E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: কেমন নিয়ম?

এখন অণু পরিবার। সবার একটা করে সন্তান, এবং বেশির ভাগই অন্য রাজ্যে বা বিদেশে থাকে। ছেলের ভোটার কার্ডে তো বাবার নাম ছিল। তা হলে নিতে বাধা কোথায়?

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪৭

গত ১৮ মার্চ রাতে আমার ভাশুর মারা যান। তাঁর একমাত্র সন্তান নাগপুর থেকে এসে বাবার সৎকার করেন। এখন ডেথ সার্টিফিকেট পেতে হলে ভোটার কার্ড সারেন্ডার করতে হবে। সমস্যা হল, ওঁর ছেলের ভোটার কার্ড নাগপুরের, তাই তা এখানে গ্রাহ্য হবে না। শেষ পর্যন্ত আমি, ছেলের কাকিমা হিসাবে আমার ভোটার কার্ডের তথ্য দিয়ে মৃতের ভোটার কার্ড সারেন্ডার করতে বাধ্য হই। কিন্তু আমি কামারহাটি পুরসভায় থাকলেও বর্তমানে বরানগর পুরসভার আওতায় পড়ি। সুতরাং ভোটার কার্ডের তথ্য ওই বরাহনগর পুরসভাতেই জমা দিতে হবে।

এখন অণু পরিবার। সবার একটা করে সন্তান, এবং বেশির ভাগই অন্য রাজ্যে বা বিদেশে থাকে। ছেলের ভোটার কার্ডে তো বাবার নাম ছিল। তা হলে নিতে বাধা কোথায়? আমি আগেও আবেদন করেছিলাম যে, কলকাতাবাসীদের মতো আমাদের এখানেও শ্মশানে মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া চালু হোক। কিন্তু এই বিষয়ে প্রশাসন কোনও কর্ণপাত করেনি। আমার মতো এখনও আত্মীয়-স্বজন আছে, তাই ভোটার কার্ড সারেন্ডার করতে পারলাম। কিন্তু যাঁদের এমন আত্মীয় বা পরিচিত নেই? সে ক্ষেত্রে কাকে নিয়ে যাবেন প্রবাসী সন্তানেরা?

একটা ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য এক বার কামারহাটি এক বার বরানগর পুরসভায় যেতে হচ্ছে ভাশুরের ছেলেকে। এই সময়ে এমনিতেই বাড়িতে নানা কাজকর্ম থাকে। তা ছাড়া অফিসেও কত দিন ছুটি মিলবে, জানা নেই। আসলে, মৃত্যুর শংসাপত্র না থাকলে অনেক কাজ করা যায় না। তাই প্রশাসনকে এই ব্যাপারে নিয়ম বদলের আবেদন করছি। সেই সঙ্গে শ্মশানেই মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি, যাতে মানুষের হয়রানি কমে।

মলিনা সাহা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা-৫৬

ফোন বন্ধ

‘মোবাইলে কোপ’ (২৩-৩) শিরোনামের খবরে প্রকাশ, ইউনেস্কোর সমীক্ষা জানিয়েছে যে বিশ্বের ৫৮ শতাংশ দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ১১৪টি শিক্ষাব্যবস্থায় স্কুলে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অজানা তথ্য জানার জন্য শিক্ষার্থীদের আর প্রচুর পুস্তক ঘাঁটার দরকার হয় না, কিন্তু অধিক সময় মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখার ফলে কমবয়সি ছাত্রছাত্রীদের চোখ এবং মানসিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিমারির সময় স্কুল বন্ধ ছিল, তাই অনলাইন ক্লাস করার জন্য মোবাইলের ব্যবহার অপরিহার্য ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে স্কুলে বা বাড়িতে মোবাইলের ব্যবহার এ দেশেও নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। শিক্ষার বিষয় ছাড়াও অনেক অপসংস্কৃতিমূলক বিষয় মোবাইলে অল্পবয়সি শিক্ষার্থীদের বিপথে চালনা করে। এই রাজ্যে আবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের অর্থ দেওয়া হয় স্মার্ট ফোন বা ট্যাব কেনার জন্য। শিক্ষক শিক্ষিকারাও স্কুলে অবসর সময়ে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখে সময় কাটান, যা শিক্ষার্থীদেরও মোবাইল ব্যবহারে উৎসাহিত করে। যদি বিশ্বের উন্নত দেশগুলি স্কুলের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পারে, তবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে স্কুলে মোবাইল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করায় বাধা কোথায়?

সুকুমার সরকার, শেওড়াফুলি, হুগলি

প্রকল্পের বাইরে

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহু কর্মচারী ও পেনশনভোগী ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের অন্তর্গত। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম (৫০০ টাকা) জমা দিতে হয়। কলকাতার অনেক নামী বেসরকারি হাসপাতাল এই স্কিমের অন্তর্গত বলে শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ভর্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে অনেক সময় ডব্লিউবিএইচএস-এর সুবিধা মিললেও, আউটডোরে নামী চিকিৎসকদের দেখাতে গেলে সেই সুবিধা মিলছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রায়শই জানান যে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের চেম্বারে ওই প্রকল্প কার্যকর নয়। ফলে রোগীকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ফি দিয়েই চিকিৎসা নিতে হয়। এতে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, যে হাসপাতাল ডব্লিউবিএইচএস অনুমোদিত বলে প্রচারিত, সেখানকার আউটডোর পরিষেবা কেন ওই স্কিমের অন্তর্গত নয়? সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি খতিয়ে দেখে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক।

দেবপ্রসাদ ঘোষ দস্তিদার, কলকাতা-৯৭

রেল বাজার

কোন্নগর রেল স্টেশনের পূর্ব দিকটা রেল কর্তৃপক্ষ বেড়াজাল দিয়ে মুড়ে দেওয়ায় গলাপোল দিয়ে পশ্চিমের রাস্তাটাই একমাত্র প্ল্যাটফর্ম যাওয়ার পথ। তার ধার ঘেঁষে রেলের জমিতেই রয়েছে সারি সারি ফলের দোকান। সেই রাস্তা ধরে একটু এগিয়ে গেলেই রয়েছে রেল বাজার, ওই রেলের জমিতেই। এই রেল বাজার এখন কোন্নগর শহরের ‘লাইফলাইন’। প্রতি দিন ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে, বিশেষত পুজোপার্বণে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এর ফল ভুগতে হয় যাত্রী-সাধারণকে।

অথচ, অদূরের প্রাচীন ‘সুরেন্দ্র বাজার’-এর এক সময় যে রমরমা ছিল, আজ তা নেই। নামমাত্র ক’টি আনাজ আর মাছের দোকান টিমটিম করছে। এটিকে সংস্কার করে আধুনিক বাজার করার পরিকল্পনা বা উদ্যোগ আদৌ চোখে পড়ে না। অনেক আন্দোলনের পর বাম আমলে স্টেশন চত্বরে যানজট কাটাতে একটি আন্ডারপাস তৈরি হয়। এখনও সেখানে টোল আদায় করা হয়। কিছু দিন আগে গলাপোলটি পথচারীদের জন্য সংস্কার করা হল। দেখা গেল টোল এড়াতে সেই পথ দিয়ে টোটো-ভ্যানের মতো যানবাহনের চলাচল বেড়ে গেল। আবার আন্ডারপাস দিয়ে যে সব যানবাহন টোল দিয়ে যায়, তাদের যেতে হয় টোটো অটোর দখলে থাকা সঙ্কীর্ণ পথেই।

অদূরে পুলিশের কিয়স্ক থাকলেও যান নিয়ন্ত্রণে কদাচিৎ উর্দিধারী পুলিশকর্মীদের দেখা যায়। এলাকার বিশৃঙ্খল অবস্থার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। রেল কর্তৃপক্ষের বদান‍্যতায় স্টেশন চত্বরে ব‍্যবসা বাণিজ্যের উত্তরোত্তর বিকাশ ঘটলেও রেলযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যটি বরাবর উপেক্ষিত থেকে যায়। তাই এই বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

দেবব্রত সেনগুপ্ত, কোন্নগর, হুগলি

ভুল তথ্য

গত ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘যুব সাথী প্রকল্প ২০২৬’-এ অনলাইনে আবেদন করি। পরের মাসে ট্রেজ়ারি থেকে একটি এসএমএস পাই। তাতে জানানো হয় যে, আমার আবেদন গৃহীত হয়েছে এবং ওই টাকা খুব তাড়াতাড়ি আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হতে চলেছে। সপ্তাহখানেক পরও টাকা যখন জমা হল না, তখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ২ নম্বর ব্লক অফিসে যোগাযোগ করি। তাঁরা বলেন পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, পোলেরহাট শাখায় যাঁদের অ্যাকাউন্ট আছে, তাঁদের অ্যাকাউন্ট নম্বরে ভুল থাকার জন্য তাঁরা টাকা পাচ্ছেন না। ওই শাখায় অ্যাকাউন্ট নম্বর ০৭৭ দিয়ে শুরু হলেও, যিনি ডেটা এন্ট্রি করেছেন তিনি ওই ‘০’ দেননি। ফলে কয়েকশো গ্রাহক এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আবেদন, অবিলম্বে এই ভুল শোধরানোর ব্যবস্থা করা হোক।

পৃথা মুখোপাধ্যায়, পোলেরহাট, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

ছাউনি চাই

আমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে হাওড়া স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করি। এত সরকার পাল্টাল, এত মন্ত্রী এলেন-গেলেন, হাওড়া স্টেশনের বাস টার্মিনাস পাল্টাল না। সাবওয়ে দিয়ে উঠেই ডান দিক থেকে অনেক বাস ছাড়ে। ই-১ বাসের জন্য সব সময় দীর্ঘ লাইন থাকে। প্রবল রোদ আর বৃষ্টিতে ভুগতে হয় যাত্রীদের। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সৌমিত্র সেনগুপ্ত, ভদ্রেশ্বর, হুগলি

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

death certificates Municipal Corporation West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy