‘ভাষার একতা’ (১-১০) শীর্ষক চিঠির উত্তরে এই চিঠি। লেখিকা জার্মানিতে থাকাকালীন ওঁর অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন (যেখানে এক দক্ষিণ ভারতীয় অধ্যাপক ওঁর সঙ্গে হিন্দিতে কথা বলতে চাননি এবং সেটি ওঁর মতে, ভারতীয়ত্বের উপর আঘাত)। অর্থাৎ হিন্দি না জানলে বা না বললে সেটা ভারতীয় পরিচয়ের অপমান। অর্থাৎ হিন্দি ভাষাই ভারতীয়ত্বের পরিচয়। কিন্তু মনে রাখা উচিত, ‘নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান’, অর্থাৎ বহুভাষিক এই ভারত রাষ্ট্রে হিন্দি অনেক ভাষার অন্যতম।

ভারতে যে অনেকগুলি ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি পাশাপাশি আছে এবং প্রত্যেকেই প্রত্যেকের প্রতি সশ্রদ্ধ— এই বৈচিত্রই ভারতের পরিচয়। এটিই ভারতের সবচেয়ে জোরের জায়গা। কোনও একটি নির্দিষ্ট ভাষা কখনও গোটা ভারতের বা ভারতীয়ত্বের পরিচয় হতে পারে না।

বরং এই বৈচিত্রকে নষ্ট করে বা অস্বীকার করে কোনও একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে ভারতের একমাত্র পরিচয় হিসেবে ভাবা বা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ভারতের ঐক্যের পরিপন্থী ।

সৌভিক মিত্র, বৈদ্যবাটি, হুগলি

 

নতুন রামায়ণ

দাদু নাতনির সমাচার। প্রত্যেক দিন ঘুমের সময় নাতনির আবদার, আমাকে নুতন নুতন গল্প শোনাও। শোনাতে শোনাতে দাদু হয়রান

তাই এ বার রামায়ণের শরণাপন্ন। দাদু গল্প আরম্ভ করে, কৈকেয়ীর দুষ্ট বুদ্ধিতে রামের বনবাস। রাম বনে যায়। সঙ্গে স্ত্রী এবং ভাই লক্ষ্মণ। নাতনি চট করে বলে ওঠে, লক্ষ্মণ বনে গেলে তোমার কষ্ট আরও বাড়বে। তোমাকে বাজারে গিয়ে দুধ আনতে হবে। লক্ষ্মণ নামক ছেলেটিই প্রতি দিন তাদের বাড়িতে দুধ দিয়ে যায়।

সঞ্জয় চৌধুরী, ইন্দা, খড্গপুর

 

পেনশন বাড়বে?

বিজ্ঞপ্তি পেনশন বৃদ্ধিরও’ (২-১০)  খবরটি দেখে আমার মনে হল, কেন্দ্রীয় আধা-সরকারি সংস্থার কর্মী হয়েও আমাদের পেনশন কেনবাড়ে না ? আমি ২০১৮ সালেরফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ একটি বিমা কোম্পানি থেকে দীর্ঘ ৩৪ বছর কাজ করার পর অবসর নিই। ১৯৯৫ সালে কোম্পানি যে কেন্দ্রীয় নিয়মে পেনশন চালু করে তা নেওয়ার অপশন আমি দিই। এবং অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা হিসাবে পেনশন নেওয়ার জন্য, আমাকে ১৯৮৪ সালের মে মাস থেকে চাকরি পাওয়ার পর ১৯৯৫ সালের মার্চ পর্যন্ত জমা কনট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা সিপিএফ কোম্পানিকে ফেরত দিতে হয়। কিন্তু আমার বুদ্ধির অগম্য, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থাটি আর্থিক ভাবে যথেষ্ট তেজি হওয়া সত্ত্বেও, কোন কারণে অবসর নেওয়া কর্মচারীদের পেনশন এক ফোঁটাও বৃদ্ধি করে না। ফলে বছরের পর বছর শুধু বছরে দু’বার ডিএ বাড়া ছাড়া পেনশনের পরিমাণ আর বাড়ে না। আর্থিক ক্ষমতাহীন রাজ্য সরকারও যদি তার সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পেনশন ৩১-১২-২০১৫ থেকে আড়াই গুণেরও বেশি বাড়াতে পারে ও পেনশনের ঊর্ধ্বসীমা সর্বোচ্চ ৩৫,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১,০০,৫০০ টাকা পর্যন্ত করতে পারে, তবে আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সংস্থা তামাম অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পেনশনের হার বাড়াতে পারে না?

তাপস সাহা, শেওড়াফুলি, হুগলি

 

জল পড়ছে

রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড়ের কাছে একটা পাইপ থেকে অবিরাম জল পড়েই যায়, সেই জায়গার আশেপাশে কিছু দোকানও আছে, কিন্তু তারা সেটা চক্ষুপাত করে না।

কেশব কুমার মণ্ডল, ঝাঁজরা কলোনি, পশ্চিম বর্ধমান

 

পাল্টে গেল?

‘‘মহিষাসুরমর্দিনী কি পাল্টে গেল’’ (২৯-৯) প্রসঙ্গে দু’একটি তথ্য যোগ করতে এই চিঠি। বৈদ্যুতিন মাধ্যমে আমরা সাধারণ ভাবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র যে সংস্করণটি পেয়ে থাকি সেটি প্রকাশ হয়েছিল ১৯৭৩ সালে, যেটি পরে ক্যাসেট ও ২০০২ সালে সিডি আকারে বেরোয়। এই সংস্করণটি কোনও একটি বিশেষ রেকর্ডিং নয়। আকাশবাণী মোট পাঁচটি রেকর্ডিং করেছিল— ১৯৪৬ (কলকাতা ছিল উত্তাল, তাই সরাসরি সম্প্রচার করা যায়নি), ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭২ সালে। এইচএমভি ১৯৭৩ সালে যেটি প্রকাশ করে সেটি শ্রীসুধীর মুখোপাধ্যায় তৈরি করেন এই চার-পাঁচটি সংস্করণকে একত্রে সম্পাদনা করে। ১৯৭৬-এ উত্তমকুমার গ্রন্থিত অনুষ্ঠানটি ধিক্কৃত হওয়ার ফলে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্প্রচারিত হয়েছিল মহাষষ্ঠীর ভোরে। এই প্রসঙ্গে আরও জানাই যে ১৯৩২ (প্রথম বছর) ও ১৯৭৬ সাল ছাড়া প্রতি বছরই ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ দেবীপক্ষের প্রাক্-প্রত্যুষ অর্থাৎ মহালয়ার ভোরেই সম্প্রচারিত হয়েছে। ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ১৯৬৬-র রেকর্ডিং বেজেছে, তার আগে বাজত সুধীরবাবুর সম্পাদিত ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমে প্রাপ্ত সংস্করণটি, বাঙালির কান যাতে বেশি অভ্যস্ত । তবে ভবিষ্যতে অন্য রেকর্ডিংগুলি আকাশবাণীর কাছে শোনানোর অনুরোধ রইল।

সুমন চক্রবর্তী, হাওড়া

 

তাঁর ইংরেজি

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্পর্কিত‌ ‘তাঁর ইংরেজি লেখার স্বীকৃতি কই’ (২৭-৯) নিবন্ধটির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি সংযোজন। সংস্কৃত ভাষার অনন্যসাধারণ পণ্ডিত এবং আধুনিক বাংলা ভাষার স্থপতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ইংরেজি ভাষাটাও মন দিয়ে শিখেছিলেন। বিনয় ঘোষ প্রণীত ‘বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ’ গ্রন্থসূত্রে জানা যায়, সংস্কৃত কলেজে ছাত্রাবস্থায় তাঁর ইংরেজি শিক্ষার সূত্রপাত। ১৮২৭ সালের মে মাসে ওলাস্টান নামে এক সাহেবকে সংস্কৃত কলেজে ছাত্রদের ইংরেজি শেখাবার জন্য নিয়োগ করা হয়। ঈশ্বরচন্দ্র তখন সংস্কৃত কলেজের ছাত্র। তিনিও ইংরেজি ক্লাসে যোগদান করেন এবং পর পর দু’বছর তিনি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুরস্কার স্বরূপ কিছু ইংরেজি পুস্তক পান। কিন্তু ১৮৩৫ সালের নভেম্বর মাসে ইংরেজি ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্ররা পুনরায় ইংরেজি ক্লাস শুরু করার জন্য আবেদন করেন। এই আবেদনে ঈশ্বরচন্দ্রও স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। ঈশ্বরচন্দ্রের ইংরেজি শিক্ষা এখানেই সাময়িক ভাবে শেষ হয়ে যায়। সংস্কৃত কলেজে তাঁর ছাত্রজীবন সমাপ্ত হয় ১৮৪১ সালে। তার পরের বছরই আবার সংস্কৃত কলেজে ইংরেজি শ্রেণি খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হেড পণ্ডিতের পদে যোগ দেওয়ার পর ঈশ্বরচন্দ্র নিজের প্রচেষ্টায় পুনরায় ইংরেজি শিক্ষা শুরু করেন। ডাক্তার দুর্গাচরণ বন্দোপাধ্যায় (রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা) ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ডাক্তারি পাশ করার আগে তিনি ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। হেয়ার সাহেবের স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। দুর্গাচরণ প্রতি দিন বিকালে তালতলার বাড়ি থেকে ঈশ্বরচন্দ্রের বৌবাজারের বাসভবনে আসতেন বন্ধুর সঙ্গে গল্প করতে। এক দিন ঈশ্বরচন্দ্র ইংরেজি শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দুর্গাচরণ শেখাতে রাজি হন। বেশ কিছু দিন ঈশ্বরচন্দ্র দুর্গাচরণের কাছে ইংরেজি শেখেন। এর পর দুর্গাচরণের ছাত্র নীলমাধব মুখোপাধ্যায় তাঁকে ইংরেজি শেখাতে শুরু করেন। এর পর হিন্দু কলেজের ছাত্র রাজনারায়ণ গুপ্ত ঈশ্বরচন্দ্রকে ইংরেজি শেখাতেন।

উল্লেখযোগ্য, ঈশ্বরচন্দ্র নিয়মিত হিন্দিও শিখতেন। এর জন্য তিনি এক জন হিন্দুস্থানি পণ্ডিতকে নিয়োগ করেছিলেন। তাঁকে মাসিক ১০ টাকা বেতন দিতেন। কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার আগে প্রত্যহ সকালে ইশ্বরচন্দ্র যতক্ষন সময় পেতেন এই হিন্দুস্তানি পণ্ডিতের কাছে হিন্দি ভাষা শিখতেন।

সুদীপ বসু্, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।