যাহা ৫৩ তাহাই ১

‘১ নং, না ৫৩ নং?’ (২৮-৭) শীর্ষক পত্র প্রসঙ্গে জানাই, গত ১ বৈশাখ ‘পূর্বা’ প্রকাশন থেকে আমার সম্পাদিত ‘শ্রীঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রণীত/ বর্ণপরিচয়/ বিলুপ্ত প্রথম ও শেষ সংস্করণের দুর্লভ পাঠ উদ্ধার’ শীর্ষক যে-বইটি প্রকাশিত হয়, তাতে আমি বলেছি, ২০০৯ সালে বেঙ্গল শেল্টার থেকে বিনয়ভূষণ রায়ের সৌজন্যে ‘বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ’-এর ৫৩তম মুদ্রণের যে ফ্যাকসিমিলি এডিশন প্রকাশিত হয়, সেটিই বিদ্যাসাগরের জীবৎকালে মুদ্রিত ‘বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ’ পুস্তকের একমাত্র প্রাপ্ত নিদর্শন। বিদ্যাসাগরের জীবৎকালে ‘বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ’-এর বহু মুদ্রণ ছাপা হলেও, সংস্করণ মাত্র দু’টি। এক, প্রথম মুদ্রণ বা প্রথম সংস্করণ, এবং দুই, ১৮৭৫-এ প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণ বা ৬০তম মুদ্রণ। সে কালে রিপ্রিন্ট আর এডিশন উভয়কেই সংস্করণ বলা হত। তাঁর জীবৎকালে এই বইয়ের শ’দেড়েক মুদ্রণে পঁচিশ লক্ষ কপি ছাপা হয়। 

‘প্রথম ভাগ’ বইয়ের ১-৫৯ মুদ্রণ পর্যন্ত প্রথম মুদ্রণ তথা প্রথম সংস্করণে ছাপা বিদ্যাসাগর স্বাক্ষরিত প্রথম ‘বিজ্ঞাপন’টিই (ভূমিকা) পুনর্মুদ্রিত হয়ে এসেছে। বিদ্যাসাগর এই বইয়ের প্রথম সংস্কার করেন বই প্রকাশের কুড়ি বছর পর, ষাটতম মুদ্রণপর্বে। প্রথম মুদ্রণে ‘শ্রীঈশ্বরচন্দ্রশর্ম্মা’ স্বাক্ষরিত প্রারম্ভিক ভূমিকার শিরোনাম ছিল ‘বিজ্ঞাপন’। তারিখ ‘১লা বৈশাখ, সংবৎ ১৯১২।’ তিপ্পান্ন মুদ্রণেও বিজ্ঞাপন পৃষ্ঠাটি একই রূপ। ষাটতম মুদ্রণে এসে বিদ্যাসাগর বইটির প্রথম সংস্কার করলেন এবং প্রথম ‘বিজ্ঞাপন’-এর নীচে ‘ষষ্টিতম সংস্করণের বিজ্ঞাপন’ যুক্ত করলেন ‘শ্রীঈশ্বরচন্দ্র শর্ম্মা’ স্বাক্ষরে। তারিখ মুদ্রিত আছে ‘১লা পৌষ, সংবৎ, ১৯৩২।’ এই প্রথম সংশোধিত সংস্করণের প্রথম স্তবকেই তিনি লিখলেন, ‘‘আবশ্যক বোধ হওয়াতে এই সংস্করণে, কোনও কোনও অংশ পরিবর্ত্তিত হইয়াছে; সুতরাং সেই সেই অংশে, পূর্ব্বতন সংস্করণের সহিত, অনেক বৈলক্ষণ্য লক্ষিত হয়।’’ সত্যিই, নানা পাঠে প্রভেদ অনেকটাই। এই সংশোধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বা ষষ্টিতম মুদ্রণই বিদ্যাসাগরের মৃত্যুকাল পর্যন্ত পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। 

যে হেতু বিদ্যাসাগর মহাশয় ষষ্টিতম মুদ্রণের আগে এই বইয়ের কোনও সংশোধন পরিমার্জন করেননি; তাই, ষাটের পূর্বে সংবৎ ১৯৩১-এর যে তিপ্পান্নতম মুদ্রণটি আমরা পেয়েছি— সেই পুনর্মুদ্রিত পুস্তকের পাঠটিকে প্রথম মুদ্রণেরও পাঠ রূপে ধরে নিতে কোনও অসুবিধে থাকতে পারে না। ষাটের পূর্বে এক মুদ্রণের যে-পাঠ, উনষাট মুদ্রণের সেই পাঠ, তিপ্পান্ন মুদ্রণেরও সেই পাঠ। ‘বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ’-এর (১৮৫৫ খ্রি) যে প্রথম সংস্করণ আমাদের কাছে এত কাল অপ্রাপ্য ছিল, সেই প্রথম সংস্করণের কোনও কপি খুঁজে পাওয়ার কোনও দাবি আমি কখনও করিনি; আমি শুধু হারিয়ে যাওয়া প্রথম সংস্করণের দুর্লভ পাঠ সুনিশ্চিত ভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছি। ‘বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ’ বইয়ের এই পাঠই রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাল্যকালে ১৮৬৪-৬৫ সাল নাগাদ সোমেন্দ্রনাথ সত্যপ্রসাদের সঙ্গে পড়েছিলেন। তিপ্পান্ন মুদ্রণের পূর্বে কোনও বিশেষ পরিবর্জন পরিমার্জন করা হয়ে থাকলে তিপ্পান্ন মুদ্রণে অবশ্যই নূতন বিজ্ঞাপনে তার উল্লেখ করা থাকত। সামান্য পরিবর্তন করলেই বিদ্যাসাগর নূতন বিজ্ঞাপন যুক্ত করতেন। ‘বোধোদয়’-এ তার প্রমাণ আছে।

‘বর্ণপরিচয়’-এর বহু জাল বই বেরিয়েছে; এমনকি বিদ্যাসাগরের জীবৎকালেও। আমি আমার বইয়ের ভূমিকায় বলেছি, ‘‘আমাদের গবেষণা জাল-জালিয়াতিদের নিয়ে নয়।’’ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি ২০০৬ সালে ‘বাংলা প্রাইমার সংগ্রহ’ বলে যে-বইটি প্রকাশ করে, তাতে জাল সংক্ষেপিত পরিবর্তিত ‘বর্ণপরিচয়’ মুদ্রিত হয়েছে। এই কারণেই আমি আমার বইতে ইচ্ছা করেই ওই বইয়ের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে চাইনি। পাতায় পাতায় ত্রিপঞ্চাশ সংস্করণ ও একাদশ সংস্করণের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত। টাইটেল পেজ থেকে শেষ পৃষ্ঠা— প্রতি পাতায় ভিন্নতা। ‘একাদশবার মুদ্রিত’ বইয়ের ‘২০’ পাঠের প্রথম ছত্র: ‘গিরিশ কালি তুমি পড়িতে এস নাই কেন।’ অপর দিকে তিপ্পান্ন মুদ্রণ, ষাট মুদ্রণ (দ্বিতীয় সংস্করণ) ও বিদ্যাসাগরের মৃত্যুর পর প্রচলিত ‘বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ’-এর ‘২০’ পাঠের প্রথম ছত্র: ‘গোপাল যেমন সুবোধ, রাখাল তেমন নয়।’ একাদশ বারের মুদ্রিত বইতে গোপাল রাখালের অস্তিত্বমাত্র নেই, পরিবর্তে নূতন চরিত্র উদয় বেণী শশী সদয় উপস্থিত হয়েছে। এই বইয়ে বিদ্যাসাগরের প্রথম মুদ্রণের ‘বিজ্ঞাপন’-এরও পাঠপরিবর্তন আছে। তারিখ ‘১লা বৈশাখ, সংবৎ ১৯১২’র পরিবর্তে ‘১৬ই আষাঢ়। সংবৎ ১৯১২।’ অর্থাৎ এর দ্বিতীয় ভাগের (১লা আষাঢ়, সংবৎ ১৯১২) পর প্রথম ভাগ প্রকাশিত হয়েছে! আকাদেমি প্রকাশিত টাইটল পেজও সম্পূর্ণ আলাদা। চিরকাল যে বইয়ের দাম ছিল এক আনা, এখানে ‘মূল্য দুই পয়সা মাত্র’। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে বেরিয়েছে বলেই যে তাকে চোখ বুজে প্রামাণিক বলে মেনে নিতে হবে— এমন সংস্কার আদৌ আমার নেই। যা ভ্রান্ত নকল জাল, তাকে ভ্রান্ত নকল জাল বলে পরিত্যাগ করতেই হবে। 

‘বর্ণপরিচয়’-এর ব্যবসা ভাল বলে বিদ্যাসাগরের জীবৎকাল থেকেই এ বইয়ের যে কত জাল নকল সংস্করণ বেরিয়েছে, তার বিস্তৃত হদিস পাওয়া যাবে ‘বইয়ের দেশ’ ২০১৭ জুলাই-সেপ্টেম্বর সংখ্যায় মুদ্রিত ‘ঈশ্বরের নামে জালিয়াতি’ শীর্ষক আবীর করের প্রবন্ধে। 

অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য

শান্তিনিকেতন

বটুকেশ্বর

ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী লিখিত ‘বর্ধমান এ বার বটুকেশ্বর’ (২৮-৭) প্রসঙ্গে জানাই, বটুকেশ্বর দত্তের একমাত্র উত্তরসূরি তাঁর কন্যা ভারতী দত্ত বাগচি। তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর উত্তরাধিকার স্বত্ব সরকারকে দান করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বটুকেশ্বর দত্তের জন্মভিটাকে হেরিটেজ ঘোষণা করে ৮৫ লক্ষ টাকা অনুমোদন করে। এটিকে ঘিরে নির্মাণ হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র। এর জন্য একটি কমিটি ও ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে। ট্রাস্টের মূল কর্ণধার হলেন মাননীয় বিডিও। সরকারি তত্ত্বাবধানেই পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। গ্রামে তাঁর নামে কোনও লাইব্রেরি নেই।

মধুসূদন চন্দ্র

ওয়াড়ি, পূর্ব বর্ধমান

স্টেশনের নাম

আজ থেকে কয়েক বছর আগে গোবরডাঙা স্টেশনে দুষ্কৃতীদের গুলিতে শহিদ হন কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের বাংলার শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। নব্বইয়ের দশকে কুখ্যাত সুটিয়া অঞ্চলের দুষ্কৃতী-রাজের বিরুদ্ধে একাই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তাঁর স্মৃতিতে গোবরডাঙা রেলওয়ে স্টেশনের নাম রাখা হোক ‘শহিদ বরুণ বিশ্বাস স্টেশন’। 

জ্যোতি প্রকাশ ঘোষ

গোবরডাঙা, উত্তর ২৪ পরগনা

বসার জায়গা?

আদালতের নির্দেশে ফুটপাতে গাছের চার পাশের বেদি ভাঙা শুরু হয়েছে। ভাল কথা। কিন্তু ওই বেদি তো অনেক পথচলতি শ্রান্ত মানুষের বসার জায়গাও ছিল। বিশেষত বয়স্ক ও শিশুরা দু’দণ্ড জিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতেন। ফুটপাতে তা হলে বসার জায়গা আরও বাড়ানো হোক। 

মধুমিতা রায়

কলকাতা-৩৩