জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির অবসান হল। দাবিদাওয়া মেনে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একঘর লোকের বৈঠককে যে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনা করে সফল করা যায়, সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। মুখে যা-ই বলুন, রাজধর্ম পালনের ক্ষেত্রে তিনি যে পূর্ণ দায়িত্বশীল, সে প্রমাণ আবারও রাখলেন। আন্দোলনের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ডাক্তাররা অপমানিত বোধ করেছিলেন। দাবি তুলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়াও মুখ্যমন্ত্রীর নিন্দা ও সমালোচনায় মুখর হয়েছিল। নবান্ন-বৈঠকের পর সেই ডাক্তারদের এবং অগণিত রাজ্যবাসীর মন জয় করলেন মুখ্যমন্ত্রী। একদম ঠিক কথাটা কখন বলা উচিত বা ঠিক কাজটি কখন করা দরকার, এ কৌশলী জ্ঞানবুদ্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ পারদর্শী। তাঁর মুখের ভাষাও খোলামেলা। তিনি পূর্বাপর দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং আজও তিনি অতি সহজেই জনসংযোগ স্থাপন করতে পারেন। 

বিগত লোকসভা নির্বাচনে কিছুটা ধাক্কা খাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছিল। তিনি একাধিক জনরোষের মুখে পড়ে কখনও মেজাজও হারিয়ে ফেলছিলেন। ডাক্তারদের দাবি মিটিয়ে দিয়ে এ বার কিছুটা হলেও ভাবমূর্তি রক্ষার সুযোগ করে নিলেন। 

শিবাশিস দত্ত 

কলকাতা-৮৪

 

গর্জাল, কিন্তু...

এটা অবশ্যই জুনিয়র ডাক্তারদের নৈতিক জয়। নীলরতন সরকার হাসপাতালের বদলে নবান্নে বৈঠক মেনে নেওয়া জুনিয়রদের সঠিক সিদ্ধান্ত। ঝামেলা মেটানোর জন্য তাঁদের আগ্রহ তাতে প্রমাণিত হয়েছে। তবু সুনির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস পাওয়া গেল না। আঠারো বছরের যে স্পর্ধায় সব কিছু চুরমার করা যায়, সেই দুঃসাহস মিটিংয়ে অনুপস্থিত ছিল। মানুষের কাছে একটা সদর্থক বার্তা পৌঁছল নিশ্চয়। আর একটা বার্তাও পৌঁছল, যত গর্জায় তত বর্ষায় না। 

এটা পরিষ্কার হওয়া উচিত ছিল, এ আন্দোলন স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নৈরাজ্য তথা সরকারি অব্যবস্থার বিরুদ্ধে। এ আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনেও নয়। আন্দোলনের দাবি হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঠিক করা, ওষুধের পর্যাপ্ত জোগান রাখা, রোগীদের স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি, চিকিৎসক তথা চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে স্বাস্থ্যনীতি তৈরি করা। রোগী স্বার্থেই এ সব দরকার। মিটিংয়ে সেই বাজনাটা বাজল না। 

পার্থপ্রতিম পাল

হাওড়া 

 

তোমাদেরই

এক জন ডাক্তার হিসেবে বলি, সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজারে হাজারে পোস্ট পাওয়া যাচ্ছে যে ডাক্তার হলেন ভগবান, দেবতা, ঈশ্বরের দূত ইত্যাদি। কিন্তু আমরা তা কখনওই নই। আমরা চাই না এই সব ভূষণে ভূষিত হতে। বরং আমরা চাই ‘‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক আমি তোমাদেরই লোক’’।

যাঁরা এই সব পোস্ট করছেন, (ভগবান না করুন) পরে যদি কখনও তাঁদের ঘরে দুর্ভাগ্যজনক কিছু ঘটে, তখন তাঁর/তাঁদের আজকের পোস্ট করা মন্তব্যটি মনে থাকবে তো?

শান্তনু গুপ্ত

কারবালা টি এস্টেট, জলপাইগুড়ি

 

আন্দোলন ছাড়া

আরও এক বার প্রমাণ হল, আন্দোলনই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। ডাক্তারদের বহু দিনের দাবি কিছুটা হলেও সরকার মেনে নিয়েছে। ধর্মঘট, আন্দোলনে কিছু মানুষের ক্ষতি হয়ই। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বা বড় ক্ষতির থেকে রক্ষা পেতে, কিছু ক্ষতি সব ক্ষেত্রেই স্বীকার করতে হয়। ডাক্তারদের এই আন্দোলনেও কিছু সমস্যা তো হয়েছেই। কিন্তু সরকারি আশ্বাসমতো পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা পেলে, আগের থেকে ডাক্তাররা এখন আরও বেশি পরিষেবা দিতে পারবেন এবং রোগীরা বেশি উপকৃত হবেন।

নিখিল কবিরাজ 

রামনগর, হাওড়া

 

সমস্যাগুলো

সরকারি হাসপাতালের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, শৃঙ্খলার অভাব। রোগী প্রবেশ থেকে বেরোনো, সর্বত্র বিশৃঙ্খলা। প্রথম বিশৃঙ্খলা হল, নিরাপত্তাজনিত বিশৃঙ্খলা। যেখানে রোগীর সঙ্গে রোগীর পরিবারের লোকজন, পাড়াপ্রতিবেশী সকলে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়েন। যেখানে নীরবতা এবং শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা সবচেয়ে প্রয়োজন, সেখানেই সবথেকে বেশি হই-হট্টগোল। আমি ভেলোর এবং এমস-এ চিকিৎসা সূত্রে গিয়ে দেখেছি, সেখানে হাজার হাজার রোগী, অথচ কত সুশৃঙ্খল। কারণ ওখানে নিরাপত্তার বিষয়টা পুরোপুরি দেখে প্রফেশনাল সিকিয়োরিটি এজেন্সি। এই সিস্টেমটা সমস্ত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল এবং মহকুমা হাসপাতালে চালু হওয়া উচিত।

দ্বিতীয় বিষয় হল, ডাক্তার-সহ হাসপাতালের কর্মীদের, রোগী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সঠিক আচরণ করা। বেসরকারি হাসপাতালে এর এক-চতুর্থাংশ বেতনে কাজ করা কর্মচারীদেরও সহবত রয়েছে। সরকারি চাকরি করি বলেই আচরণ উদ্ধত হতে হবে, এমনটা কোথাও নিয়ম নেই। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে এটা যেন একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, একই ডাক্তার আমার সঙ্গে হাসপাতালে খুব রূঢ় ব্যবহার করেন, অথচ ব্যক্তিগত চেম্বারে কতই না মোলায়েম!

তৃতীয় বিষয় হল, ডাক্তারদের ব্যক্তিগত চেম্বারের প্রতি আসক্তি। এক জন ডাক্তার পাশ করার আগে থেকেই নার্সিংহোমগুলিতে খেপ মারা শুরু করেন। আর যে দিনই জেলা হাসপাতাল বা মহকুমা হাসপাতালে জয়েন করেন, সেই দিন থেকেই তিন-চারটি চেম্বারে বসা বাঁধাধরা হয়ে যায়। ডাক্তার হওয়া ছেলে বা মেয়ের মা-বাবারও চান, সন্তান আমার দু’হাত ভরে রোজগার করুক। তা সে যতই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে র‌্যাঙ্ক করে বলুক, আমি গরিবদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করব! ভোগবাদী হাতছানিতে সে সব কোথায় মিলিয়ে যায়। হাসপাতালের রোগীদের দুর্গতির প্রধান কারণ হল, ডাক্তারদের প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে না পাওয়া। বস্তুত, এত বড় আন্দোলন না হলে জানতেই পারতাম না, আমাদের রাজ্যে এত ডাক্তার আছে। অথচ সরকারি হাসপাতালে তাঁরা অদ্ভুত ভাবেই অনুপস্থিত! নন-প্র্যাক্টিসিং অ্যালাউয়্যান্স বলে একটা বিষয় রয়েছে জানি। খোঁজ নিয়ে দেখুন তো সরকারি হাসপাতালে কত জন ডাক্তার এই অ্যালাউয়্যান্স নিয়ে, প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করেন না! শিক্ষকরা কিন্তু টিউশন না পড়ানোর জন্য নন-প্র্যাক্টিসিং অ্যালাউয়্যান্স পান না।

কৌশিক সরকার

রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া

 

একটু চিন্তা

2 একটু চিন্তা হচ্ছে, এ বারে যখন কোনও স্টেশনমাস্টার নিগৃহীত হবেন (যে ঘটনা ঘটেই থাকে), 

তখন কি এক সপ্তাহ রেলওয়ে বন্ধ থাকতে পারে?

রবীন পাকড়াশি

কেষ্টপুর 

 

এড়িয়ে গেলেন

2 নবান্ন থেকে ফিরে এসে এনআরএস-এ যখন জুনিয়র ডাক্তাররা সাংবাদিকদের মুখোমুখি, তখন সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একটি প্রশ্ন আসে, যে সাংবাদিক সে দিনের ঘটনার ছবি তুলতে গিয়েছিলেন, তাঁকে এক জন ডাক্তারের হাতে প্রহৃত হতে হয়... সে সময় দেখা গেল, তাঁরা যতটা সম্ভব প্রশ্নটার উত্তর এড়িয়ে গেলেন। যাঁরা এই আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন, তাঁদের প্রতি জুনিয়র ডাক্তারদের এ হেন আচরণে মর্মাহত।

শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-১১৪