Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: কিছু কুর্নিশ কিছু প্রশ্ন

১২ এপ্রিল ২০১৮ ০০:৪৪

‘ক্ষমা করুন, ইমাম রশিদি’ প্রতিবেদনে (৩-৪) লেখিকা দোলন গঙ্গোপাধ্যায় সদ্য পুত্রহারা ইমাম রশিদির নাগরিক দায়িত্ববোধের কথা যে ভাষায় তুলে ধরেছেন, তা মন ছুঁয়ে গেল। রাজনৈতিক ফায়দা লুটেরাদের তৈরি করা রক্তের আঁশটে গন্ধমাখা আজকের এই কুৎসিত সময়ে ইমাম রশিদির মতো মানুষরাই তো বয়ে নিয়ে চলেছেন অপরাজেয় মানবসভ্যতার অগ্রগতির পতাকা। তাঁকে আমারও প্রণাম।

তবে দু’টি বিষয়ে লেখিকার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না। এক, তিনি বলেছেন, ‘ভারতে হিন্দু উচ্চবর্ণের পরিবারে জন্মেছি বলেই আমি ভাল স্কুলে পড়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠে পা রাখতে পেরেছি, ভদ্রগোছের একটা চাকরি জুটিয়েছি...।’ সত্যিই কি তাই? এ দেশে অন্তত পশ্চিমবঙ্গে, শুধু হিন্দু উচ্চবর্ণ পরিবারে জন্মাতে পারলেই কি হাতে এসে যায় সুস্থ ও ভদ্র জীবনযাপনের চাবিকাঠি? না কি দরকার পড়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভাল স্কুলের চড়া বেতন জোগানো, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারা এবং ভদ্রগোছের চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারার মতো আর্থিক সামর্থ্য? ‘পথের পাঁচালী’র অপুর দেখা তো আজও হামেশাই মেলে! বিভূতিভূষণ কিন্তু তাকে হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হিসাবেই দেখিয়েছেন!

দ্বিতীয়ত, ইমাম রশিদি ও তাঁর ধর্মের মানুষের কাছে নিজের ধর্ম ও বর্ণ পরিচয়ের দায় স্বীকার করে লেখিকা বলেছেন, ‘স্বীকার করছি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে আমি এবং আমার জাতভাইরা সমস্ত সুযোগ কুক্ষিগত করে রেখেছি বলেই আজ আপনারা উচ্চশিক্ষা, উচ্চপদ থেকে বঞ্চিত।’ চরম দারিদ্রের অন্ধকারে ডুবে থাকা দেশের মুসলমান অধিবাসীদের ভয়াবহ অবস্থার ছবি সাচার কমিটির রিপোর্টে স্পষ্ট। কিন্তু উচ্চশিক্ষা ও উচ্চপদগুলিকে সংখ্যাগরিষ্ঠরা কুক্ষিগত করে রাখার কারণে এ ঘটনা ঘটছে কি? এ দেশে মুসলমান সমাজের বিকাশের ইতিহাসের গভীরে না গিয়েও একটু খোলা চোখে তাকালেই এর কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। সেটি হল, পিছিয়ে থাকা মুসলমান সমাজের সত্যিকারের উন্নয়নের জন্য আজ পর্যন্ত এ দেশের কোনও সরকার কোনও রকম আন্তরিক চেষ্টা করেনি। উন্নয়নের নামে মাঝে মাঝে তাঁদের কিছু পাইয়ে দিয়েছে মাত্র, যাতে ভোটব্যাঙ্ক সহজে ভরে ওঠে। উচ্চশিক্ষা, উচ্চপদ দূরের কথা, আজ গোটা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, তাঁরা যে ধর্মেরই হোন না কেন, বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজনটুকু মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। গরিবি আর বেকারির ঘূর্ণিতে তলিয়ে যাচ্ছেন প্রতি মুহূর্তে। এই দুর্দশারই সুযোগ নিচ্ছে ভোটবাজ শকুনরা। সমস্যায় জেরবার মানুষের একটা দলকে ভুল বুঝিয়ে ছুরি হাতে লেলিয়ে দিচ্ছে আর এক দলের দিকে। ইমাম রশিদির মতো মানুষরা এই খেলা বোঝেন বলেই সন্তানের মৃত্যুযন্ত্রণা বুকে বহন করেও সম্প্রীতি বাঁচিয়ে রাখতে প্রাণ বাজি ধরেন। কুর্নিশ জানাই এঁদের।

Advertisement

শ্রীরূপা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা-৪

মহার্ঘভাতা

সপ্তম বেতন কমিশনের নির্দেশ/সুপারিশ অনুসারে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা বছরে দু’বার বৃদ্ধি করতে হয়। তদনুসারে ২ শতাংশ মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি ঘোষণা করল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে। পেনশনভোগীরাও এই ভাতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা ২ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতার পরিমাণ বেড়ে হল ৪৫ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, জানুয়ারি মাস থেকে ১০ শতাংশের একটি কিস্তি দেবেন। তবুও পাওনা রইল ৩৫ শতাংশ।

রাজ্যের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। তথাপি ক্লাবগুলোকে প্রথম বছরে ২ লক্ষ এবং পরের প্রতি বছরে ১ লক্ষ টাকা অনুদান দিচ্ছে সরকার। এই অনুদানের টাকার মোট পরিমাণ বছর ৪ কোটি টাকারও বেশি।
এ টাকা নিয়ে ক্লাবগুলো কী করছে, তা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় না। ক্লাবের বাৎসরিক কিস্তি কমিয়ে সে টাকায় মহার্ঘভাতার কিস্তি দিলে কর্মচারীদের উপকার হয়।

নন্দদুলাল রায়চৌধুরী বিধানপল্লি, খড়্গপুর

পেনশন শোধন

পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ যে ভাবে ২০১৩ সালে পেনশন সংশোধন করার সময় ১৩৬৫ জন পেনশনার এবং ফ্যামিলি পেনশনারের পেনশন কমিয়েছে, তাতে মনে হয় এই আঞ্চলিক রেলওয়ে আইনের ঊর্ধ্বে। রেলওয়ে বোর্ডের ২০০১-এর সার্কুলারে (No F (E) III/99/PN 1/20 তাং ২০-৮-২০০১ এবং ১-১০-২০০১) জরুরি ভিত্তিতে পেনশন সংশোধন করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু কার্যকর করা হল ১২ বছর পরে। জরুরি কোনও নির্দেশকে এ ভাবে যখন খুশি এমনকী ১০-১৫ বছর পরেও কার্যকর করার যদি কোনও নিয়ম থাকে, তা হলে বুঝতে হবে সেই নিয়ম সর্বনেশে।

রেলওয়ে সার্ভিসেস (পেনশন) রুল ১৯৯৩-এর ৮নং এবং ৯নং ধারা অনুযায়ী, পেনশন এক বার নির্দিষ্ট হলে তাকে আর সংশোধন করার সময় কমানো যাবে না। তবু নিজেদের
আইনকেই অশ্রদ্ধা করে এক জন দু’জন নয়, ১৩৬৫ জনের পেনশন কমানো হল। এর পর অন্যান্য পেনশনার— যাঁরা জানেন যে পেনশন কমানো যায় না, তাঁরা আতঙ্কে দিন কাটাবেন।

এত বছর বাদে কার্যকর করার জন্য বছরের পর বছর ধরে যে হাজার হাজার টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছিল, তা-ও এক অমানবিক পদ্ধতিতে আদায় করে নেওয়া হল। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠিত রূপরেখা (সব মন্ত্রক মেনে নিয়েছে) অনুযায়ী মূল পেনশন (বেসিক পেনশন+ডিয়ারনেস রিলিফ) থেকে ৩৩ শতাংশ বা ১/৩ অংশের বেশি টাকা কাটা যাবে না। কিন্তু পুরো ডিয়ারনেস রিলিফ কেটে নেওয়া হল, যা ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ছিল ১০০ শতাংশ হারে।

কেন্দ্রীয় মুখ্য তথ্য কমিশনার মাননীয় রাধাকৃষ্ণ মাথুর তাঁর আদেশ (৩০-৮-২০১৭) (কেস নং C/C BS/C/2014/000180)-এ ১৩৬৫ জনের পেনশন কমানো, অতিরিক্ত টাকা আদায় করার ব্যবস্থা, এত বছর বাদে সার্কুলার কার্যকর করা ইত্যাদি যুক্তিহীন বলে মনে করেছেন। এবং বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে নজর দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য, রেলওয়ে বোর্ডের ওই একই সার্কুলার সমস্ত আঞ্চলিক রেলকে পাঠানো হলেও অন্য আঞ্চলিক রেল এ ভাবে আইনকে অসম্মান করে এক জনেরও পেনশন কমায়নি। একটা সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মকানুনকে অগ্রাহ্য করে ব্যাপক হারে পেনশন কমানো হয়েছে, এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

প্রশান্ত বসু রায় চন্দননগর, হুগলি

বাঙালির সাফল্য

বিকাশ সিংহের ‘শিক্ষা তো বাজারের পণ্য নয়’ (২৮-৩) শীর্ষক নিবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। লেখাটির শেষ দিকে লেখক বাংলার শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
করেছেন এবং বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচানোর জন্য যত্নবান হতে বলেছেন।

খুবই সঙ্গত তাঁর উদ্বেগ এবং উপদেশ। তবে এই প্রসঙ্গে এখানে দু’টি তথ্যের উল্লেখ করব।
১) ১৯৫৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ৫২৫ জন ‘ভাটনগর’ পুরস্কার (ভারতের নোবেল বলা চলে) প্রাপকদের মধ্যে নিরানব্বই জন বাঙালি (‘শান্তি স্বরূপ ভাটনগর’ পুরস্কার, সূত্র: উইকিপিডিয়া)। ২) ১৯৭৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৭৮৯ জন ইয়ং সায়েনটিস্ট পুরস্কার প্রাপকের মধ্যে ১৮৪ জন বাঙালি (সূত্র: ইনসাইন্ডিয়া ওয়েবসাইট)। এই তথ্য দু’টি শিক্ষার ক্ষেত্রে একটু হলেও কি বাংলা ও বাঙালির সাফল্য নির্দেশ করে না? তবে সন্তুষ্টির কোনও কারণ নেই।

অশেষ দাস ই-মেল মারফত

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

আরও পড়ুন

Advertisement