‘সব নটেগাছই কি মুড়োল’ (৮-২) প্রবন্ধে সেমন্তী ঘোষ সিবিআই বনাম কলকাতা পুলিশের অভূতপূর্ব প্রকাশ্য কুনাট্যের প্রেক্ষিতে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক চালচিত্রের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে সাধারণ মানুষের বিপন্ন বোধ করার যথেষ্ট কারণ আছে। প্রাথমিক ভাবে মনে হয়, এই রকম পরিস্থিতিতে বোধ হয় আমরা সন্তানদের মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে পারব না, অবক্ষয় যে ভাবে আমাদের ঘিরে ধরেছে।

কিন্তু এটা মনে করার কোনও কারণ নেই, মোদী জমানায়, আমরা আগের জমানার থেকে বেশি বিপন্ন। ‘ইন্দিরা ইজ় ইন্ডিয়া’ যুগের ‘কমিটেড বুরোক্রাসি’ বা ‘কমিটেড জুডিশিয়ারি’কে যদি ভারত অতিক্রম করতে পারে, মোদীযুগের বিদ্বেষ-বিষবাষ্পের জটাজাল ছিন্ন করেও বেরোতে পারবে ভারত। 

সব ঘটনাতেই রাজনীতির রং লাগছে এখন। সেটা দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তই হোক, বা সরকারি উচ্চপদে নিজের লোক বসানো। কোনওটাই জনগণের বিপন্নতার কারণ হতে পারে না। চিরকাল এমনটাই হয়ে এসেছে, ভবিষ্যতেও হবে। কারণ, প্রতিটি শাসক শ্রেণিরই নিজস্ব অনুগত শ্রেণি থাকে, যার পোশাকি নাম ক্ষমতাবৃত্ত। সেই বৃত্তে বিচরণকারীরা জনগণের সমীহ এবং সম্ভ্রম আদায় করে নেন।

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের যে নীতির উপর গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে, তা হল আইনবিভাগ, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগের মধ্যে ক্ষমতার সুষম বণ্টন। রাজনৈতিক চাপের কাছে বিচারবিভাগের নতিস্বীকার কারওরই অজানা নয়। এমনও নয় যে ‘জাস্টিস ডিলেড ইজ় জাস্টিস ডিনায়েড’ কথাটা আমরা কোনও দিন শুনিনি। 

তবে ২০১৮-র জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের চার বিচারপতির সাংবাদিক সম্মেলন বেনজির। ওই বছরেই ইয়েদুরাপ্পার শপথগ্রহণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রাত্রিকালীন বিশেষ অধিবেশনও অভূতপূর্ব। তবে এতেও কোনও বিপন্নতা নেই।

তা হলে বিপন্নতা কোথায়? যে বিমুদ্রাকরণ নিয়ে এত কথা লেখা হল, যেটা নাকি ভারতীয় অর্থনীতিকে রসাতলে নিয়ে গিয়েছে, বহু মানুষের মৃত্যু ও বেকারিত্বের কারণ হয়েছে, সেটাকে থামানোর জন্য আপৎকালীন ব্যবস্থা করা হল না কেন? সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল শাসনক্ষমতার অধিকারী হলেও, সমগ্র ভারতবাসীর প্রতিনিধি তারা তো নয়। সেখানেই তো বিরোধীদের পরিসর। এত বড় একটা সিদ্ধান্ত, যার সঙ্গে ১০০ শতাংশ ভারতবাসীর ভাগ্য জড়িয়ে আছে, বিরোধীদের অন্ধকারে রেখে এত দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ যদি এত সহজে করা যায়, তা হলে সাংবিধানিক মান্যতা নিয়ে তাত্ত্বিক কচকচি করে লাভ আছে কি? 

এর পরে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ক্ষমতা খর্বই হোক, বা অন্য কোনও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা, বিচারের বাণী যে নীরবে নিভৃতে কাঁদবে তাতে সংশয়ের অবকাশ কোথায়? বিপন্নতা তাই ওই জায়গাতেই— আমি অতি ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ, এই বোধ। প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের কোনও পরিসর তৈরি করাই সম্ভব নয়।

প্রতিবাদীর নিধনে সেই বিপন্নতা জাগে না, যতটা জাগে এক যুগের প্রতিবাদীকে অন্য যুগে স্তাবকতা করতে দেখে। ভোটের মুখে দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্তের ‘টাইমিং’ দেখে বিপন্নতা গ্রাস করে না। বিজয় মাল্য, নীরব মোদী, মেহুল চোক্সীদের বিদেশে পালাতে দেখলেও বিপন্নতা আচ্ছন্ন করে না। বিপন্ন লাগে, যখন এক আইপিএস বা আইএএস অফিসার দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েও রাজনৈতিক পালাবদলের সুযোগ নিয়ে অন্য দলের ও শাসনের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। 

আসলে এই প্রতিবাদী হয়ে ওঠারও একটা ‘টাইমিং’ আছে। নিজের আখের গোছানোই যার মূল কথা। সেটা হয়ে গেলেই আবার বদল। ন্যায়-নীতি, আদর্শের বুলি কপচানোর অন্তঃসারশূন্যতা উপলব্ধি করে বিপন্নতা জাগে। মাঝে মাঝেই মনে হয়, ‘রুলস ফর দ্য ফুলস’।

সাংবিধানিক অমান্যতায় জনগণের প্রাত্যহিকতার বিপন্নতা ধরা পড়ে না।

আমাদের দেশে আগের সরকারের রিট পরের সরকার মানে না। তাই সীতার অগ্নিপরীক্ষার দেশে জনগণকে বার বার পরীক্ষায় বসতে হয়। তার নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য। জন্মের নথি, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স... এগুলো তো রাষ্ট্রেরই দেওয়া কাগজ। তবুও জনগণের পরীক্ষার শেষ নেই। কারণ কোনও সরকারই তার আগের সরকারের দেওয়া কাগজকে বিশ্বাস করে না। আর সরকার চালায় তো ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া রাজনৈতিক দল। তাই শেষ বিচারে গণতন্ত্রের অনুশীলন কার্যত দলতন্ত্রের শাসন। 

ইতিহাসে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের অস্তিত্ব ছিল। প্রজাকল্যাণমূলক স্বৈরাচারের কথাও অজানা নয়। সম্রাট অশোক, শেরশাহ, মহামতি আকবর। এখনও সেই রাজতন্ত্রই চলছে। মোড়কের আড়ালে। গণতন্ত্রের পিঠে চেপে। স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রে এক জনের কথাই প্রকাশ্যে শেষ কথা ছিল। এখন সেই জায়গাটা নিয়েছে একটি ক্ষমতাবৃত্ত। জনগণ সেই আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে আছে। তার দুর্দশাই একমাত্র ধ্রুবপদ।

তাই গণতন্ত্রের যে স্তম্ভগুলোকে আগে মজবুত বলে মনে হত, এখন তারা ভঙ্গুর, এই রকম সিদ্ধান্ত টানার অর্থ আত্মপ্রবঞ্চনা। দক্ষিণ এশিয়ায় যে দেশগুলিতে ভারতের মতো সুস্থিত গণতন্ত্রের অস্তিত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা খুঁজে পান না, সেখানে মানুষ আর কত খারাপ আছে জানতে ইচ্ছে করে। তেমনি ইউরোপ-আমেরিকায় উন্নত গণতন্ত্রে মানুষ আর কত ভাল আছে, তা জানতে পারলে তবেই বলা যাবে, আমরা এই মুহূর্তে বেশি বিপন্ন কি না।

পার্থ প্রতিম চৌধুরী

কোন্নগর, হুগলি

একটিই বাস


 আসানসোল থেকে নিয়ামতপুর-ডিসেরগড়-পারবেলিয়া (পুরুলিয়া)-সড় বড়ি মোড়-মধুকুন্ডা-তিলুরি (বাঁকুড়া)-শালতোড়া-বাঁকুড়ার বাস চালানো হোক। এই রুটে মাত্র একটি বাস চলে। 
সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়
তিলুরি, বাঁকুড়া

খাবে কী?


এ বারের আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তক মেলায় গিয়ে দেখি, এক কাপ চায়ের দাম ন্যূনতম ১০ টাকা। এক পিস শিঙাড়ার দাম ২০ টাকা। বলি, বইমেলায় কি শুধু বিত্তবানরাই যান, নিম্নবিত্ত, গরিব, পুস্তকপ্রেমীরা যান না? যদি তাঁদের চা, শিঙাড়া খেতেই টাকা খরচ হয়ে যায়, তা হলে তাঁরা বই কিনবেন 
কী দিয়ে? মেলা কর্তৃপক্ষ এ দিকটি বিবেচনা করুন।  
মেলা কর্তৃপক্ষ এক দিকে বইমেলায় প্রবেশমূল্য তুলে দিয়েছেন। অন্য দিকে ঘাটতি মেটাতে খাবারের স্টল থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার ফলে, খাবারের দাম বেশি রাখতে বাধ্য হন দোকান মালিকগণ। শেষে ক্রেতারা ফাঁপরে পড়েন।
অতীশচন্দ্র ভাওয়াল
কোন্নগর, হুগলি

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

ভ্রম সংশোধন

‘ইতিহাসকে সঙ্গী করেই বন্দি-শূন্য লাল বাড়ি’ (কলকাতা, পৃ ১৩, ২০-২) শীর্ষক খবরে লেখা হয়েছে এই জেলেরই দোতলায় আট নম্বর সেলে ১৯৩৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বন্দি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। ১৯৩৪ সালের বদলে ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অগস্ট পর্যন্ত পড়তে হবে। 
 ‘কেন্দ্রের ডিএ বৃদ্ধি’ (পৃ ১, ২০-২) শীর্ষক সংবাদটিতে কিছু সংস্করণে ২ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়ছে বলে লেখা হয়েছে। তা ছাড়া সমস্ত সংস্করণেই ওই মহার্ঘ ভাতা ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ডিএ বাড়ছে ৩ শতাংশ এবং তা কার্যকর হবে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
 ‘নতুন সিপি অনুজ...’ (পৃ ১, ২০-২) প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘সিআইডি-র ডিআইজি হিসাবে রাজীবই (রাজীব কুমার) এখন সেই সব মামলা দেখভাল করবেন।’ প্রকৃত তথ্য হল— রাজীব কুমারকে এডিজি (সিআইডি) পদে নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। 
অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।