সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: জননায়ক স্তালিন

Stalin
স্তালিন

 ‘কী করিতে হইবে’ (২৬-৪) শীর্ষক সম্পাদকীয় বিষয়ে এই চিঠি। টেস্টামেন্টের আসল ঘটনাটা কী? রোগশয্যায় শায়িত লেনিন ১৯২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর দলকে একটি পত্র দিয়েছিলেন। তাতে স্তালিন, ট্রটস্কি, জ়িনোভিয়েভ, কামেনেভ ও বুখারিন সম্পর্কে সংক্ষেপে তাঁর মূল্যায়ন ছিল। স্তালিন সম্পর্কে বলেন, "I am not sure that he always knows how to use power with sufficient care". ট্রটস্কির 'Nonbolshevism' সম্পর্কেও দলকে তিনি সতর্ক করেন, আর অক্টোবর বিপ্লবের সময় জ়িনোভিয়েভ, কামেনেভের বিশ্বাসঘাতকতা "was not accidental" বলেন, বুখারিনের চিন্তাকে ‘পুরোপুরি মার্ক্সবাদ-সম্মত নয়’ বলেও মন্তব্য করেন। এর পর লেনিন ১৯২৩ সালের ৫ মার্চ দলকে আর একটা নোট পাঠান এবং তাতে স্তালিন অত্যন্ত ‘রূঢ়’ বলে তাঁর জায়গায় অন্য আর এক জনকে সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাব দেন।

এ থেকে কী পাওয়া গেল? লেনিন বলেছেন ট্রটস্কি ‘অ-মার্ক্সবাদী’, জ়িনোভিয়েভ, কামেনেভ আবারও বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন, বুখারিনের চিন্তা পুরোপুরি মার্ক্সবাদ-সম্মত নয়। কিন্তু স্তালিনের রাজনৈতিক অবস্থান, মতাদর্শ, বিপ্লবের প্রতি আনুগত্য সম্পর্কে কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি। শুধু আচরণগত ত্রুটির উল্লেখ করেছেন। ফলে লেনিনের টেস্টামেন্টকে বিচার করলে বোঝা যায়, অন্য নেতাদের তুলনায় তাঁর কাছে স্তালিনের আসন ছিল অনেক উপরে।

লেনিনের শেষ জীবনে স্তালিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন ছিল, এ প্রসঙ্গে লেনিনের বোন মারিয়া উলিয়ানোভা লিখছেন, ‘‘লেনিন স্তালিনের সম্পর্কের প্রশ্নে কয়েকটা কথা বলার প্রয়োজন আছে। লেনিনের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি তাঁর পাশেই ছিলাম। লেনিনের কাছে স্তালিনের মূল্য ছিল অসীম।...তাঁর অসুস্থতার সমস্ত সময়টা জুড়ে, লেনিন কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য কোনও নেতাকে ডাকেননি। তাঁদের কারও সঙ্গে দেখাও করতে চাননি। শুধু চাইতেন স্তালিনই আসুন।’’

লেনিনের চিন্তাকে হাতিয়ার করে স্তালিন সোভিয়েট ইউনিয়নকে একটা পশ্চাৎপদ কৃষিপ্রধান দেশ থেকে আধুনিক শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। সেখানে বেকারি ছিল না, পতিতাবৃত্তি ছিল না, শিশুশ্রমিক ছিল না। কাজ দেওয়ার দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রের। স্বাস্থ্যের অধিকার ছিল সবার। নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে দেশ ছিল মুক্ত। নারীর বিকাশের দ্বার ছিল উন্মুক্ত। জীবনের সর্ব দিক ব্যাপ্ত করে সোভিয়েট সমাজতন্ত্র নতুন মানুষ নতুন সভ্যতা গড়ে তুলেছিল।

মার্ক্স লিখেছিলেন, ইউরোপ কমিউনিজ়মের ভূত দেখেছে। অনেকেই এখন সমাজতন্ত্রের ভূত দেখছেন। সিপিআই(এম) মার্কা বামপন্থায় তাঁদের আপত্তি নেই। ও তাঁদের পকেটের জিনিস। ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যাবে। ওঁদের ভয় সমাজতন্ত্রের জন্য যথার্থ সংগ্রামকে। বিশ্বব্যাপী করোনার বীভৎসা, পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের আসল চেহারাটা দেখিয়ে দিয়েছে। মানুষ বুঝতে পারছে, এ পচা-গলা পুঁজিবাদকে সংস্কার করেও আর চলবে না। তাই অনেকে ভুল বোঝাতে আসরে নেমেছেন, বলছেন, স্তালিনের পথে যেও না, ও পথ ‘কানাগলি’।

শঙ্কর ঘোষ

হাবড়া, উত্তর ২৪ পরগনা

 

পরের ধাপ

বিশ্ব জুড়ে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আর্থিক সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলি সঙ্কটের মধ্য দিয়েই যাচ্ছিল। ভাইরাসের সংক্রমণ তাকে এক অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছে দিয়ে এর সীমাবদ্ধতাকে প্রকট করে তুলেছে। ‘কী করিতে হইবে’ (২৬-৪) সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, গত তিন দশকে এই ব্যবস্থার প্রসার সম্পূর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ আর বিকাশের সুযোগ নেই বললেই চলে। সমাজ বিকাশের এক একটি পর্যায়ে এক একটি ব্যবস্থা কার্যকর থেকে, পরবর্তী ব্যবস্থাকে স্থান করে দেয়। এই ভাবেই দাসপ্রথার পরবর্তী পর্যায়ে সামন্ততন্ত্র এবং তার পর ধনতান্ত্রিক সমাজ উপস্থিত হয়েছে। আজ সেই ব্যবস্থার প্রসার যদি প্রায় সম্পূর্ণই হয়ে গিয়ে থাকে, বিশ্বায়ন তথা উদারীকরণের ওযুধেও তার আয়ু আর না বাড়ানো যায়, ধনতন্ত্র যদি উত্তরণের পথে সমাজতন্ত্রে পৌঁছয়, আপত্তির কী আছে? এ কথা সত্য, কিছু সমাজতান্ত্রিক দেশে ধনতন্ত্র ফিরে এসেছে। এটা অগ্রগতি নয়, পশ্চাদপসরণ। তা ছাড়া, এমন  পশ্চাদপসরণ তো শুধু সমাজতন্ত্রের ক্ষেত্রে ঘটেনি, ইতিহাসে সামন্ততন্ত্র থেকে পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠার পথে বারে বারে ঘটেছে। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার পূর্ণ বিজয় প্রতিষ্ঠা করতে প্রায় ৩০০ বছর লেগেছিল। সেই তুলনায় সমাজতন্ত্রের ৭০ বছর তো অনেক কম সময়।

 

সমর মিত্র

কলকাতা-৪

 

সঙ্গী ছিলেন

সংশোধনবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লেনিনের সর্ব ক্ষণের সঙ্গী ছিলেন স্তালিন। লেনিনের বক্তব্যকে বিকৃত করার ঘৃণ্য খেলায় মেতে ছিল এই সংশোধনবাদী চক্র। তাদের পরাস্ত করে লেনিনের বিপ্লবী বক্তব্যের প্রাণসত্তাকে রক্ষা করে বিশ্বের কাছে উপস্থিত করেন স্তালিন। যে কোনও ফ্রন্টের জটিল কোনও সমস্যা দেখা দিলে লেনিন সমাধানের জন্য স্তালিনের ওপর ভরসা করতেন। ম্যাক্সিম গোর্কিকে লেখা এক চিঠিতে লেনিন বলেন, ‘‘এমন কোনও সমস্যা যদি আসে পলিটব্যুরোর সামনে, যার বিচারে অত্যন্ত বেশি মাত্রায় বিচারবুদ্ধির আবশ্যক, তা হলে স্তালিনকে সেই দায়িত্ব দিতে হবে।’’

সামসুল আলম

কলকাতা-১৪

 

বুঝতে হবে

লেনিন স্তালিন তথা সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কাল ধরে চলে আসা একপেশে কুৎসা পরিবেশন না করে, ভাবতে হবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্তালিন মাত্র সাত বছর বেঁচে ছিলেন। সেই সময়ের মধ্যেই তাঁর নেতৃত্বে, যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে সোভিয়েট  ইউনিয়ন অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।

লেনিনের টেস্টামেন্টে স্তালিনের সমালোচনা এবং তাঁকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরানোর প্রস্তাব সংক্রান্ত বিষয়টিও বুঝতে হবে। স্তালিনকে যে ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক বলে চিত্রিত করা হয় তা যদি সত্যি হত, তবে তাঁর পক্ষে এই টেস্টামেন্টকে চেপে দেওয়াই ছিল স্বাভাবিক। ইতিহাস হল, স্তালিন সে পথে যাননি। উল্টে লেনিন প্রয়াত হওয়ার চার মাস পরে স্তালিনেরই নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ কংগ্রেসে   বিষয়টি তোলা হয়, পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়। স্তালিন নিজে পদত্যাগ করতে চাইলেও কংগ্রেস তাঁকে সর্বসম্মত ভাবে সাধারণ সম্পাদকের পদে পুনর্নির্বাচিত করে।

কমল সাঁই

ঝাড়গ্রাম

 

রোগের ওষুধ

আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইটালি প্রভৃতি ধনতান্ত্রিক দেশগুলি করোনা সংক্রমণে বিপর্যস্ত। সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনাম এই রোগের আক্রমণকে প্রতিহত করতে পেরেছে, কারণ তাদের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। যে সব দেশে স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা বাজার অর্থনীতি নির্ভর, তারা বেশি বিপর্যস্ত, কারণ সেখানে জনস্বার্থ নয়, মুনাফাই লক্ষ্য। অন্য দিকে, সমাজতন্ত্রে, মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদাগুলিই গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার শীর্ষ আদালত, স্বাস্থ্য সচিবকে ভর্ৎসনা করেছিল, জরুরি অবস্থাতেও চিকিৎসা উপকরণ উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ কায়েম না করে, তাকে বাজারের হাতে, বিভিন্ন বিমা কোম্পানির হাতে ছেড়ে রাখার জন্য। আমাদের দেশেও দেখা যাচ্ছে, করোনা মোকাবিলায় সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাই ভরসা। বেসরকারি হাসপাতালগুলি কোনও দায়িত্ব নিচ্ছে না। তাই এই অসুখ আমাদের দেখাল, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিই মানুষের কল্যাণ করতে পারে।

প্রদীপ কুমার দত্ত

কোন্নগর, হুগলি

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন