বিমল জালান কমিটি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সঞ্চিত ভাণ্ডারের সর্বাধিক যতটা অংশ সরকারকে হস্তান্তরের সুপারিশ করেছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ততটাই হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, কমিটির মতে, অন্তত যতটা সঞ্চয় না রাখলেই নয়, এ বার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের তহবিলে কেবল সেইটুকুই পড়ে থাকছে। বড় রকমের ধাক্কা সামলানোর জন্য ন্যূনতম নির্ধারিত অঙ্কের ওপরে বাড়তি কোনও সম্পদই আর তার নাগালে থাকবে না। যেমন, বৈদেশিক বাণিজ্যের খাতায় ঘাটতি যদি কোনও অপ্রত্যাশিত কারণে অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ে কিংবা বিদেশি লগ্নি-পুঁজির বিনিয়োগ হঠাৎ কমে যায় এবং তার ফলে ভারতীয় টাকার দাম অস্বাভাবিক হারে কমতে শুরু করে, তা হলে সেই অনুসারে বাজারে বাড়তি সম্পদ ছেড়ে ভারসাম্য বজায় রাখার সামর্থ্য রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে ফাটকা কারবারিরা বিদেশি মুদ্রার বাজারে সক্রিয় হতে পারে, ফলে টাকার দামের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

সর্বনিম্ন থেকে সর্বাধিক অবধি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সঞ্চিত তহবিলের একটা পরিসর নির্ধারণ করে দিয়েছে জালান কমিটি। তার একটা যুক্তি আছে নিশ্চয়ই। অর্থব্যবস্থায় ঝুঁকির মাত্রা কতটা হতে পারে, সেটা অনুমান করে সেই ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য এই তহবিলের পরিমাণ স্থির করা হবে, এটাই স্বাভাবিক। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের আচরণ দেখে এটাই মনে হয় যে, তারা অর্থব্যবস্থায় ঝুঁকির মাত্রা কমের দিকে থাকবে বলেই মনে করছে। ভারতীয় ব্যাঙ্কব্যবস্থার লাগাতার সমস্যা, বিনিয়োগে মন্দা, আয়বৃদ্ধির গতিভঙ্গ এবং এ সবের ওপরে রাজকোষে প্রবল টানাটানি, এই সব সমস্যা সত্ত্বেও সরকার ধরে নিচ্ছে যে, কোনও বড় ধাক্কা আসবে না, অতএব রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সঞ্চিত সম্পদ ন্যূনতম স্তরে রাখলেই চলবে। ব্যবসায়ী বা শিল্পোদ্যোগীরা যখন ঝুঁকি নিয়ে লগ্নি করেন, সরকারের আচরণ অনেকটা সেই রকম।

এটা ঠিকই যে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তহবিলে শুধু শুধু বেশি অতিরিক্ত সম্পদ ফেলে রাখা ঠিক নয়। কারণ তাতে দেশের সম্পদের অপচয় হয়। জালান কমিটি ঠিকঠাক পরামর্শই দিয়েছে। কিন্তু যেখানে দেশের নাগরিকদের ভালমন্দ জড়িত, সে রকম বিষয়ে সরকারের ঝুঁকি না নেওয়াই বিধেয়।

দেশের নাগরিক হিসেবে বেশ আতঙ্কিত বোধ করছি।

সুগত মারজিৎ

কলকাতা-১৯

 

বেআইনি নয়?

দিনের পর দিন রাজ্যের ‘ড্রাগ কন্ট্রোল’ বিভাগ হাজার হাজার লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধ দোকানের উপর নিত্যনূতন নানান নিষেধাজ্ঞা জারি করে চলেছে। তা মেনে চলতে গিয়ে দোকানদারেরা নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন। হ্যাঁ, জীবন নিয়ে ব্যবসা করতে হলে কিছু কিছু কঠোর নিয়মকানুনের মধ্যেই চলা উচিত। কিন্তু রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ এবং স্বাস্থ্য দফতর জানে কি, বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের মুদিখানা ও স্টেশনারি দোকানদাররাও দিনরাত চুটিয়ে ওষুধ বিক্রি করে যাচ্ছেন? সমস্ত রকম ওষুধ তাঁরা বিক্রি করেন, এমনকি দাদের মলম থেকে মুখ ফর্সা হওয়ার মলম এবং ঘুমের ওষুধ পর্যন্ত!

এঁদের কাছে এক্সপায়ারি ডেট বলে কিছু নেই। যে ওষুধ এক বার কেনা হয়, তা কোনও দিন ডাস্টবিনে ফেলা হয় না। ওঁদের একটাই কথা, আমরা এই সব ওষুধ রাখি বলেই রাতবিরেতে গ্রামবাংলার মানুষগুলো বেঁচে আছে। কথাটা ঠিক। কিন্তু ওঁদের কাজটা বা বেআইনি ভাবে জীবনদায়ী ওষুধ বিক্রি করাটা কি সমর্থনযোগ্য?

অমলকান্তি মেটিয়া

কোটরা, শ্যামপুর, হাওড়া

 

আলো কোথায়

‘ঘোর তমসাবৃত...’ (১৭-৮) নিবন্ধ পড়ে এই পত্র। প্রবন্ধকার অনুরাধা ভাসিন জামওয়াল ভারতের গণতন্ত্রে তমসা আসন্ন ভেবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। প্রশ্ন, স্বাধীন ভারতে ঠিক কবে আলোকিত গণতন্ত্রের চর্চা হত? এ কথা ঠিক, ভারতের প্রাচীন যুগে গণতন্ত্র নতুন কোনও বিষয় ছিল না। আলেকজ়ান্ডারের আক্রমণকালে বেশ কিছু রাজ্যে সুচারু গণতান্ত্রিক শাসন ছিল। গৌতম বুদ্ধের সমসময়ে বৃজি এবং মল্ল মহাজনপদের নিয়মনিষ্ঠ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিবরণ ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। 

কিন্তু স্বাধীনতার পর ভারত, স্বাভাবিক ভাবেই, আর পিছনে ফিরে তাকায়নি। আধুনিক গণতন্ত্রের পীঠস্থান ইউরোপের কাছে সে আধুনিক গণতন্ত্রের চর্চা শিখেছে। যদিও ভারতীয় গণতন্ত্র কখনও ইউরোপীয় ধাঁচের গণতন্ত্রে পরিণত হতে পারেনি। এমনকি ধারেকাছে গিয়েও পৌঁছয়নি। প্রথম থেকেই ভারতীয় গণতন্ত্র ভুল রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেছিল। যত দিন গিয়েছে, তত তার ব্যবস্থায় শতসহস্র গলদ প্রবেশ করেছে। 

বিগত কয়েক দশক ধরে ভারতের বেশির ভাগ প্রদেশে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় থেকে অনিয়ম শুরু হয়ে যায়। বুথদখল ছাপ্পাভোট রিগিং ইত্যাদি অপশব্দের সঙ্গে এই দেশের শিশুরাও পরিচিত। সারা দেশের বৃহদংশে প্রতিটি পর্বে যথেচ্ছ অনাচারের পর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়। সবশেষে গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে শুরু হয় ঘোড়া কেনাবেচার খেলা। গত প্রায় সত্তর বছর ধরে চর্চিত এ সব কি তমসাজয়ী গণতন্ত্র ছিল?  

দু’একটি ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে ভারতের সব আঞ্চলিক দলই কোনও না কোনও পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সমগ্র ভারতকে এঁরা ছোট ছোট জোতে ভাগ করে নিয়েছেন। ভোটে জিতলে সবাই দরকষাকষি করতে শুরু করে দেন। দর মনের মতো হলে যে কোনও একটি জোটে যোগদান করেন। দর হিসেবে হাজির হতে পারে মন্ত্রিত্ব, সিবিআই বা ইডি-র খপ্পর থেকে মুক্তি। এ সব নিশ্চয়ই আলোকোজ্জ্বল গণতন্ত্রের উদাহরণ হতে পারে না। 

তবে আশার কথা, গণতন্ত্র মানে শুধুই নির্বাচন নয়। ভারতে এখনও গণতন্ত্রের অন্য স্তম্ভগুলো যথেষ্ট মজবুত। সংবাদমাধ্যম সজাগ। সুশীল সমাজও জাগ্রত। সর্বোপরি, সুপ্রিম কোর্ট ভারতের বিবেকের মতো জেগে আছে। 

সনাতন পাঠক

ইমেল মারফত

 

শেষ ভাল

কয়েক মাস আগে কলকাতা কর্পোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আমার বসতবাড়ির পাশের খোলা নালাটির ওপর, নির্মীয়মাণ কিছু বাড়ির আবর্জনা বস্তা করে রেখে দিয়ে কেউ বা কারা চম্পট দেয়। কিছু দিন পরে আমাদের এই ওয়ার্ডের অন্তর্গত বেশির ভাগ রাস্তাই পিচ-এর করা হয়, তবু ওই আবর্জনা ওখানেই থাকে। বস্তা উল্টে আবর্জনা পড়ে নালাটি বন্ধ হয়ে এলাকায় মশার উপদ্রবও বাড়ছিল। সরকারি কিছু কর্মী মশার ওষুধ দিতে এক মাস বাদে বাদে এই ব্লকে আসেন। আবর্জনার ওপর ওষুধ দিয়ে চলে যাওয়ার সময়ে, তাঁদের দেখিয়ে আমার বাড়ি থেকে বলা হল নালার দুরবস্থার কথা। উল্টে ওঁরা আমাদের নিজেদের পয়সায় তা পরিষ্কার করার উপদেশ দিলেন! 

তখন কলকাতা কর্পোরেশনের গ্রিভ্যান্স সেলে পুরো বিষয়টা জানালাম। ওরা নালিশটি রেজিস্টার করল, একটি নম্বরও দিল। এক দিন অপেক্ষা করে, সরাসরি মেয়র-এর ডেস্কে ফোন করে, সবিস্তার জানালাম, বললাম, ট্যাক্স দিয়ে নাগরিকেরা সরকারি কর্মীদের কাছে এমন দুর্ব্যবহারই কি আশা করে? সব শুনে ফোনের ও-পারের ভদ্রমহিলা বিনয়ী কণ্ঠে পরামর্শ দেন, উক্ত ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে বিষয়টি জানানোর জন্য। দফতরের এমন কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে দুটো চিঠি করতে বলেন এবং ধর্মতলায় কর্পোরেশনের মূল অফিসের ১১৭ নম্বর ঘরে তা পেশ করতে বলেন। 

আমি আবারও আমার পূর্বে গ্রিভ্যান্স সেলে পেশ করা নালিশ নম্বরটি দিই। তার কয়েক দিন পর, কর্পোরেশনের কর্মী, সাফাইকারী এসে এই আবর্জনাগুলির মালিককে ধরেন, জরিমানা করেন, নালাটি পরিষ্কার করে দেন। 

শুভজিৎ বসাক

কলকাতা-৫০

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।