E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: হারের কারণ

মূলত সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সামনে রেখেই বাম ফ্রন্টের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল।

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৮:২৯

অভিরূপ সরকারের ‘তৃণমূলের পতন কেন’ (৬-৫) শীর্ষক প্রবন্ধটি সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে আইনের শাসনের অভাব, স্থানীয় নেতৃত্বের দৌরাত্ম্য, ঔদ্ধত্য, সর্বত্রই তোলাবাজি বা বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ-দুর্নীতি এবং এই কারণে একাধিক মন্ত্রীর কারাবাস, বেসরকারি শিল্প ও সরকারি স্তরে কর্মসংস্থানের অভাব, আর জি কর-কাণ্ড প্রভৃতি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মানুষের মূল অসন্তোষের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। তা ছাড়াও বিক্ষিপ্ত ভাবে নানা ঘটনা এবং দলের অন্দরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়েছে, যার নাগাল পাননি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

মূলত সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সামনে রেখেই বাম ফ্রন্টের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল ছোট-বড় বাম ফ্রন্ট নেতৃত্বের বিভিন্ন অনৈতিকতার বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ। অথচ ১৫ বছরের শাসনকালে কৃষকদের সুবিধার্থে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ তৃণমূল সরকার। পাশাপাশি সাম্প্রতিক কালে আলুর দাম না-পাওয়ার কারণে আলুচাষিদের ক্ষোভও বৃদ্ধি পেয়েছিল। সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভও আছড়ে পড়েছে ভোটবাক্সে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমস্ত বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন বলেই বিশ্বাস। তাই তিনি মানুষের মন জয়ে নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বেকার যুবক-যুবতীদের ‘যুবসাথী’-সহ আরও কিছু নতুন অনুদান প্রকল্প চালু করেন। এর সঙ্গে এসআইআর-কে সামনে রেখে তিনি নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা কাজে আসেনি।

অশোক দাশ, রিষড়া, হুগলি

বিকল্পের খোঁজ

অভিরূপ সরকারের লেখা ‘তৃণমূলের পতন কেন’ শীর্ষক প্রবন্ধে এমন কিছু কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য মনে হলেও সেগুলিকেই প্রধান কারণ হিসেবে মেনে নেওয়া কঠিন। বরং তৃণমূল সরকারের পতনের শিকড় সন্ধান করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, ভোট কুশলী সংস্থা আই-প্যাকের উপর প্রয়োজনের অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং দলীয় কোন্দল থামাতে রাজনীতি ও জনগণের সঙ্গে প্রায় সম্পর্ক বিহীন তারকাদের ভোটের ময়দানে নামিয়ে দিয়ে চমকের মাধ্যমে ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা বিপরীত ফলদায়ী হয়েছে। দলের পুরনো অনুগত কর্মীদের অনেকের পক্ষে শীর্ষ স্তরের এই সিদ্ধান্তগুলি মেনে নেওয়া কঠিন হচ্ছিল। প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কত জন নিজেদের দায়িত্ব পালনে সচেতন বা যোগ্য ছিলেন, তা বিবেচনায় আনা হয়নি।

পাশাপাশি লাগামছাড়া দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, ধান্দাবাজদের দখলদারি ও কাটমানি, পেশিশক্তির আস্ফালনকারীদের ক্রমবর্ধমান দাপট থামানোর জন্য দিশাহারা হয়ে বহু ভোটার বিকল্প পথের সন্ধান করছিলেন। শিল্পক্ষেত্রে খরার অবস্থা, সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল দশা ও প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত গোটা শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্জলি যাত্রা রোধ করার জন্যও সচেতন মহলের একটা তৎপরতা ছিল। পরিযায়ী শ্রমিকরা সব সময় চেয়েছেন নিজের রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হোক। সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও পেনশনভোগীরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার চাইতে গিয়ে বারে বারে অপমানিত ও বঞ্চিত হয়ে ফুঁসছিলেন। ফলে মুষ্টিমেয়কে বাদ দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষরা যে এই সরকারের পতন চাইবেন, বোঝা যাচ্ছিল। নারী-নিরাপত্তার প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গ অন্য অনেক রাজ্যের চেয়ে কিছুটা বেশি নিরাপদ হলেও কামদুনি, পার্ক স্ট্রিট, আর জি কর ইত্যাদি একের পর এক ঘটনায় তৎকালীন সরকারের ভূমিকা বহু ভোটারকে সরকার-বিরোধী করে তোলে।

উল্টো দিকে, বিজেপির সঙ্কল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্লাবনে ভেসে গিয়েছেন বহু ভোটার। সেই প্লাবনেই হয়তো খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নটিও, যা তৃণমূলের পতনের কফিনে শেষ পেরেক পুঁততে সাহায্য করেছে।

রতন রায়চৌধুরী, পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা

নজরে ফুটবল

‘বাংলার প্রীতিকার দাপটে ইতিহাস ভারতের’ (৯-৫) প্রসঙ্গে বলি, এ বার সকলের নজর থাকুক এ দেশের দুয়োরানি ফুটবলের দিকে। এ দেশে ফুটবলের ইতিহাস কিন্তু অতীব গরিমাময়। এই ইতিহাস প্রায় দেড়শো বছরেরও বেশি পুরনো। এই ভারতই এক সময় এই খেলায় উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল। সম্ভবত সেই সময়টা ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০ সাল। এই ২২ বছরের সময়কালেই ভারতীয় ফুটবল বিবেচিত হয়েছিল এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলের দেশ হিসাবে। সে সময় ভারত দু’টি এশিয়ান গেমস ফুটবলে (১৯৫১, ১৯৬২) চ্যাম্পিয়ন হয়, একটিতে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ পদক পায় (১৯৭০) ও এএফসি এশিয়ান কাপে (১৯৬৪) রানার্স হয়।

এ ছাড়াও ভারত একটি নয়, ১৯৪৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত টানা চারটি অলিম্পিক ফুটবলেও অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছিল। শুধু কি তা-ই, তার উচ্চমানের ফুটবলের স্বাক্ষর রাখতে পেরেছিল ১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিক ফুটবলে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ভারত ৪-২ গোলে চূর্ণ করে প্রথম কোনও এশিয়ান দেশ হিসাবে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়। ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে ভারতীয় ফুটবলারদের খেলার দাপটে নাস্তানাবুদ হয়ে গিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ ফ্রান্স, যারা সে দিনের খেলায় ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা গোলে হারার মতো অবস্থায় চলে গিয়েছিল। খেলার অন্তিম মুহূর্তে কোনও রকমে গোল করে তারা ম্যাচটি ড্র করে। এই ফুটবলেই ভারত এক সময় হারাতে পারত বর্তমানে এশিয়ার ও ফিফা মানে প্রথম সারিতে থাকা জাপান, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়াকে। লড়াই করার ক্ষমতা রাখত বিশ্বের যে কোনও শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে। কিন্তু ১৯৭০ সালের পর থেকেই কোনও এক অজানা কারণে সেই ফুটবলের দেশ ভারতই হারিয়ে গেল, তলিয়ে গেল বিশ্বের ফুটবল খেলিয়ে দেশগুলির তালিকায়। সোনার ফুটবলকে ধুলোয় ছুড়ে ফেলে একটু একটু করে দেশ আত্মসমর্পণ করল ক্রিকেটের কাছে।

তবু ফুটবল যে একেবারে শেষ হয়ে যায়নি, তার জ্বলন্ত উদাহরণ লেবাননের বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা ফুটবলারদের দুরন্ত খেলা, যেখানে ৪-০’য় তারা হারিয়ে দিয়েছে লেবাননকে। তার ফলেই ২০০৫ সালের পর এই প্রথম মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৭ এএফসি এশিয়ান কাপে গোল করল এবং জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করল ভারতীয় দল। আগামী দিনে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি শক্তিশালী দেশের সঙ্গে লড়াই করে জিততে হলে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রককে এগিয়ে আসতেই হবে, খুঁজে বার করতেই হবে ভারতের তরুণ ফুটবলারদের উচ্চমানের ফুটবল খেলতে না পারার প্রকৃত কারণ কী। না হলে চিরকাল আমাদের দেশকে ফুটবলে শুধু সাফ গেমসের গণ্ডির মধ্যেই আবদ্ধ থাকতে হবে।

তাপস সাহা, শেওড়াফুলি, হুগলি

বিপদ

পাকা রাস্তার উপরে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে যে বাম্পগুলি স্থাপন করা হয়েছে, তার অনেকগুলির ক্ষেত্রেই আগে-পরে কোনও সতর্কীকরণের চিহ্ন নেই। এবং বেশ কিছু বাম্প তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই উঁচু। দিনের বেলা গাড়ি বা পথচারীরা পার হয়ে গেলেও রাতে অনেকেই বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই অবস্থায় প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত সতর্কীকরণের চিহ্নহীন বাম্পগুলি চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব‍্যবস্থা করার আবেদন রাখি।

অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ধ, নিয়াখালি, হুগলি

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Hooliganism Corruption Oppression

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy