নিকট অতীতে কি দেখিনি, একটা কৃষক আন্দোলনকে দমন করতে সিঙ্গুরে তৎকালীন শাসক সিপিএম ও পুলিশের নারী ও শিশু নিগ্রহ? মনে নেই কৃষক-কন্যা তাপসী মালিকের ধর্ষণ, খুন? বানতলা, ধানতলায় ধর্ষণ, খুনের ঘটনা কারও তো ভুলে যাওয়ার
কথা নয়। এই সে দিন, ২০০০ সালের আশপাশে, উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার সুটিয়া গ্রামে রাজনৈতিক মদতে পুষ্ট লুম্পেনদের হাতে এক বছরে লাগাতার কত জন মহিলা ধর্ষিত হয়েছিলেন, ভুলে যাওয়ার তো কথা নয়। তখনকার শাসক সিপিএমের আজ কী হাল হয়েছে, তা সবাই দেখছেন। এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে তো বর্তমান শাসকের অনেক বেশি সতর্ক থাকা দরকার।

সমীর সাহা, শ্রীরামপুর, হুগলি

Advertisement

বেহাল রাস্তা

হাওড়া জেলার আমতা ১নং ব্লকের অধীন আমতা থেকে বালিচক পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১০ কিমি পাকা রাস্তাটি বর্তমানে বেহাল দশা প্রাপ্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির উপর দিয়ে প্রতি দিন অসংখ্য ট্রেকার, মোটর বাইক, সাইকেল, টোটো, ইঞ্জিনভ্যান, মোটরগাড়ি ইত্যাদি যাতায়াত করে। দীর্ঘ রাস্তাটি জুড়ে প্রচুর ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সর্বত্রই পিচ উঠে গিয়েছে। এর ফলে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে, অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। প্রায় প্রতি বছরই বন্যার সময় এই রাস্তাটিই অনেকগুলি গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে।

অসীমকুমার মিত্র, রসপুর, হাওড়া

সেতু চাই

আসানসোল শহর এবং সালতোরা (বাঁকুড়া) ব্লক, সাঁতুড়ি (পুরুলিয়া) ব্লক একদম পাশাপাশি, কিন্তু মাঝে দামোদর নদ এই দুই ব্লককে আসানসোল থেকে আলাদা করে রেখেছে। সালতোরায় আছে বাঁকুড়ার উচ্চতম পাহাড় বিহারিনাথ সমেত বিস্তীর্ণ পাহাড় ও জঙ্গল, যা বহু দিন ধরে পর্যটক আর্কষণ করে আসছে। এলাকাটিকে আরও আকর্ষক করতে হলে বিহারিনাথের কাছে দামোদরে চাই পাকা সেতু।

সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, তিলুরি, বাঁকুড়া

নাকের ডগায়

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৪১নং জাতীয় সড়কে রাধামণির কাছে থাকা টোল প্লাজা এড়াতে ভারী মাল বোঝাই লরি ও টুরিস্ট বাস-সহ অজস্র যানবাহন সন্ধে থেকে ভোর পর্যন্ত নন্দকুমার ও মেচেদার মধ্যে রাজ্য সড়ক ধরে যাতায়াত করে। নিষেধ অগ্রাহ্য করে পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নাকের ডগায় এ সব চলছে। ফলে তমলুক ও আশপাশের জনবহুল এলাকার মানুষজনকে অতিরিক্ত দূষণের শিকার হতে হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সাম্প্রতিক কালে শুধু নন্দকুমার এলাকায় পৃথক পৃথক দুর্ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

শমীকরঞ্জন সামন্ত, পূর্ব মেদিনীপুর

সেই ট্র্যাডিশন

সুমন নাথ (‘আলু চাষ, সরকারি নীতি’, ১০-৪) একটি জরুরি বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। হুগলি জেলার আলু চাষ আর আলু-চাষিদের যাঁরা খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা জানেন আলু চাষ নিয়ে সরকারের যেটি নীতি, সেটি আসলে দুর্নীতির নামান্তর। আর অনেক বিষয়ের মতো এই দুর্নীতির পরম্পরা বামফ্রন্টের আমল থেকেই চলে আসছে। খেত থেকে আলু যখন ওঠে, চাষি তাঁর ফসলের কিছু অংশ কম দরেই বিক্রি করে দেন তাঁর চাষের খরচের কিছুটা সুরাহা করতে। এটি তাঁর অভাবী বিক্রি। বাকিটা চেষ্টা করেন হিমঘরে জমা রাখতে, দাম বাড়লে বিক্রি করবেন এই আশায়। হিমঘরে আলু রাখতে গেলে বন্ড লাগে। হুগলি জেলায় হিমঘর অনেকগুলি। কিন্তু আলুচাষ তুলনায় আরও অনেক বেশি।

আর এই অবস্থার সুযোগ নেয় হিমঘর মালিক আর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। কে বন্ড পাবে আর কে বন্ড পাবে না, তা নির্ভর করে চাষিদের রাজনৈতিক আনুগত্যের উপর। আমি এমন বহু চাষিকে জানি, যাঁরা বামফ্রন্টের আমলে হিমঘরে আলু রাখার বন্ড পেয়েছিলেন বামফ্রন্টে দাসখত দিয়ে। যাঁরা তা দেননি, তাঁরা হিমঘরে আলু রাখার জায়গা পাননি। অনেকে ফসলের সবটাই অভাবী বিক্রি করেছেন, অনেকে খেত থেকে আলু তুলে সবটাই খেতে ঢেলে দিয়ে এসেছেন। বাকিরা ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেছেন!

তৃণমূলের আমলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে। এ কথা ঠিক, চাষিরা এখন অতটা হিমঘর-নির্ভর নন। ভিনরাজ্যে আলু রফতানির সুযোগ অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমানো যায়নি। কমানো যায়নি রফতানির পরিবহণে সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার ব্যাপারে পার্টি অফিসের খবরদারি। পরিবহণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে অনেক তৃণমূল নেতা দু’পয়সা কামিয়েও নিচ্ছেন। তাই আলু চাষে উৎসাহদান আসলে আর কিছুই নয়, সরকারের ভোটার গোছানোর খুড়োর কল।

অরবিন্দ সামন্ত, দমদম পার্ক

বাসস্ট্যান্ড নেই

আমি এয়ারপোর্ট ২নং গেটের বাসিন্দা। এখানে যশোর রোডের ওপর অপেক্ষমাণ বাসযাত্রীদের জন্য আপ এবং ডাউন উভয় দিকেই কোনও পাকা বাসস্ট্যান্ড নেই। রোদে ও বৃষ্টিতে খুব দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে।

নিরূপম সিন্হা, কলকাতা-৭৯

মশার হামলা

হাওড়া-মাকড়দহের ও ডোমজুড়ের গ্রামের মানুষদের অনেকেরই হঠাৎ করে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে। দিনেরাতে মশারি ছাড়া ঘরের মধ্যে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। ধূপধুনো বা মশার কয়েল জ্বালিয়ে কোনও কাজ হচ্ছে না। আগে তো দেখতাম বর্ষার আগে বা শেষে নালা-নর্দমায় ও বাড়ির চার পাশে মশা মারার জন্য স্প্রে ছড়ানো হচ্ছে। এখন তা হচ্ছে না কেন?

রমা বন্দ্যোপাধ্যায়, মাকড়দহ

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

আরও পড়ুন

Advertisement