Advertisement
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Artists

সম্পাদক সমীপেষু: উপেক্ষিত শিল্পী

কিছু গুণী মানুষের জন্মশতবর্ষ কত অনাদরে, অনুচ্চারিত ভাবে পেরিয়ে যায়, দেখে আক্ষেপ হয়, লজ্জাও। ২০১৫ সালে শম্ভু মিত্রের জন্মশতবর্ষ ছিল।

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২২ ০৪:৩৭
Share: Save:

কলকাতার কড়চার ‘নতুন প্রাপ্তি’ (২১-৫)-তে জানতে পারলাম, উত্তরপাড়ায় ‘মৃণাল মঞ্জুষা’ নামে মৃণাল সেনের জীবন ও চলচ্চিত্র বিষয়ক আর্কাইভ ও মিউজ়িয়াম তৈরির কাজ শেষ। ১৪ মে, মৃণাল সেনের জন্মদিনের দিন থেকে তা সকলের জন্য খুলেও দেওয়া হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে চলছে ‘রায় মিউজ়িয়াম’-এর কাজও। এই সব সংবাদে মন গর্বে ভরে ওঠে।

Advertisement

এর পাশাপাশি বেশ কিছু গুণী মানুষের জন্মশতবর্ষ কত অনাদরে, অনুচ্চারিত ভাবে পেরিয়ে যায়, দেখে আক্ষেপ হয়, লজ্জাও। কয়েক বছর আগেই ২০১৫ সালে শম্ভু মিত্রের জন্মশতবর্ষ ছিল। প্রভাতকুমার দাসের সম্পাদনায় ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল বহুরূপী পত্রিকার শম্ভু মিত্র জন্মশতবর্ষ সংখ্যা। এ ছাড়া অন্য কোনও সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে তাঁর জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপিত হয়েছিল বলে শুনিনি। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে নির্মিত হয়েছিল পথের পাঁচালী। ওই সময়েই মঞ্চস্থ হয়েছিল ‘বহুরূপী’ প্রযোজিত ও শম্ভু মিত্র পরিচালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্তকরবী। শম্ভু মিত্রই দেখিয়েছেন, রবীন্দ্রনাট্য মঞ্চে ওই ভাবে করা যায়, এর আগে যা ছিল কল্পনাতীত। নির্দ্বিধায় বলা যায়, ভারতে নাট্য প্রযোজনার জগতে রক্তকরবী একটি মাইলফলক। শুধু তো রক্তকরবী নয়, ছেঁড়াতার, দশচক্র, চার অধ্যায়, পুতুলখেলা, রাজা অয়দিপাউস— একের পর এক যুগান্তকারী প্রযোজনা তখন কলকাতার মঞ্চে শম্ভু মিত্রের পরিচালনায়। কিন্তু আমরা নাট্যপ্রেমী সাধারণ মানুষেরা জানি না ওই সব নাটকে শম্ভু মিত্রের ব্যবহৃত পোশাক আজ কোথায়। তাঁর পোশাক, বই, তাঁর সম্পাদিত নাটকের স্ক্রিপ্ট ইত্যাদি নিয়ে কিছু কি করা যেত না? এখনও কি যায় না?

শম্ভু মিত্র নাটকের জন্য বিদেশ থেকে সিক্স ওয়ে ডিমার, সম্ভবত ন’টা বেবি স্পটলাইট আনিয়েছিলেন বলে শুনেছি। ‘বহুরূপী’-র লাইব্রেরিতে ছিল অসংখ্য দুষ্প্রাপ্য বই। সেই সব বই ও অন্যান্য নাট্যসামগ্রীর খোঁজ কি পেতে পারি না? তাঁর সমসাময়িক নাট্য পরিচালক, নাট্যবোদ্ধা এখনও অনেকেই আছেন, যাঁরা সেই সময়ে নিয়মিত তাঁর কাছে যেতেন। তাঁরা কি কোনও উদ্যোগ করতে পারেন না? তাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মই লাভবান হবে। আর দেরিতে হলেও এই গুণী শিল্পীকে একটু সম্মান জানাতে পারব।

নির্মলকুমার দাস, কলকাতা-১২৪

Advertisement

দায় শিক্ষকেরও

সুকান্ত চৌধুরী যথার্থই বলেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যবস্থায় নেতা ও আমলাদের হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়ন ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে, উৎকর্ষ নষ্ট করেছে (‘শিক্ষার কর্তা ও কর্ম’, ৩১-৫)। তবে এই ব্যাখ্যা একটা অসম্পূর্ণ চিত্র পেশ করে। প্রথমত, ভারতের প্রায় ৮৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতা-আমলাদের হামলার খুব একটা সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও, গোটা দশেক বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদ দিলে, এগুলি উচ্চশিক্ষার যে মডেল তৈরি করেছে, তা একেবারেই অনুকরণযোগ্য নয়। অথচ, বিদেশের যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিয়ে আমরা গর্ব করি, তার বেশির ভাগই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

দ্বিতীয়ত, পাঠ্যক্রম, পাঠ্যবই, পঠন-পাঠন, শিক্ষক নিয়োগ, ইত্যাদি ব্যাপারে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে (এমনকি অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে) যে অধঃপতন ঘটেছে, তার দায় শুধু নেতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে শিক্ষকরা দায়মুক্ত হতে পারেন না। নোটবইয়ের সংস্কৃতি (হিন্দি বলয়ে বলা হয় কুঞ্জি) নেতারা তৈরি করেননি, করেছেন শিক্ষককুল। সাজেশন-ভিত্তিক পরীক্ষাব্যবস্থাও নেতাদের দান নয়। উপযুক্ত না হলেও প্রশংসা-ভরা সুপারিশ এ দেশের শিক্ষকদের বিশেষত্ব, যা গবেষণা ও শিক্ষকতার মানকে নিম্নগামী করেছে। খেতখামার ছাড়াই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশেই চলে। নেতা-আমলাদের সঙ্গে শিক্ষক সমাজের একটা অংশের অশুভ আঁতাঁতের কথাও মনে রাখতে হবে।

তৃতীয়ত, লেখক-উল্লিখিত নেতা-আমলাদের হামলা আজকের নয়। তবু কিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি বিভাগ তারই মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণার সুনাম বজায় রাখতে পেরেছে। অন্য দিকে, কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগও সেই সুনাম রাখতে পেরেছে। সেটা সম্ভব হয়েছে সেই সব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, এবং সেই বিভাগগুলির অধ্যাপক-শিক্ষকদের ধারাবাহিক দায়বদ্ধতার ফলে। এই দায়বদ্ধতা যেখানে খুব জোরালো, সেখানে নেতা-আমলাদের হামলা অনেকটা রোখা গিয়েছে, তাঁরাও খুব একটা সাহস করেননি। এ রকম উদাহরণ পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশেই কিছু কিছু দেখতে পাওয়া যায়। কাজেই এক দিকে যেমন নেতা-আমলাদের হামলা বন্ধ করতে হবে, তেমনই উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষের লক্ষ্যে শিক্ষক সমাজের সংঘবদ্ধ দায়বদ্ধতা আরও অনেক বাড়তে হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষকরা দলীয় ও জাতি রাজনীতি থেকে নিজেদের যতটা দূরে রাখতে পারবেন, ততটাই শিক্ষার পক্ষে মঙ্গল।

অশোক সরকার, কলকাতা-৯৯

সম্প্রীতির আবহ

বারাসতের পশ্চিম ইছাপুর নবপল্লির বসু পরিবারের মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ ও তার সংস্কারের খবরটা (‘পার্থসারথির কাছে পারিবারিক মসজিদ-সেবা দেশেরই কাজ’, ২৫-৫) পড়ে মন ভরে গেল। মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার খবর পাওয়া যায়। সেখানে এ রাজ্যে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষদের মধ্যে এমন সম্প্রীতির সুর অন্যদের কাছে উদাহরণস্বরূপ। কোভিডে আমরা অনেককেই হারিয়েছি। মনে পড়ে, অলোকের মা কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সময় যেখানে তার পরিবারের লোকজন ভাইরাসের ভয়ে এগিয়ে আসেননি, সেখানে তার বন্ধু আনোয়ার আলোকের মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চলে যায় শ্মশানে। সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে ১৪ দিন আলাদা কাটাতে হয় তাকে। তেমনই নারায়ণের পিতার মৃত্যুতে সমস্ত দায়িত্ব পালন করে তার বন্ধু আনোয়ার।

তাই সবার কাছে আবেদন, ভেদাভেদ ভুলে সবাই যেন পরস্পরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরোপকারে অংশ নিতে পারি। সেটাই হবে আমাদের চরম সার্থকতা।

সাইদুর রহমান বিশ্বাস, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

কোর্টের রায়

সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত পথকুকুরদের খাবার পাওয়ার অধিকারের উপর জারি করা স্থগিতাদেশ খারিজ করল। গত মার্চ থেকে চালু এই নিষেধাজ্ঞাটি মূলত দিল্লি হাই কোর্টের গত বছর জুনে দেওয়া একটি রায়ের উপর ছিল। সেখানে বিচারপতি জে আর মিধার বেঞ্চ স্পষ্ট উল্লেখ করে যে, দিল্লির সাধারণ মানুষের পথকুকুরদের খাওয়ানোর অধিকার আছে। দেশ জুড়ে পথকুকুরপ্রেমী এবং তাঁদের সমালোচকদের মধ্যে সংঘাতের প্রেক্ষিতে এই রায়টি সত্যিই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দিল্লির এক কুকুরপ্রেমী এবং এক জন স্থানীয়ের মধ্যে বিরোধের মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়। এই রায়ে পথকুকুরদের খাওয়ানোর পাশাপাশি নিজেদের সতর্ক থাকার কথাও বলা হয়েছে, যাতে কারও কোনও ক্ষতি না হয়।

মাননীয় বিচারপতি যথার্থই বলেছেন যে, প্রতিটি জীবিত প্রাণীর প্রতি আমাদের সহমর্মিতা দেখানো উচিত। পশুরা কথা বলতে পারে না, কিন্তু সমাজ হিসেবে আমাদেরই দায়িত্ব ওদের হয়ে কথা বলা। তাই দেখতে হবে, পশুদের কেউ যেন যন্ত্রণা দিতে না পারে। ওদেরও আবেগ আছে। মানুষের মতো ওদেরও খাদ্য, বাসস্থান, স্বাভাবিক ব্যবহার এবং চিকিৎসার সুবিধা প্রয়োজন। এ ছাড়া টিকা দেওয়া এবং স্টেরিলাইজ় করা কুকুরদের ধরার অধিকার মিউনিসিপ্যালিটির নেই। পথকুকুরদের টিকাকরণ ও নির্বীজকরণের দায়িত্ব মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ও স্থানীয় ডগ লাভার্স গ্রুপের। পথকুকুরদের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে নির্বীজকরণ আবশ্যক।

অভিজিৎ রায়, জামশেদপুর

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তেফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ

Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.