বর্তমান বিশ্বে কৃষি এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা, বন্যা, নতুন রোগ— সব মিলিয়ে ফসল উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর একটি বড় সমস্যা— বীজের বৈচিত্র দ্রুত কমে যাওয়া। এই পরিস্থিতিতে বীজ ভান্ডার বা সিড ব্যাঙ্ক-এর গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। বীজ ভান্ডার বলতে বোঝায় এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে বিভিন্ন ফসলের বীজ দীর্ঘ দিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। প্রয়োজনে সেই বীজ আবার ব্যবহার করা যায়। একে অনেকেই ভবিষ্যতের ‘বিমা’ হিসেবে দেখেন। কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তা হলে এই সংরক্ষিত বীজ থেকে আবার চাষ শুরু করা সম্ভব।
এই ব্যবস্থার বড় সুবিধা হল, এটি জীববৈচিত্র রক্ষা করে। আগে বিভিন্ন অঞ্চলে নানা ধরনের দেশি বীজ ব্যবহার হত। এখন বেশি ফলনের আশায় অনেকেই এক ধরনের বীজের উপর নির্ভর করছেন। ফলে পুরনো, স্থানীয় বীজ হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই দেশি বীজের মধ্যেই অনেক সময় খরা সহ্য করার ক্ষমতা বা রোগ প্রতিরোধের শক্তি থাকে। বীজ ভান্ডার সেই বৈচিত্র ধরে রাখতে সাহায্য করে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল গবেষণা। সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা নতুন ও উন্নত জাতের ফসল তৈরি করতে পারেন, যা ভবিষ্যতের পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা সহজ হয়। তবে বীজ ভান্ডারের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। প্রথমত, এটি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ নয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও পরিবেশ বজায় রাখতে হয়, নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়— যা ব্যয়বহুল। দ্বিতীয়ত, শুধু বীজ সংরক্ষণ করলেই হবে না, সেগুলিকে মাঠে ব্যবহারও করতে হবে। না হলে বীজের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৃষকের অধিকার। বর্তমানে বড় বড় কোম্পানি বীজের বাজারে প্রভাব বাড়াচ্ছে। এর ফলে অনেক সময় কৃষক নিজের মতো করে বীজ ব্যবহার বা সংরক্ষণ করতে পারেন না। এই অবস্থায় বীজ ভান্ডার যদি শুধুমাত্র বড় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা হলে সাধারণ কৃষকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই কারণে গ্রামভিত্তিক বা কমিউনিটি বীজ ভান্ডারের গুরুত্ব বাড়ছে। এখানে কৃষকরাই বীজ সংরক্ষণ করেন, অন্যের সঙ্গে বিনিময় করেন এবং স্থানীয় পরিবেশ অনুযায়ী চাষ করেন। এতে কৃষক আরও স্বনির্ভর হন এবং বীজের উপর স্ব-অধিকার বজায় রাখতে পারেন। তবে এটি একমাত্র সমাধান নয়। এর সঙ্গে কৃষকের অংশগ্রহণ, স্থানীয় বীজের ব্যবহার এবং সঠিক নীতি গ্রহণ— সব কিছুর সমন্বয় দরকার।
রাজ ঘোষ, কামালপুর, পূর্ব বর্ধমান
উপেক্ষিত
এই সমাজেরই অংশ তাঁরা, অথচ দৈনন্দিন জীবনে কতটা অবহেলিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের জীবন, সেটাই তুলে ধরা হয়েছে ‘স্বপ্নপূরণ’ (২১-৪) সম্পাদকীয়তে। অভিশী বন্দ্যোপাধ্যায়, ওম ঘোষ, দেবস্মিতা ঘোষের মতো বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের যে সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে, তা আমাদের মুগ্ধ করে। এদের হার-না-মানা মনোভাব এবং ভাল কিছু করে দেখানোর অসম্ভব তাগিদই এই সাফল্যের মূলে।
তবে, সরকারি ভাবে এবং দৈনন্দিন জীবনেও এঁরা সামগ্রিক ভাবে এখনও উপেক্ষিত। সম্পাদকীয়তে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে— ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ অনুযায়ী, বিশেষ ভাবে সক্ষমেরা যাতে মূল ধারার শিক্ষার সমান সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করার কথা। অথচ, পরিকাঠামোর অভাব, সরকারি স্কুলগুলিতে স্পেশ্যাল এডুকেটরের অভাবে বাস্তবে তেমনটি ঘটে না। গণ পরিবহণের ক্ষেত্রেও তাঁরা উপেক্ষিত। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক ইত্যাদি দোতলায় অবস্থিত হওয়ার কারণে, এই পরিষেবাগুলি থেকে বেশির ভাগ সময়ই বঞ্চিত হন তাঁরা। এই সমস্ত নিয়ে সরকার কিংবা রাজনীতিকদের কোনও মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। এঁদের ভাতা যৎসামান্য, এবং এখনও অবধি তা অপরিবর্তিত।
এমতাবস্থায় প্রতিবন্ধী অধিকার আইন ২০১৬-এ বর্ণিত সমস্ত কথারই যেমন মান্যতা পাওয়া উচিত, তেমনই আইনের বিধান মেনে তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে গাফিলতির জন্য সরকারি আধিকারিকদের যথাযোগ্য শাস্তি হওয়া উচিত। ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর প্রোমোশন অব এমপ্লয়মেন্ট ফর ডিজ়এবল্ড পিপল’-এর পক্ষ থেকে বিশেষ ভাবে সক্ষমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা যুক্তিসঙ্গত। যদি কোনও আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব না-ও হয়, তবে মনোনীত সদস্য হিসাবে আইন পরিষদে স্থান দেওয়া উচিত এঁদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। নিয়মিত ভাবে এঁদের দাবি-দাওয়া সংসদে আলোচনা হলে, তখন যে কোনও সরকারের পক্ষেই কঠিন হবে দীর্ঘ দিন ধরে এঁদের উপেক্ষিত রাখা।
অশোক দাশ, রিষড়া, হুগলি
বইয়ের দিন
প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল ইউনেস্কো-র উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব বই এবং কপিরাইট দিবস। একটি দিন, যা বই পড়ার অভ্যাসকে উৎসাহিত করা এবং সৃষ্টিশীলতার অধিকারকে সুরক্ষিত করার বার্তা বহন করে। ইউনেস্কো এই দিবসটির সূচনা করে, যাতে সাহিত্যচর্চা, জ্ঞানচর্চা এবং লেখক-স্রষ্টাদের প্রাপ্য সম্মান বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ‘মোবাইলমুখী’ শৈশব ও যৌবন এক দিকে যেমন দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ এনে দিয়েছে, অন্য দিকে তেমনই মনোযোগের ঘাটতি, সৃষ্টিশীলতার সঙ্কোচন এবং মানসিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যাও তৈরি করছে।
বই মানুষকে কেবল তথ্য দেয় না, বরং কল্পনাশক্তি প্রসারিত করে, গভীর চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করে এবং মানসিক স্থিতি গড়ে তোলে। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ বা কবিতার মধ্য দিয়ে পাঠক নিজের ভিতরের জগৎকে চিনতে শেখেন। তাই বইয়ের সঙ্গে পুনরায় বন্ধন তৈরি করা মানে এক অর্থে সুস্থ, ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাত্রায় ফিরে আসা। বিশেষত কৈশোর ও যৌবনে বইয়ের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। এই সময়ে পড়াশোনা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বরং ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্যও অপরিহার্য। মোবাইলের ক্ষণস্থায়ী বিনোদনের বিপরীতে বই দীর্ঘস্থায়ী জ্ঞান ও মানসিক তৃপ্তি প্রদান করে, যা মানুষের সামগ্রিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
এই প্রেক্ষাপটে কপিরাইট আইনটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কপিরাইট হল সৃষ্টিশীল কাজের উপর স্রষ্টার আইনি অধিকার, যা তাঁর লেখা, সঙ্গীত, শিল্পকর্ম বা অন্যান্য সৃষ্টিকে অবাঞ্ছিত ব্যবহার থেকে রক্ষা করে। ডিজিটাল যুগে এই সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে অনেকেই বই, গান বা চলচ্চিত্র অবৈধ ভাবে ডাউনলোড বা শেয়ার করেন, যা কপিরাইট লঙ্ঘনের শামিল। এর ফলে লেখক ও প্রকাশনা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কপিরাইট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগ জরুরি, যাতে সৃষ্টিশীলতার পরিবেশ সুস্থ ও টেকসই থাকে।
পার্থ প্রতিম মিত্র, ছোটনীলপুর, বর্ধমান
বিকল্পের দাবি
কেন্দ্র ও রাজ্যের কিছু সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ‘ডোমিসাইল সার্টিফিকেট’ বা আবাসিক শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নানা বাধা পেরিয়ে এই ‘ডোমিসাইল সার্টিফিকেট’ হাতে পাওয়া বেশ কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। বিশেষত ভাড়া বাড়ি, অস্থায়ী ক্যাম্প ও বস্তিবাসীদের পক্ষে তা বার করা বেশ কঠিন। এর অভাবে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন ও ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় বসা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। তাই আবেদন, চাকরির পরীক্ষায় ‘ডোমিসাইল সার্টিফিকেট’ বাতিল করে স্থানীয় গ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রধান বা স্থানীয় বিডিও প্রেরিত ‘রেসিডেনশিয়াল সার্টিফিকেট’-কে মান্যতা দেওয়া হোক।
দীপংকর মান্না, চাকপোতা, হাওড়া
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)