‘আর, ধর্মীয় মানবতা?’ (৬-৬) শীর্ষক প্রতিবেদনে গৌতম চক্রবর্তী লিখেছেন, ‘‘দেশের প্রথম মহিলা স্কুল, প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খ্রিস্টান জন ড্রিঙ্কওয়াটার বিটন, হিন্দু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মদনমোহন তর্কালঙ্কার ও রামগোপাল ঘোষ।’’ বেথুন সাহেব ১৮৫৯ সালে কলকাতায় ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার অবৈতনিক সম্পাদক নিযুক্ত হন। প্রথমে মাত্র ২১ জন ছাত্রী নিয়ে এই স্কুল শুরু হয়, যার মধ্যে মদনমোহন তর্কালঙ্কারের দুই কন্যা ভুবনবালা ও কুন্দমালা ছিলেন।

এই স্কুল প্রতিষ্ঠার দুই বছর আগে, ১৮৫৭ সালে, গণ্ডগ্রাম বারাসতের সম্ভ্রান্ত বাঙালিদের উদ্যোগে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন প্রসিদ্ধ শিক্ষাবিদ প্যারীচরণ সরকার ও বারাসতের স্বনামধন্য ব্যক্তি কালীকৃষ্ণ মিত্র ও তাঁর ভাই নবীনকৃষ্ণ মিত্র। এই বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্যারীচরণ ও তাঁর সহযোগীদের, তৎকালীন কূপমণ্ডূক সমাজের অন্ধ কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের কাছে কম হেনস্থা সহ্য করতে হয়নি। প্যারীচরণের চরিতাকার নবকৃষ্ণ ঘোষ লিখেছেন, ‘‘...প্যারিবাবু নবীনকৃষ্ণ বাবু এবং বালিকা বিদ্যালয়ের শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তিগণ বারাসতে সমাজচ্যুত হইয়াছিলেন...’’

এরও অনেক বছর আগে, ১৮১৯ সালের মাঝামাঝি, ‘ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি’ নামে একটি খ্রিস্টান মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ও কলকাতার নন্দন বাগান, গৌরীবেড়ে, জানবাজার প্রভৃতি অঞ্চলে স্ত্রীশিক্ষা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ১৮২৪ সালে চার্চ মিশনারি সোসাইটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘লেডিস সোসাইটি ফর নেচার ফিমেল এডুকেশন ইন ক্যালকাটা অ্যান্ড ইটস ভিসিনিটি’। 

ইতিমধ্যে ১৮২১ সালে এ দেশে স্ত্রীশিক্ষা প্রচলনের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন মেরি অ্যানে কুক। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে ও চেষ্টায় কলকাতা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে আটটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়, যেমন ঠনঠনিয়া স্কুল, মির্জাপুর স্কুল, মল্লিক বাজার স্কুল ইত্যাদি। মিস কুকের স্কুলগুলি শহরের চার দিকে বলে, চার্চ মিশন একটি কেন্দ্রীয় বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনে উদ্যোগ করে এবং মিস কুককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৮২৬ সালের ১৮ মে কর্নওয়ালিস স্কোয়ারে এই বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং কার্যারম্ভ হয় ১৮২৮ সালের ১ এপ্রিল। 

পুলকেশ রায়

কলকাতা-৮৪

জাতের নামে

‘জাত তুলে নিগ্রহ প্রমাণিত হলেই কড়া শাস্তি: পার্থ’ (১৯-৬) শীর্ষক প্রতিবেদন পড়লাম। সেই রামায়ণের শম্বুকহত্যা আর মহাভারতে সূতপুত্র কর্ণ নিগ্রহ থেকে শুরু করে, আধুনিক কালে চুনী কোটাল হত্যা এবং সম্প্রতি রবীন্দ্র ভারতীর শিক্ষক নিগ্রহ পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় ধরে আমরা সবাই, উঁচু জাত নিচু জাত, পূজ্য অস্পৃশ্য নির্বিশেষে, ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতি গর্বের সঙ্গে প্রতিপালন ও পরিপোষণ করে আসছি। এমনকি শম্বুকের উত্তরপুরুষ, অর্থাৎ নিম্নবর্গের জনগণ, তাঁদের পিতৃপুরুষের হত্যাকারীর নামে জয়ধ্বনি করতে করতে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক মিটিং-মিছিল করেন। তাঁর মন্দিরে পূজা করার অধিকার লাভের দাবি করে আন্দোলন করেন। যে অধ্যাপকরা নিগৃহীত হয়েছেন, হয়তো দেখবেন তাঁরা নিগ্রহকারীদের জাতেরই কাউকে পারিবারিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করতে নিয়োগ করছেন এবং আশীর্বাদ চাইছেন।

কেন এই স্ববিরোধী মানসিকতা? বিদ্যাসাগর বলেছিলেন, ‘‘যারা গতানুগতিকতাকে মনে করে সমাজনীতি, তাদের মধ্যে ভাব জন্মায় বর্তমান সমাজ চিরদিন এমন ছিল এবং এমন থাকবে।’’ বহু বছর বাদে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ববিজ্ঞানী পিটার কাহন বলেন, ‘‘প্রতিটি প্রজন্ম যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে সেটা যতই রিক্ত, যতই কলুষিত হোক না কেন, সেটা তার কাছে আদর্শ বিশুদ্ধ পরিবেশ।’’

আমার এক সহকর্মী উচ্চপদস্থ সরকারি আমলা ওঁর ভাইয়ের সঙ্গে আমার বোনের বিবাহপ্রস্তাব নাকচ করে বলেছিলেন, ওঁরা নাকি আমার চেয়েও নিম্নজাতির মানুষ। আমার বোনকে বিয়ে করলে ওঁদের পাপ হবে। আমার এক ব্রাহ্মণী আত্মীয়া তাঁর শূদ্রাণী বেহান দিদি, অর্থাৎ তাঁর নিজ নাতির দিদাকে, ছোঁয়াছুঁয়ির ভয়ে তাঁদের রান্নাঘরে প্রবেশ করতে দেন না। আর এক শূদ্রাণী আত্মীয়া আবার তাঁর ব্রাহ্মণ নাতিকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম ও তার পদচুম্বনের দৃশ্য ফেসবুকে গর্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন। 

জাতধর্মের মান্যতা কত সর্বগ্রাসী, সর্বজনস্বীকৃত, বুঝতে সংবাদপত্রের পাত্রপাত্রী কলামের বিজ্ঞাপনগুলিই যথেষ্ট। প্রায় সব বিজ্ঞাপনেই জাতধর্মের উল্লেখ থাকে এবং পড়লে বোঝা যায়, বিজ্ঞাপনদাতারা সমাজস্বীকৃত সভ্য মানুষ। 

অশোককুমার দাস 

কলকাতা-৭৮

এই ও সেই

সম্প্রতি জেলায় জেলায় কাটমানি ঘিরে যে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে, তা ২০০৭ সালে রাজ্যে রেশন বিক্ষোভের কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই বিক্ষোভের পিছনে অন্যতম কারণ ছিল, দিনের পর দিন এপিএল উপভোক্তাদের জন্য বরাদ্দ গম খোলাবাজারে বিক্রি হয়ে যাওয়া। ওই বিক্ষোভের উৎসস্থল ছিল বাঁকুড়া জেলার এমন একটি ব্লক, যা ছিল বামেদের দুর্জয় ঘাঁটি, ওখানে পঞ্চায়েতের প্রতিনিধির দেওয়া সুষ্ঠু রেশনদ্রব্য বিলির শংসাপত্র ছাড়া পরবর্তী রেশনদ্রব্য বরাদ্দ হত না। ক্রমে ওই বিক্ষোভ গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বহু জায়গায় বিক্ষোভকারীরা সুবিধাভোগী রাজনৈতিক নেতাদের ও অসাধু রেশন-ডিলারদের নিগ্রহ করে, দু-এক জন ডিলার অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে আত্মঘাতী হয়, অনেকে রেশনদ্রব্য খোলাবাজারে বিক্রি করেছে এই মর্মে লিখিত স্বীকারোক্তি ও বিক্ষোভকারী দ্বারা নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে পরিত্রাণ পায়। রেশন-ডিলারদের মধ্যে পদত্যাগপত্র দাখিল করার হিড়িক পড়ে যায়। এই বিক্ষোভ ছিল বাম শাসনের পক্ষে একটি অশনি সঙ্কেত। কাটমানি-বিক্ষোভে এমন সঙ্কেত আছে কি?

জয়দেব জানা

কলকাতা-৮

তারিখ ভুল

‘স্মিথকে বিদ্রুপ নয়, বার্তা কোহালির’ (১০-৬) সংবাদে লেখা হয়েছে, লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে, ইংল্যান্ডে ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘...আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই ১৯৫৩ সালে আমরা কিন্তু প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতি।’’ ভারত প্রথম টেস্ট ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতেছিল ঠিকই, কিন্তু ১৯৫২ সালে। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সেই টেস্টে ভারত এক ইনিংস ও ৮ রানে ইংল্যান্ডকে হারায়।

সজলকান্তি ঘোষ

বারুইপুর

বিজ্ঞাপনের ঠেলা

ইদানীং টিভিতে বিজ্ঞাপন এত বেশি দেখানো হচ্ছে, দর্শকেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। ৩০ মিনিটের অনুষ্ঠানে বোধহয় ১৫ মিনিট প্রকৃত অনুষ্ঠানটার জন্য বরাদ্দ, বাকি সময় শুধু বিজ্ঞাপন, এক-একটা বিজ্ঞাপন আবার চার-পাঁচ বার করে দেখানো হয়। বিজ্ঞাপনের ঠেলায় টিভির প্রতি বিরক্তি জন্মাচ্ছে। 

চন্দ্রনাথ ভড়

আঁটপুর, হুগলি

সেই বিচার?

প্রায় সবাই এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের ঘটনায় বিচার পেয়েছে। কুকুরছানা, জুনিয়র ডাক্তার। শুধু কোরপান শাহ বাদে! তাঁর হত্যা মামলার কী খবর? 

ইন্দ্রজিত ঘোষ

কলকাতা-১২৯

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।