আইনের রক্ষাকর্তা হলেন বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী আর সংবিধানের রক্ষক হলেন বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ, অবিচ্ছেদ্য অংশ আইনজীবীরা। গত কয়েক মাস ধরে আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের ঝামেলা লেগেই চলেছে।

কয়েক মাস আগে হাওড়া জেলা আদালতে গাড়ি রাখা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের গোলমাল বাধে, যার ফলে আইনজীবীরা রাজ্য জুড়ে আদালতে দীর্ঘ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করেন। গত কয়েক দিন আগে দিল্লির তিস হাজারি আদালতে সেই গাড়ি রাখা নিয়েই অশান্তি হল পুলিশকর্মীদের সঙ্গে আইনজীবীদের, যা থেকে মারামারি ও শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সামনে পুলিশকর্মী ও তাঁদের পরিজনদের দীর্ঘ ধর্না।

লক্ষ করতে হবে, দুটো ঘটনাতেই গন্ডগোলের সূত্রপাত গাড়ি রাখার জায়গার অপ্রতুলতা নিয়ে। বহু বহু বছর আগের তৈরি আদালত-বাড়িতে সেই সময়ের কল্পনার তুলনায় মামলা, আইনজীবী এবং আদালতে নিয়মিত আসা গাড়ির সংখ্যা এখন অনেক বেশি। যদি এক একটি আদালতের jurisdiction কমিয়ে আরও অনেক আদালত প্রতিষ্ঠা করা যায়, সুরাহা হয়। আদালতগুলোর লাগোয়া অংশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জমি-জায়গা না থাকায়, গাড়ির স্ট্যান্ড বা নতুন ভবন বানানো সমস্যা। তাই ছোট ছোট জেলা, মহকুমা আদালত বানালে, সমস্যার সমাধান হতে পারে। 

পার্থ নন্দী

শেওড়াফুলি, হুগলি

 

বিমানবন্দর

রাজ্য সরকার কলকাতা থেকে ১৮৭ কিমি দূরে অবস্থিত অন্ডাল বিমানবন্দরকে কলকাতার দ্বিতীয় বিমানবন্দর করার জন্য অনড় মনোভাব নিয়েছেন। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ প্রভৃতি বিমানবন্দরগুলির দ্বিতীয় বিমানবন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ কিমি-র মধ্যে। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছাকাছি এক লপ্তে ৪০০০ একর জমি পাওয়া যাবে না, তাই কলকাতা থেকে ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত সামরিক বিমানক্ষেত্র ব্যারাকপুরের কথা ভাবা যেতে পারে। রাজ্য সরকার মনে করতে পারে, সামরিক বিমানক্ষেত্রে অসামরিক বিমান চলাচলের অনুমতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দেবে কেন? ভারতে অ্যাডভান্স ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড-সহ কমবেশি ১০০টি বিমানক্ষেত্র আছে। তার মধ্যে ৮৫টি বিমানবন্দরে, সামরিক ও অসামরিক বিমান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলাচল করে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমানের রুটিন মহড়াও চলে। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, শ্রীনগর, জম্মু, জোধপুর, অমৃতসর, এমনকি পশ্চিমবঙ্গে বাগডোগরাতেও দু’ধরনের বিমান ওঠানামা করে। তা ছাড়া নতুন বিমানবন্দর গড়তে অনেক টাকা প্রয়োজন, জমির সমস্যা তো আছেই। যদি অপেক্ষাকৃত কম টাকা খরচা করে ব্যারাকপুর বিমানবন্দরে যাত্রী-চলাচলের উপযোগী টার্মিনাল বিল্ডিং গড়ে তোলা যায়, তা হলে ভাল হবে।

অরুণ কুমার ধর

অশোকনগর, উত্তর ২৪ পরগনা

 

রিপোর্ট দেখতেও

অনেক চিকিৎসক রোগী দেখে পারিশ্রমিক নিতেন, কিন্তু তার পর রিপোর্ট দেখাতে গেলে আর নিতেন না। দুঃখের বিষয়, সম্প্রতি কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে, রিপোর্ট দেখাতে গেলেও ফিজ় দিতে হচ্ছে। কিছু নামজাদা চিকিৎসক, যাঁদের পারিশ্রমিক খুবই বেশি, তাঁরাও এই নিয়ম চালু করেছেন তাঁদের চেম্বারে। একেই তো টেস্টগুলো খুবই ব্যয়বহুল, তার উপর এই নিয়ম কি অমানবিক নয়?

হরিজীবন বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা-৪৭

 

আতঙ্ক

আতঙ্ক-সৃষ্টিকারী হিসেবে মোদী-অমিত শাহ জুটির কোনও জুড়ি নেই! নোট বাতিলের সূত্র ধরে এ পথ চলা তাঁদের শুরু হয়েছিল। সীমান্তে গোলাগুলি ও বোমার দাপটে মাঝে মাঝে এমনই উত্তাপ বাড়িয়ে তোলেন যে মনে হয় এই বুঝি বড় কিছু ঘটল! হঠাৎ হঠাৎ ব্যাঙ্কের সুদ কমিয়ে দেওয়ায় আর এক রকম আতঙ্ক! রান্নার গ্যাস ব্যবহারকারীদের তো প্রায় যেন বলেই দেওয়া হয়েছে, আচমকাই বন্ধ হতে পারে ভর্তুকি। গোটা একটা রাজ্যকে প্রায় জরুরি অবস্থায় মুড়ে ফেলেছেন। ‘৫০ পেরোলেই ডাক্তারদের দরজা দেখাতে চাইছে রেল’ (২৬-১০) এমনই একটা খবর। আতঙ্ক তৈরি হল রেলের ডাক্তারদের মধ্যে। 

যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, ডাক্তারদের কাজের দক্ষতা ও দায়বদ্ধতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নিরিখেই নাকি এই সিদ্ধান্ত। ৫১-য় পা দিলেই ডাক্তারদের দক্ষতা কমে যায়! বাস্তবে আমরা তো অন্য রকম দেখি! সমাজের প্রায় যে কোনও বৃত্তিধারী মানুষেরই, তাঁদের নিজেদের বিষয়ের উপর পূর্ণ দখলের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ বরং ৫০-এর পরেই আমরা দেখে থাকি। দক্ষতার চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন ব্যক্তিটি পৌঁছলেন, তখনই তাঁকে কাজ থেকে সরিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে? সরকারের কাছে অনুরোধ, দেশের সেরা ১০০ জন ডাক্তারের একটা তালিকা তৈরি করুন, দেখুন তো তাঁদের অধিকাংশের বয়স ৫০-এর নীচে না উপরে?

প্রবীর চক্রবর্তী

গোচারণ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

ওঁদের দাবি

ঈশা দাশগুপ্তের ‘বকশিস দিয়েছেন তো?’ (৬-১১) নিবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। আমাদের দেশে বর্তমানে বেকারত্বের যা সমস্যা, তাতে কি এই পরিচারিকারা যা বেতন/ মজুরি চাইছেন, তা আদৌ পাবেন? তা ছাড়া, তাঁদের নানা কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যেমন, তাঁদের জন্য গৃহস্থের ঝামেলাও কিছু কম হয় না। এঁদের হাজিরার কোনও নিশ্চয়তা নেই, যখন-তখন না-বলেই অনুপস্থিত হন। বাড়ির কর্ত্রীকে অনেক দুঃখের কথা বলে অগ্রিম টাকা নিয়ে যান এবং প্রতি মাসেই এটা চলতে থাকে। তাই প্রথম অগ্রিম দেওয়া টাকা আর সহজে ফেরত পাওয়া যায় না। পুজোর আগে এক মাসের বেতন বোনাস হিসেবে দেওয়াটা এখন প্রায় সর্বত্র নিয়ম, পুরনো কাপড় দিয়ে কেউই দায় সারেন না। 

এঁদের নানা রকম অন্যায্য দাবিদাওয়ার জন্য, যাঁরা এঁদের নিয়োগ করেন তাঁরা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন এবং বিকল্প ব্যবস্থা সন্ধান করছেন। এখন অনেক রকম মেশিন এসে গিয়েছে, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ আভেন, রুটি তৈরির যন্ত্র, বাসন ধোয়ার যন্ত্র, সবই বাজারে পাওয়া যায়। কিছু দিনের মধ্যে ঘর মোছার যন্ত্রও বাজারে এসে যাবে (বিদেশে অনেকে ব্যবহার করছেন)। মানুষ যদি এই সব যন্ত্র ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে যান, তখন পরিচারিকাদের সঙ্কট বাড়বে। বর্তমানে বহু স্নাতকও বেসরকারি সংস্থায় ছ’হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ করেন। এঁরা যে বেতন চাইছেন, বাজারের যুক্তিতে তা দেওয়া অসম্ভব।

দীপক দাশগুপ্ত 

কলকাতা-৭৮

 

কেন টাকা

‘শ্রমিককে টাকা’ (৬-১১) খবরটা দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম। কাশ্মীর-ফেরত ১৩৩ জন শ্রমিককে কেন টাকা দেওয়া হবে, বোধগম্য হল না। ওঁরা কাজ করতে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন, কাজ করেছেন। পয়সাও পেয়েছেন। সন্ত্রাসবাদীদের ভয়ে নিজেদের গ্রামে ফিরতে চাইছিলেন, রাজ্য সরকার ফেরার বন্দোবস্ত করেছে, খুব ভাল। কিন্তু শুধু শুধু ৫০ হাজার টাকা এক এক জনকে দেওয়া হল, এ কি উপহার না ক্ষতিপূরণ? 

ছন্দা দাস সরকার

কলকাতা-১০৩

 

প্যান

লক্ষ করেছি, বিভিন্ন ফর্ম ইত্যাদিতে লেখা হয়, বলাও হয়, PAN no. দিন। PAN কথাটির অর্থ Permanent Account number, তা হলে PAN-এর পরে no. বসতে পারে না।

সন্তোষ চক্রবর্তী

কলকাতা-৩৪

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।