নষ্ট হতে বসেছে বর্ধমানের ঐতিহ্যপূর্ণ রাজবাড়ির ঘড়ি। রাজকাছারি (অঞ্জুমান ভবন)-এর শীর্ষে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষ প্রাচীন ঘড়িটি। যেটি প্রায় বছর দুয়েক বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। 

বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদের ঘড়ির কালেকশন ছিল দেখার মতো। রাজবাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তিনি নানা মডেলের দেশি-বিদেশি ঘড়ি লাগিয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল বেনসন টাওয়ার ক্লকটি। এই ঘড়ির ঘণ্টাধ্বনিতে এক সময় বর্ধমানবাসীদের ঘুম ভাঙত। সারা দিনের রুটিনও ঠিক হত ঘড়িটিকে ঘিরে। এমন ভাবে লাগানো হয়েছিল ঘড়িটিকে, যাতে বর্ধমান শহরের যে কোনও প্রান্ত থেকে ঘড়িটিকে দেখতে কারও অসুবিধা না হয়। ঘড়িটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব ছিল, এটি ১৫ মিনিট অন্তর অন্তর বেজে উঠত। সম্ভবত ঘড়িটি রাজকাছারিতে স্থাপন করা হয়েছিল ১৮৯৪ নাগাদ। 

নির্মাতা কোম্পানির নাম অনুসারে ঘড়িটি পরিচিত, তবে শোনা যায় বিজয়চাঁদের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হ্যামিল্টন কোম্পানি ইংল্যান্ড থেকে ঘড়িটি আনিয়েছিল। কলকাতা শাখা থেকে হ্যামিল্টন কোম্পানির কর্মচারীরা প্রতি সপ্তাহে রবিবার ওই ঘড়িটি-সহ রাজবাড়ির সমস্ত ঘড়িতে দম দিতে ও অয়েলিং করতে আসতেন। সংস্থাটি উঠে যাওয়ার পর সংস্থার এক বাঙালি কর্মচারী বর্ধমানে এসে কিছু দিন অন্তর বেনসন ক্লকটিতে দম দিয়ে যেতেন। ১৯৩২ সালে ঘড়িটি অচল হয়ে পড়লে মহারাজা বিজয়চাঁদ খুব অস্থির হয়ে পড়লেন। মেরামতের জন্য তিনি সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিখ্যাত ঘড়ি কোম্পানি ‘ওয়েস্ট অ্যান্ড ওয়াচ’-এর কলকাতার অফিসে চিঠি লিখলেন। কোম্পানির মেকানিক হিসেবে রাজবাড়িতে ঘড়ি সারাতে এলেন তাহের সাহেব। তিনি ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণ দামোদরের বামুনপুকুর গ্রামের লোক। ঘড়ি মেরামতকারী হিসেবে খুব নামডাক হয়েছিল সারা বাংলায়। তাঁর হাতের স্পর্শে ঘড়িটি আবার চলতে শুরু করল। 

বর্ধমানের মহারাজা উদয়চাঁদ শহর ছেড়ে সপরিবার কলকাতা চলে যাওয়ার পরেই ঘড়িটি উদাসীনতার শিকার হতে শুরু করে। বন্ধ হয়ে পড়ে থাকে দীর্ঘ দিন। ১৯৮৫ সাল নাগাদ সারানো হয়েছিল ঘড়িটিকে, কিছু কলকব্জারও পরিবর্তন ঘটানো হয়েছিল। ডায়ালের আবরণগুলি খুলে ফেলে নতুন করে রং-ও করা হয়েছিল। অন্ধকারেও যাতে ঘড়িটিকে দেখা যায়, সে জন্য শহরের এক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ঘড়ির চারি দিকে চারটি ফ্লুরোসেন্ট বাতি লাগায়। কিন্তু ঘড়ির ঘণ্টাধ্বনি চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিছু দিন চলার পর ঘড়িটি ফের স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদ নতুন করে ২০১৭-র ১২ মে এই ঘড়িটিকে ফের চালু করে। কিন্তু কয়েক মাস চলার পর এই ঘড়ি বিকল হয়ে পড়লে, তা আর সারানো হয়নি।

দেবেশ মজুমদার

রাজগঞ্জ, পূর্ব বর্ধমান

স্টেটের পেনশন

আমি এক জন বিধবা, আমার স্বামী সিএসটিসি তারাতলা ডিপোয় কর্মরত অবস্থায় গত ২১-০১-১৯৯৪ তারিখে মারা যান। তখন ওঁর সহকর্মীরা ১২৩৩.০০ টাকার একটা শ্রমিক পেনশনের ব্যবস্থা করে দেন এবং বলেন শীঘ্রই পরিবহণ পেনশন চালু হবে তখন সেই পেনশন পাবেন। কিন্তু পেনশন দীর্ঘ দিন চালু হয়েছে আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু কিছুতেই স্টেটের পেনশন পেলাম না। বর্তমানে আমি বয়সজনিত নানা রোগের শিকার। বাড়ি ভাড়া, খাওয়া, ওষুধ— সব কিছুর খরচ ওই টাকায় চালানো অসম্ভব।

আভা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা-৬০

রাস্তা খারাপ

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা পঞ্চায়েত পাকুড়তলা গ্রাম (২নং বুথ) সংলগ্ন মীরা পান্ডের বাড়ি থেকে শ্রীবল্লভপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র অবধি; দূরত্ব ১.৭ কিমি। গত কয়েক বছর ধরেই এই রাস্তা যাতায়াতের অযোগ্য। ১৯৭৪ সাল নাগাদ সেই কংগ্রেস আমলের তৈরি এই ইটের রাস্তাটি এখনও পর্যন্ত পাকা হল না।

অমিতাভ রায়

বুড়ুল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

আধারহীন

দীর্ঘ প্রায় ছ’বছর ধরে ৬-৭ বার এবং বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও আমি আধার কার্ড পাচ্ছি না। এর মাঝে আমার স্ত্রীর নামে দু’টি আধার কার্ড চলে আসে। পরে জানতে পারি একটি তার নিজস্ব বায়োমেট্রিক সংবলিত এবং অপরটিতে আমার বায়োমেট্রিক ঢুকে আছে। অবশ্য পুরোটাই আধার অপারেটরদের ‘দক্ষতা’র ফলস্বরূপ। এ বিষয়ে সব থেকে দুঃখের বিষয় আমরা দু’জন আধার রিজিয়োনাল সেন্টার রাঁচী পর্যন্ত গিয়েছি, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এখন আমি নিরাধার (নেই আধার যার) হয়ে ক্রমশ আঁধারে তলিয়ে যাচ্ছি।

গৌতম মাহাত

বলরামডিহি, ঝাড়গ্রাম

ঝুলে থাকলাম

ছাত্রাবস্থায় মেদিনীপুর থেকে বিহারে চলে আসি ১৯৭০ সালে। বিহারের এখন এ জায়গাটা ঝাড়খণ্ড। থাকতে থাকতে ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, আধার কার্ড এখানেই। এখন কাস্ট সার্টিফিকেট ঝাড়খণ্ড দিচ্ছে না; কেননা শিকড় পশ্চিমবঙ্গে। আমার পশ্চিমবঙ্গে এখন সামান্য জায়গা আছে। নিয়মিত খাজনা দেওয়া সত্ত্বেও বলছে, এখানের ভোটার কার্ড নেই, তাই কাস্ট সার্টিফিকেট দিতে পারছি না। ঝুলে থাকলাম। কোনও রাজ্য থেকে পেলাম না। পরবর্তী প্রজন্ম আর কোনও দিন পাবে না।

এ কেমন এক দেশ? যে দেশে ‘এক দেশ এক কার্ড’ চালু করছে?

রাসবিহারী মণ্ডল

ইটাবেড়িয়া, পূর্ব মেদিনীপুর

খালি হাতে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। গত ১৩ সেপ্টেম্বর মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ষষ্ঠ বেতন কমিশন ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের মাননীয় অর্থমন্ত্রী গত ২৩-০৯-২০১৯’এ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সেই ঘোষণায় সরকারি সিলমোহর দিয়েছেন। আগামী ১-১-২০২০ থেকে এই কমিশন কার্যকর হতে চলেছে, এই তারিখের উচ্চারণ আমার (অবসর ৩১-১২-২০১৯) মতো বহু মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। জীবন্মৃত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা, যাঁরা অক্টোবর ও নভেম্বরে অবসর গ্রহণ করছেন। কারণ, এঁরা সবাই ফিরবেন খালি হাতে। গ্র্যাচুইটি (যার ঊর্ধ্বসীমা ৬ লাখ থেকে বেড়ে ১২ লাখ হয়েছে), লিভ এনক্যাশমেন্ট-সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কিছুই তাঁরা হাতে পাবেন না।

জানি রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সংবেদনশীল। তাই আমার প্রার্থনা, গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ঘোষণার মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এই কমিশন কার্যকর করা হোক।

স্বপন সরকার

কলকাতা-১৫৯

ওখানে প্রণাম

কলকাতা পুলিশ কলকাতার প্রবীণ নাগরিকদের আপদে বিপদে সাহায্যের জন্য ‘প্রণাম’ নামে একটি অভিনব প্রকল্প গড়ে তুলেছে। এমন প্রকল্প উত্তরবঙ্গে গড়ে তোলা যায় না?

অরবিন্দ কুমার সেন

মহামায়া পাড়া, জলপাইগুড়ি

‘সিঙ্গল ইউজ়’

দেশবাসীকে প্লাস্টিক বর্জন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে, কিন্তু ‘সিঙ্গল ইউজ় প্লাস্টিক’-এ কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে না। সিঙ্গল ইউজ় প্লাস্টিক বলতে কী বোঝায়? কোনগুলি এর তালিকাভুক্ত? এগুলি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কি? আমরা কিন্তু জানি না। এর সুযোগ নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী, তাঁরা যেমন প্লাস্টিক ব্যবহার করছিলেন তেমন করছেন, বলছেন এগুলো সিঙ্গল ইউজ়।

বিনোদ বিহারী মণ্ডল

ধারিন্দা, তমলুক

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১।
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।