‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়’ (১৩-২) এবং ‘শিক্ষাতেও কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত’ (১৪-২) শীর্ষক আর্যভট্ট খানের লেখা দু’টি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। এই কয়েক বছরে শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজ সাথী ইত্যাদি প্রকল্পের অধীনে ছাত্রছাত্রীদের জন্য অকাতরে অনুদান দেওয়া হচ্ছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা স্কুল-মুখী হয়। অথচ শিক্ষার বেহাল দশা রাজ্যে। প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্কুলছুট পড়ুয়ার সংখ্যা এত বেড়ে গিয়েছে যে, একের পর এক বিদ্যালয় ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা বন্ধ হওয়ার মুখে। অধিকাংশ স্কুলের পরিকাঠামোর অবস্থা ভয়ঙ্কর। কম্পোজ়িট গ্রান্ট অনিয়মিত। ফলে, আংশিক সময়ের শিক্ষক, ক্যাজুয়াল স্টাফ, মালি, সাফাই কর্মী, গেটম্যান, খাতাপত্র চক-ডাস্টার, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদির খরচ মেটানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। আবার কোনও কোনও স্কুলে পড়ুয়া থাকলেও শিক্ষকের অভাব রয়েছে তীব্র। দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থেকেছে। তার উপর যাঁরা শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদেরও একটা বড় অংশ শিক্ষা-দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন।
লেখকের কলমে উঠে এসেছে বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগের কথা। কম্পোজ়িট গ্রান্ট এবং মিড-ডে মিলের টাকা কেন্দ্র রাজ্য ভাগাভাগি করে দিয়ে থাকে। কেন্দ্র রাজ্যের সংঘাতে সেটাও সময়ে মেলে না, মিললেও নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম মেলে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে স্কুলগুলি কোনও রকমে চলছে। আর এই সুযোগই নিচ্ছে বেসরকারি স্কুলগুলি। তাই আগামী দিনে রাজ্য শিক্ষা দফতর নড়েচড়ে না বসলে শিক্ষার হাল একেবারেই ফিরবে না।
স্বপন আদিত্য কুমার বিশ্বাস, অশোকনগর, উত্তর ২৪ পরগনা
চাপের পাহাড়
‘স্কুলের ব্যাগ বড্ড ভারী’ (সম্পাদক সমীপেষু, ২৪-১) পত্রের লেখক শুভময় সরকার ছাত্রছাত্রীদের স্কুলব্যাগের গুরুভার লাঘব করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রসঙ্গক্রমে শিক্ষার অতিরিক্ত চাপের কথা স্বাভাবিক ভাবেই উঠে আসবে, যা কোমলমতি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ খুন করে তাদের যান্ত্রিক নম্বর শিকারি বানিয়ে ছাড়ছে। এ বিষয়ে ছাত্রদরদি শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সংবেদনশীল মানুষরা দীর্ঘ দিন ধরেই বলে চলেছেন। কিন্তু সে কথায় কান দেবে কে?
বামফ্রন্টের আমলে প্রাথমিক পর্যায়ে ইংরেজি পড়ানো বন্ধ হতেই রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। রাতারাতি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বাবা-মায়ের স্বপ্ন বাজারজাত করতে উঠে-পড়ে লাগে। মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েন এক শ্রেণির মানুষ, যাঁদের কাছে শিক্ষা এক ঝকঝকে চাকরি পাওয়ার সিঁড়িমাত্র। হুহু করে বেকারত্ব বেড়ে চলার যুগে তাঁরা ভাবেন, ইংরেজির ঝলকানি, কথাবার্তায় সপ্রতিভতার জোরেই চাকরির বাজার দখল করবে এই ছেলেমেয়েরা। এই পরিস্থিতিরই সুযোগ নিচ্ছেন শিক্ষা-ব্যবসায়ীরা। অভিভাবকদের অনেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষুব্ধ। নিত্য-নতুন কারণে অর্থের দাবি, লাভের হার বাড়াতে বোঝার উপর বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ জানাতে অভিভাবকেরা ভয় পান, পাছে শিশুদের উপর তার প্রভাব পড়ে। আর এই সামগ্রিক পরিস্থিতির চাপ গিয়ে পড়ে শিশু ও কোমলমতি কিশোর-কিশোরীদের উপর। এই মানসিক চাপের তুলনায় ব্যাগের ভার তো হিমশৈলের চূড়ামাত্র।
বিশ্বনাথ পাকড়াশি, শ্রীরামপুর, হুগলি
নিঃসঙ্গ
‘শতায়ুর বিশ্ব’ (১৮-১) সম্পাদকীয় প্রসঙ্গে এই পত্র। ক্রমহ্রাসমান জন্মহারে জাপান বর্তমানে বিপজ্জনক জায়গায় এসে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে সবচেয়ে কম শিশু জন্মানোর সর্বকালীন রেকর্ড ছুঁয়েছে। ওই বছর ৮ লক্ষের কম শিশু জন্ম নিয়েছে। অথচ, মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ। জাপানের ছোট শহরগুলিতে আজকাল নাকি শিশুদের আর তেমন দেখতে পাওয়া যায় না। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাদেশ ইউরোপ। সেখানেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার চোখে পড়ার মতো কমেছে। ২০২৪-২৫ সাল নাগাদ ইটালির মোট জনসংখ্যার ২৪.৬ শতাংশের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তারও বেশি, স্পেনে তা ছিল ২১ শতাংশের বেশি। আমাদের দেশে ২০৩৬-এর মধ্যে কেরল ও তামিলনাড়ুতে প্রবীণ নাগরিক যথাক্রমে ২২.৮ এবং ২০.৮ শতাংশে পৌঁছে দেশের অন্যতম ‘বয়স্ক রাজ্য’ হিসেবে গণ্য হবে। রাষ্ট্র যদি প্রবীণদের জন্য অবসরকালীন সুবিধা এবং জনস্বাস্থ্যে তাঁদের চিকিৎসার সুযোগ না বাড়ায়, ভবিষ্যৎ তাঁদের জন্য মোটেই সম্মানজনক হবে না।
বার্ধক্য যে মোটেই সুখের সময় নয়, অনেকেই সেটি উপলব্ধি করছেন। সদ্য একটি ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। সন্তান অন্যত্র থাকায় গত ১৯ জানুয়ারি পর্ণশ্রী থানা এলাকায় বেচারাম চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সঙ্গীতশিল্পী অনিতা ঘোষ খুন হন। তাঁর প্রবীণ স্বামী শয্যাশায়ী ছিলেন। এই ঘটনার পর কলকাতা শহরেও প্রবীণদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্বাভাবিক ভাবেই একাকী প্রবীণদের নিরাপত্তা বাড়াতে তৎপর হয়েছে লালবাজার।
একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমীক্ষা থেকে জানা যায়, মহানগরে প্রবীণ দম্পতিদের ৭২ শতাংশ একাই থাকেন। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি হলেও মানুষের বার্ধক্যের সময়সীমার পরিবর্তন ঘটা সম্ভব নয়। সুতরাং, সমস্যা গভীর হচ্ছে। তবে সম্পাদকীয়ের সঙ্গে একশো শতাংশ সহমত— প্রবীণদের জীবন অর্থপূর্ণ ও ফলপ্রসূ করতে কাজে যুক্ত থাকা অবশ্যই দরকার।
সুব্রত পাল, কলকাতা-৩৮
প্রতারণা চক্র
“হুমকি ‘ডিজিটাল’ গ্রেফতারির, ৯৫ লক্ষ খোয়ালেন চিকিৎসক বৃদ্ধ” (২১-১) এবং ‘৩৫ লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারণার শিকার প্রাক্তন উপাচার্য’ (২৮-১) শীর্ষক ডিজিটাল অ্যারেস্ট-এর সংবাদ দু’টি পাঠ করে খুব একটা বিস্মিত হইনি। কারণ, এই সংবাদপত্রেই এমন ধরনের ঘটনার বিবরণ, সেই সংক্রান্ত সতর্কতা ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের থেকেও সংবাদমাধ্যমে বহু বার জানানো হয়েছে যে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে বাস্তবে কিছু নেই। তাই, বর্তমানে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পুণে শহরে অবস্থিত আমার পুত্র যখন মুম্বইতে নেশাদ্রব্য চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে মাসখানেক আগে আমার কাছে একটা ওয়টস্যাপ কল (পুলিশ অফিসারের স্থিরচিত্র সমেত) আসে, এবং তাকে ছাড়ানোর জন্য একটা মোটা অঙ্কের অর্থ আমার কাছে দাবি করা হয়, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে এটি একটি প্রতারণামূলক ভুয়ো ফোন ছাড়া আর কিছুই না। পূর্ব সচেতনতা থাকার সুবাদে, এ যাত্রায় প্রতারকদের দুষ্ট চক্রের খপ্পরে পড়তে হয়নি আমাকে।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে এত প্রচার সত্ত্বেও, প্রতি দিনই বহু মানুষকে ভয় দেখিয়ে ও ঠকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারকরা ব্যাঙ্ক থেকে আত্মসাৎ করতে সক্ষম হচ্ছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গেলে জানা যাচ্ছে, এই ধরনের প্রতারণা কাণ্ডের সঙ্গে যুক্তদের ধরা নাকি দুঃসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু প্রশ্ন হল, অনলাইনে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তো নিশ্চিত ভাবে অন্য একটি অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। আমরা জানি, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশে এখন ভারতের প্রতিটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘কেওয়াইসি’ দ্বারা নিবদ্ধ। তা হলে, যে ব্যক্তি বা সংস্থার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা ঢুকল, আধার কার্ড, প্যান কার্ডের তথ্যের ভিত্তিতে সেই ব্যক্তি বা সংস্থা প্রধানকে গ্রেফতার করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। কিন্তু বাস্তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই কষ্টার্জিত খোয়ানো টাকা উদ্ধার হচ্ছে না। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, সারা ভারতে অসংখ্য ভুয়ো অ্যাকাউন্ট আছে, যেগুলির সঠিক কোনও ‘কেওয়াইসি’ তথ্য নেই। তা হলে এই ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলি কী ভাবে খোলা হচ্ছে? এই গাফিলতির দায় কারা নেবেন?
শান্তনু ঘোষ, শিবপুর, হাওড়া
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)