দেবব্রত বিশ্বাসকে নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই’ (পত্রিকা, ১৯-১০) নিবন্ধে লেখা হয়েছে, ‘‘‘সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরই অপমান’ ছিল তাঁর প্রথম রেকর্ড। ১৯৩৮ সালে গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে কনক দাশের সঙ্গে দ্বৈত ভাবে। পরের রেকর্ড ১৯৬১ সালে।’’ কনক দাশের সঙ্গে যুগ্মকণ্ঠে ‘সঙ্কোচের বিহ্বলতা’ দেবব্রতের প্রথম রেকর্ড ঠিকই, কিন্তু তা প্রকাশিত হয় ১৯৪৪-এর সেপ্টেম্বরে (পি ১১৮৬৬)।

দেবব্রতের পরের রেকর্ড মোটেও ১৯৬১-তে নয়। ১৯৪৪-১৯৬১— এই সময়সীমায় দেবব্রতর অনেকগুলি রেকর্ড প্রকাশিত হয় একক, যুগ্ম ও সমবেত কণ্ঠে। যথা: একক কণ্ঠে ‘এ শুধু অলস মায়া’ ও ‘আছ আকাশপানে’ (জিই ২৯২৭, ১৯৪৬), ‘আমি চঞ্চল হে’ ও ‘দিন পরে যায় দিন’ (জিই ৭১০৩, অক্টোবর ১৯৪৭), ‘এমনি করেই যায় যদি দিন’ ও ‘চাহিয়া দেখো রসের স্রোতে’ (জিই ৭২৩৩, মে ১৯৪৮), ‘সকালবেলার আলোয় বাজে’ ও ‘দুঃখের তিমিরে যদি জ্বলে’ (জিই ৭৩৫২, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৪৮), ‘ওগো পথের সাথী’ ও ‘তুমি রবে নীরবে’ (জিই ৭৫৯৩, ১৯৪৯), ‘এই তো ভাল লেগেছিল’ ও ‘এখন আমার সময় হল’ (জিই ৭৭০২, মে ১৯৫০), ‘ওই আসনতলের’ ও ‘আকাশ জুড়ে শুনিনু’ (এন ৮২৬১৪, মে ১৯৫৪)। 

দ্বৈতকণ্ঠে কনক দাশের সঙ্গে ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা’ ও ‘ওই ঝঞ্ঝার ঝঙ্কারে’ (পি ১১৮৭৪, ফেব্রুয়ারি ১৯৪৫), কুমারী গীতা নাহার সঙ্গে ‘আগুনের পরশমণি’ ও ‘অনেকদিনের শূন্যতা মোর’ (জিই ৭৩০১, অগস্ট ১৯৪৮)। সমবেত কণ্ঠে ‘দেশ দেশ নন্দিত করি’ ও ‘তোর আপনজনে ছাড়বে তোরে’— সহশিল্পীবৃন্দ: জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, শ্রীমতী সুপ্রীতি ঘোষ, কুমারী সুচিত্রা মুখোপাধ্যায়, শ্রীমতী কনিকা দেবী (মুখোপাধ্যায়) (এন ২৭৭৩৬, অক্টোবর ১৯৪৭), ‘ওগো কিশোর আজি’— সহশিল্পীবৃন্দ: হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সুচিত্রা মুখোপাধ্যায়, গীতা নাহা, চিত্রা মজুমদার, অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় (জিই ৭২৩০, মে ১৯৪৮), ‘বন্দেমাতরম্’ (কথা: বঙ্কিমচন্দ্র, সুর: রবীন্দ্রনাথ) ও ‘জনগণমন’— সহশিল্পীবৃন্দ: জগন্ময় মিত্র, দ্বিজেন চৌধুরী, নীহারবিন্দু সেন, শ্রীমতী কনক দাশ, সুচিত্রা মুখোপাধ্যায়, শ্রীমতী সুপ্রীতি ঘোষ, কুমারী গীতা নাহা (এন ২৭৮২৯,
মে ১৯৪৮)।

তা ছাড়া ১৯৫০-এ সন্তোষ সেনগুপ্তের পরিচালনায় ‘চিত্রাঙ্গদা’ নৃত্যনাট্যের রেকর্ডে অর্জুনের প্রথম দু’টি গান করেন। এই নৃত্যনাট্যটি সে সময় ৭টি ৭৮ স্পিড গ্রামোফোন রেকর্ডে অটো কাপলিং সেট-এ প্রকাশিত হয়। ১৯৬১-তে দেবব্রত প্রথম হিন্দুস্থান রেকর্ডে রেকর্ড করেন আর সেখান থেকেই তাঁর অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রার শুরু।

এ তো গেল রবীন্দ্রসঙ্গীতের কথা। ১৯৪৯-এ দেবব্রত অংশ নেন ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের ‘ও আলোর পথযাত্রী’ ও ‘হাতে মোদের’ গণসঙ্গীতের রেকর্ডে (কথা ও সুর: সলিল চৌধুরী, জিই ৭৫৪৭)। সহশিল্পী ছিলেন প্রীতি বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্য।

স্বপন সোম

কলকাতা-৩৭

বডি শেমিং

একটি বাংলা চ্যানেলে জনপ্রিয় কুইজ় শো-র এক এপিসোডে অংশগ্রহণ করেছিলেন নাট্য, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন মাধ্যমের জনপ্রিয় অভিনেতারা। তার মধ্যে ছিলেন বেশ রোগা এক জন এবং বেশ মোটা এক জন। ওই দু’জনের শারীরিক আকার নিয়ে ওই এপিসোডে যে ‘হাস্যরসাত্মক’(?) আলোচনাটি হল, সেটিকে ‘বডি শেমিং’-এর পর্যায়ে নামিয়ে আনা হল ও উপস্থিত সবাই হেসে গড়িয়ে পড়লেন।

শুভাগত গুপ্ত

আরামবাগ, হুগলি

ভয়হীন

মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার ভোটের ফল বলছে, কোনও রাজনৈতিক দলেরই হিসেব মেলেনি। একেই বলে জনগণতন্ত্র। আমাদের অন্তত এটুকু বুঝতে হবে, কোনও হিংসা, রক্তপাত, বুথ জ্যাম ছাড়া দুটো রাজ্যের নির্বাচন নিঃশব্দে হয়ে গেল। যা আমাদের পশ্চিমবঙ্গে ভাবাটা বাতুলতা। আমাদের বাংলার রাজনৈতিক নেতারা এমন ভয়হীন নির্বাচন উপহার দিতে পারেন না?

পরেশ নাথ কর্মকার

রানাঘাট, নদিয়া

কয়েন কোথায়?

খবরের কাগজে আলিপুর মিন্টের বিজ্ঞাপন দেখে ধনতেরস কয়েন কিনতে যাই। এই ৬৪ বছর বয়সে প্রায় তিন ঘণ্টা সফর করে সেখানে গিয়ে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হল। প্রথমে নিরাপত্তাকর্মীরা বুঝতেই পারছিলেন না, কী চাই। পরে তাঁদের নির্দেশিত জায়গায় গিয়ে দেখি, সেখানে ঢোকা কঠিন এবং গেটে তালা ঝুলছে। ফিরে এসে সে কথা বলতে, তাঁরা ‘বড় অফিস’-এ পাঠালেন। সেখানকার কর্মীরা খুব ভাল ব্যবহার করলেন, কাউকে ফোন করে জানলেন, ধনতেরস কয়েন আজ পাওয়া যাবে না। তা হলে এই জামাই-ঠকানো বিজ্ঞাপনের মানে কী?

শান্তনু চক্রবর্তী

কলকাতা-৫৬

শব্দ ও পুলিশ

যদিও এ বার পুলিশ প্রশাসন শব্দবাজির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিল, নিয়ম ভাঙলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা করবে বলে দাবি করেছিল, কিন্তু বহু মানুষের মধ্যে, এমনকি তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে যে বিন্দুমাত্রও শুভচেতনার উদ্রেক হয়নি, শব্দবাজির তাণ্ডব তার বড় উদাহরণ। কালীপুজোয় দমদম ক্যান্টনমেন্ট, বাগুইআটি, মল রোড, অর্জুনপুর, নাগেরবাজার এলাকা ছাড়াও দেবী নিবাস রোডের বেশ কয়েকটি বহুতলে শব্দবাজির দাপট চালিয়ে গিয়েছেন অনেকে। রাত বাড়ার সঙ্গে দাপট বহু গুণ বেড়েছে। না, সেই রাতে এই এলাকার বিস্তীর্ণ প্রান্তর ঘুরেও শব্দবাজি বন্ধের জন্য কোনও পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়েনি।

সমীর কুমার ঘোষ

কলকাতা-৬৫

আলাদা অঞ্চল

কালীপুজোর সময় অনেক জায়গাতেই দেখি, গাছের উপর পাতার খাঁজে টুনি লাইট সাজানো হয়, সেল ফেটে ফুলকি পড়ে পাতা পুড়ে যায়। সদ্য বর্ষার শেষে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এতে কয়েক মাস অবধি স্থগিত হয়ে যায়। রাস্তায় দেখি নিরীহ সারমেয়দের পিছনে জ্বলন্ত তারাবাতি কিংবা পটকা গুঁজে বিকৃত আনন্দ পায় মানুষ। নিরালা পুকুরে কচুরিপানার ফাঁকে চরকির ঘূর্ণি বন্দি হয়, জলের উপর জলবোম ছেড়ে বীভৎস বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মাছেদের কি সংসার নেই? এও কি তাদের পৃথিবীতে হিরোশিমা নয়? সর্বোপরি বাস্তুতন্ত্রের কি ক্ষতি হয় না এতে?

নিতান্তই তুচ্ছ ঘটনা, এ সবের জন্যে কন্ট্রোল রুম বা হেল্পলাইনে ফোন করলে ‘বিকারগ্রস্ত’ তকমা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে বাজি ফেটে তো মানুষ আহত হচ্ছেন, মারাও যাচ্ছেন। সেটুকুই মাথায় রেখে বিদেশি কায়দায় জনবসতি থেকে একটু দূরে প্রতিটি ব্লকের ফাঁকা মাঠে আলাদা ‘আতসবাজি জ়োন’ কি গড়ে তোলা যায় না? আতসবাজি জ্বলবে মাঠে, বাজি বিক্রেতারাও বসবেন মাঠের পাশে আচ্ছাদিত সুরক্ষিত অঞ্চলে। মানুষ এসে বাজি কিনে মাঠেই ফাটিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। আর উক্ত স্থান বাদে যত্রতত্র বাজি বিক্রি আইন করে হবে নিষিদ্ধ।

সায়ক সিংহ

কলকাতা-১১০

কুকুর কেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘‘কাপুরুষ বাগদাদি কুকুরের মতো মরেছে।’’ কুকুর আর যা-ই হোক, জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদী নয়। এ মন্তব্যে আমরা কুকুরপ্রেমীরা ব্যথিত।

উজ্জ্বল গুপ্ত

তেঘরিয়া