বিশ্বকাপ শেষ, কিন্তু ভারতের হার নিয়ে কাটাছেঁড়া চলবেই। আবার শুনব সেই কচকচানি, কোচ-কমিটি সংঘাত, চলবে দোষারোপ, আমরা ভুলতে বসব ক্রিকেট একটা খেলা, আর যাঁরা খেলেন সবাই রক্তমাংসের মানুষ, তাঁরা কেউই ভগবান নন, যতই আমরা তাঁদের ভগবানের আসনে বসাই না কেন।

কিন্তু এ সবের ঊর্ধ্বে উঠে আসবে লজ্জা, যারা কোনও দিন ব্যাট হাতে ধরেনি, তারাই চুলচেরা বিশ্লেষণে বসবে ধোনির মন্থরতম ব্যাটিং নিয়ে। যারা বাইশ গজ মানেই বোঝে না, তারা প্রশ্ন তুলবে রোহিত বা কোহালির টেকনিক নিয়ে। যে বোঝেই না মিড অফ বা মিড অন মানে কী, সে স্টেটাস দেবে পন্থ বা পাণ্ড্যর কী রকম ব্যাট করা উচিত ছিল তাই নিয়ে। যাদের ক্ষমতা পাড়ার গলির ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ, তাদের মুখে কি এ সব মানায়? 

সম্পদ হালদার 

রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া

আরও উড়ান

2 আসানসোলের অন্ডাল থেকে মুম্বই বিমান পরিষেবা চালু হল। এর আগে চালু হয়েছে দিল্লি ও হায়দরাবাদ উড়ান পরিষেবা। খুব উপকার হয়েছে। এ বার আবেদন, অন্ডাল থেকে চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু বিমান পরিষেবা চালু হোক। কারণ, এই শহর ও দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ, কুলটি, চিত্তরঞ্জন, বার্নপুর ইত্যাদি এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বহু ছেলেমেয়ে চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুতে কর্মরত এবং উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত।

তাপস কুমার দাস

আসানসোল

বেতন এত কম

স্কুল-কলেজের বেতনের পরিকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল-কলেজে, সংস্থার মাধ্যমে নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীদের বেতন পরিকাঠামো কী, জানতে পারলাম না। আমি একটি মহাবিদ্যালয়ে নিরাপত্তা রক্ষার কাজ করি। ৪৩০০ টাকা বেতন পাই। বিনম্র প্রশ্ন, এটাই কি আমাদের বেতন পরিকাঠামো? আমরা এই বেতনে সংসার চালাতে পারছি না। আমরা সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করি। কলেজে বহিরাগত যাতে না ঢোকে, সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখি। সারা বছর কোনও ছুটি পাই না, বোনাস পাই না। অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে এজেন্সি-নিযুক্ত কর্মীদের বেতন আমাদের চেয়ে অনেক ভাল। আমরা কেন বঞ্চিত হব? কলেজের প্রিন্সিপাল মহাশয়ের কাছে বহু বার আবেদন করেছি। বলেছি রাজ্য সরকারের ঘোষিত নির্দিষ্ট লেবারের বেতন দেওয়ার জন্য, আট ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে। উনি কর্ণপাত করেননি। ১৪৩ টাকার রোজে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। 

অঞ্জন সাম

গলসি, পূর্ব বর্ধমান

রাস্তা উঁচু হচ্ছে

আমাদের এখানে, যখন রাস্তায় নতুন পিচ ঢালা হয়, তখন পুরনো পিচ তুলে ফেলা হয় না। খরচ বাঁচানো হয়। আগের পিচ তুলে না ফেলে, নতুন পিচ ঢাললে, প্রতি বছর যদি দু’ইঞ্চি করে রাস্তা উঁচু হতে থাকে, তা হলে সমতল থেকে রাস্তা ক্রমে বাড়ির একতলার সমান উঁচু হয়ে যাবে! সাধে কি ঢালাই রাস্তা হওয়ার পর রাস্তার দু’পাশের বাড়িগুলোয় জল ঢুকে পড়ছে? তার সঙ্গে সব সময় নর্দমা পরিষ্কার না হওয়ার সম্পর্ক নেই। মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর, দীর্ঘ দিন ধরে পিচের আস্তরণ চাপানোর ফলে তার ওজন বেড়ে যাওয়ার কথা সামনে এসেছিল। কয়েক বছর আগে দেওঘর গিয়ে দেখেছিলাম, রাস্তা সারাইয়ের সময়, রাস্তার পাশে পুরনো খোয়া পিচ ডাঁই করে সরিয়ে রেখে, নতুন পিচ দেওয়া হচ্ছিল। কাশীতেও গত ৬০ বছরে রাস্তার তল উঁচু হতে দেখিনি। 

বলাই মণ্ডল

কলকাতা-৫০

শোধ হল না?

আমি একটি সংস্থায় ২৩ বছর কাজ করে, ১৯৯৬ সালে নানা কারণে ভিআরএস নিতে বাধ্য হই। সেই সময় আমার পেনশন ৭০১ টাকা ধার্য হয়। আর্থিক প্রয়োজনে আমার ওই পেনশনের ৩৩.৩৩% বিক্রি করি। তখন আমার পেনশন হয় (৭০১-২৩৪)= ৪৬৭ টাকা। পেনশন বিক্রি করে পাই ২৩,৪০০ টাকা। ওই সময় আমাকে বলা হয়, ৮-১০ বছরে টাকা কাটা শেষ হয়ে গেলে, আবার আমি মূল পেনশন ফিরে পাব। এর মধ্যে ২০১৪ সালে সরকার ন্যূনতম ১০০০ টাকা পেনশন ধার্য করে। আমি পেনশন পেতে আরম্ভ করি ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। আজ ১৯ বছর কেটে গিয়েছে, আমার পেনশন ৫৭৩ টাকা। আমার ওই টাকা দ্বিগুণেরও বেশি কেটে নেওয়া হয়েছে, তবু এখনও শোধ হল না! আমি, আমার স্ত্রী দু’জনেই বরিষ্ঠ নাগরিক। ইতিমধ্যে আর্থিক অভাবের কারণে আমার স্ত্রীর একটি চোখ প্রায় বিনা চিকিৎসায় নষ্ট হয়েছে। আমার বহু সঙ্গী একই কারণে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন আমরাও সেই পথের যাত্রী। 

বিপুলকৃষ্ণ দত্ত

পারবাংলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

পেনশনে বৈষম্য

আমি একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৩৮ বছর শিক্ষকতা করে ৬০ বৎসর বয়সে গত ৩১-৮-২০০৬ তারিখে অবসর নিই। গত ৩০ জুন ১৯৯০ তারিখে ১ নং কলমে (The existing rules pension-Cum-C.P.F. Governing Retiring) অপশন দিই। পরে অপশন পরিবর্তনের জন্য ডি আই অফিসে বহু বার গিয়েছি, কিন্তু কাজ হয়নি। গত ১৩ জুন ২০১৪ তারিখে সরকারি গেজ়েট প্রকাশিত হয়। সরকারি অর্ডারে অপশন পরিবর্তন করার সুযোগ দেওয়া হয়। আমি সুযোগ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত অপশন ফর্ম পূরণ করে গত ২৬-৬-২০১৪ তারিখে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিই। প্রধান শিক্ষক C.P.F. Statement এবং অন্যান্য কাগজপত্র ৯-৭-২০১৪ তারিখে ডি আই অফিসে জমা দেন। আমি যে হেতু ১ নং কলমে অপশন দিয়েছি, সে হেতু আমার আবেদন অগ্রাহ্য করলেন। অথচ ৭৫০০ শিক্ষক যাঁরা ৩ নং (C.P.F.-Cum-gratuity) কলমে অপশন দিয়েছিলেন, তাঁরা C.P.F.-এর টাকা ফেরত দিয়ে family pension-Cum-gratuity স্কিমে এলেন। আমি ৬০ বছরে অবসর নিয়েছি এবং নতুন স্কেলে বেতনও নিয়েছি। আমার আবেদন মঞ্জুর হল না। বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলাম। কোর্ট C.P.F. টাকা জমা দেওয়ার জন্য রায় দিল। কোর্টের রায়, উকিলের চিঠি এবং অন্যান্য কাগজপত্র পুনরায় গত ২৪-৫-২০১৬ তারিখে ডি আই অফিসে জমা দিই। ৩৩ মাস পার হয়ে গেল, ডি আই সাহেব আমার চালানও পাশ করলেন না, কোনও উত্তরও দিলেন না। আমি ৭৪ বছরের রোগগ্রস্ত বৃদ্ধ। ৩,৬৪৫ টাকা পেনশন পাই। সামান্য টাকায় দু’জনের সংসার চলে না।

মৃত্যুঞ্জয় সাধুখাঁ

নওপাড়া, হুগলি

এমন আইন

দু’বছর হয়ে গেল ডিজিটাল রেশন কার্ড না পাওয়ায় খাদ্য দফতরের স্থানীয় অফিসে গিয়ে জানতে পারলাম, ভুল করে অন্যের নামে কার্ড হয়ে গিয়েছে। আধার কার্ড আর পুরনো রেশন কার্ড নিয়ে আবার এক দিন যেতে হবে তাদের অফিসে। আবার গেলাম। নতুন করে নথিভুক্ত করা হল ৩ নং ফর্মে। চার মাস পর খবর নিতে বললেন। প. ব. সরকারের অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা আইনে ১৫ দিনের মধ্যে পাওয়ার কথা। এমন আইন করার কী প্রয়োজন, যেটাকে সরকার নিজেই মান্যতা দেয় না।

বাসুদেব দত্ত

চৈতলপাড়া, শান্তিপুর