আমাদের এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে একটি জমিতে একটি জঙ্গল গজিয়ে উঠেছে। আজ তা এমন অবস্থায় এসেছে, আমরা অধিবাসীরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এলাকাটি বরানগর পুর প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ রবীন্দ্রনগর ১৪নং ওয়ার্ডের ভিতর। জঙ্গলটি এখন এত বিশাল হয়েছে যে, স্থানীয় বাসিন্দারা সকাল থেকে মশা, মাছি, দুর্গন্ধ ও বিশেষ ভাবে সাপের উপদ্রবে একেবারে তটস্থ হয়ে থাকেন। বার বার পুর প্রতিষ্ঠানকে জানানো সত্ত্বেও কোনও কারণে জঙ্গলটি সাফ করা হচ্ছে না। তার উপর আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা ধরনের পরিত্যক্ত জিনিস ওখানে ফেলা হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগের অন্ত নেই।

বেণীমাধব বণিক

রবীন্দ্রনগর

ফ্লেক্সের বিপদ

কলকাতার প্রায় সমস্ত ফুটপাত হকারদের দখলে। সঙ্গে উপস্থিত হয়েছে কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো ফ্লেক্সে বিজ্ঞাপনের উপদ্রব। কোথাও কোথাও যেটুকু ফুটপাতের অস্তিত্ব আছে সেখানে টেলিফোন আর বিদ্যুতের খুঁটিতে মাটি থেকে মাত্র তিন চার ফুট উচ্চতায় লাগানো হচ্ছে এই ফ্লেক্স ফ্রেম। পথচারীদের পক্ষে হাঁটা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হচ্ছে বাচ্চা কোলে করে হাঁটা। যে কোনও মুহূর্তে আহত হওয়ার সম্ভাবনা। 

আনন্দ বক্সী

কলকাতা-৮৪

 

সব ব্যাঙ্কেই

কর্মচারী ভবিষ্যনিধি প্রকল্পের (ইপিএফ) আওতাধীন পেনশন অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য পশ্চিমবঙ্গে মাত্র দু’টি স্বীকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক রয়েছে— ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। এই দু’টি ব্যাঙ্কের থেকে পেনশন পাওয়ার সুবিধে কেবলমাত্র জেলার সদর শহর এবং মহকুমা শহরের (অনেক মহকুমায় এখনও এই সুবিধে বা পরিষেবা পাওয়া যায় না) কিছু সংখ্যক নির্দিষ্ট শাখায় পাওয়া যায়।

এই পেনশন পাওয়ার সুবিধে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে চালু করা হোক।

তুষার ভট্টাচার্য

কাশিমবাজার, মুর্শিদাবাদ

 

দুর্ভোগের রাত

এখন আর ট্রেনের টিকিটের রিজ়ার্ভেশন করার প্রয়োজন নেই। গত ২৬-১০-১৮ তারিখে আমি (বয়স ৭০) আর আমার স্ত্রী (বয়স ৬৬) হাওড়া স্টেশন থেকে সকাল ৭:২৫-এর ফলকনামা এক্সপ্রেসে কোনও মতে ধাক্কাধাক্কি করে ট্রেনে উঠে দেখি, আমাদের জন্য নির্ধারিত সিটে (দুটোতে) এ দিকের লোয়ার বার্থে চার জন, বিপরীত লোয়ার বার্থে চার জন করে বসে আছে। আমরা ওদের বললাম জানালার ধার দুটো ছেড়ে দিতে। জানালার ধারে যে বসেছিল সেই ছেলেটা বলে উঠল, ‘‘হামকো থুক ফেকনা হোগা।’’ আমরা সব জায়গায় গৃহদেবতা গোপালকে সঙ্গে নিয়ে যাই। আমরা তখন বললাম ওখানে ঠাকুর আছে, ওই জায়গায় থুতু ফেলো না। তখন ছেলেটা জানালার ধার ছেড়ে দিল। আমাদের পাশে চার জন করে বসে পড়ল। খইনি খেতে খেতে এবং থুতু ফেলতে ফেলতে ছেলেগুলো চলল।

টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রত্যেকের দুটো করে ভারী ভারী লাগেজ সিটের তলায় রেখে দিয়েছে, আমাদের মাত্র দুটো ব্যাগ রাখার জায়গা নেই। বলেকয়ে আমাদের ব্যাগ রাখার জায়গা হল। ইতিমধ্যে অল্পবয়সি একটি মেয়ে জলেশ্বর স্টেশন থেকে উঠে আমাদের কোচে আমাদেরই সিটে ঝপ করে বসে পড়ল। জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার টিকিট আছে? বলল, ‘না’। তার পর ভুবনেশ্বর স্টেশনে নেমে পড়ল। 

সময় যত এগোচ্ছে ততই ভিড় বাড়ছে। বনগাঁ লোকালও হার মেনে যায়। ইতিমধ্যে টিটিই উঠলেন এবং হেডমাস্টারের ঢঙে গলা চড়িয়ে আমাদের সিট নম্বর ধরে টিকিট চাইলেন। টিকিট দেখালাম এবং আমাদের প্রচণ্ড অসুবিধার কথা জানালাম। টিটিই জানালেন, কিছুই করার নেই। এই ট্রেনে এই ভাবেই লোকেরা যাওয়া-আসা করে। 

ওই কোচের আশেপাশে অনেককেই ধূমপান করতে দেখা গেল। ধোঁয়ার গন্ধ নাকে আসতে লাগল। আমার স্ত্রীর হার্টের সমস্যা এবং শ্বাসকষ্ট আছে। রাত্রিতে আমার স্ত্রী দেড় ঘণ্টা ধরে সিটে বসেছিলেন, শুতে পারেননি। 

আমরা বয়স্ক লোক, সিনিয়র সিটিজ়েন-এর তালিকায় পড়ি। রাত্রিবেলায় বাথরুমে দুই থেকে তিন বার করে যেতে হয়। কিন্তু বাথরুমে যাওয়ার উপায় নেই। বাথরুমের আশেপাশে প্রায় একশো লোক জড়ো হয়ে আছে। 

রাত্রি ১১টার সময় প্রচণ্ড ক্লান্তি ও অবসাদ নিয়ে শুয়ে পড়লাম। শুয়ে দেখলাম দুটো নীচের সিটের মাঝখানে যে জায়গা আছে সেই জায়গায় তিন জন গাদাগাদি করে শুয়ে আছে। অর্থাৎ আমাদের নীচে নামার আর উপায় নেই।

দেবব্রত ভট্টাচার্য

কলকাতা-৯৪

 

দুয়োরানি থাক

আমাদের রাসবিহারী সন্নিহিত অঞ্চলে আগে দু’টি বাজার প্রায় সমদূরত্বে ছিল। একটি লেক মার্কেট, অপরটি সাদার্ন মার্কেট। লেক মার্কেট এখন লেক মল-এ রূপান্তরিত হয়েছে। যেখানে সব কিছুই ঝাঁ চকচকে। অপর দিকে দুয়োরানির মতো পড়ে আছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোডের ওপর সাদার্ন মার্কেট। 

এই বাজারটি প্রায় ৮২ বছরের পুরনো। স্থাপনকাল ১৯৩৬। বাজারটিকে ‘মধ্যবিত্তের বাজার’ বলা চলে। এখানে লেক মার্কেট থেকে সব্জি ও অন্যান্য জিনিস কিছুটা হলেও সস্তা। তবে সন্ধ্যার পর মাছ বিশেষ পাওয়া যায় না।

বয়সের ভারে বাজারটির জীর্ণ দশা, মধ্যবর্তী অংশের টিনের চাল প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। মূল ভবনটিও খুবই জরাজীর্ণ ও ভগ্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে। মূল ভবনটির দোতলায় একটি ডাকঘর ও একটি গ্রন্থাগার আছে। বহু প্রবীণ মানুষকে ওই ভবনের ভাঙাচোরা সিঁড়ি দিয়ে ডাকঘর ও গ্রন্থাগারে যেতে হয়। ফলে তাঁদের প্রভূত কষ্ট স্বীকার করতে হয়। বাজারটি শান্ত ও স্নিগ্ধ, বেশি হইহল্লা নেই। বিশেষত সন্ধ্যাবেলায় বেশ শান্তিতে বাজার করা যায়।

আমরা চাই না এটিও মল-এ রূপান্তরিত হোক। বর্তমান বাজারটির আদি রূপটি অক্ষত রেখে এটির সংস্কার করা হোক। পুরসভা কি একটু ভেবে দেখবে?

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-২৬

 

প্লাস্টিক উৎপাদন

নালা খঁুড়তেই বেরোল ১৫০ টন কাদা ও প্লাস্টিক বেরচ্ছে, এ বিষয়ে কর্তাব্যক্তি বলছেন, লাগাতার সচেতনতার প্রচার করেই সমস্যা মেটাতে হবে। প্রশ্ন হল, যে প্লাস্টিক, সভ্যতা ও পরিবেশের এত ক্ষতি করছে, আইন করে কেন তার উৎপাদন বন্ধ করা যাচ্ছে না? ‘সচেতনতা বাড়াতে হবে’, এ তো খানিকটা সিগারেটের প্যাকেটে দেওয়া ওয়ার্নিংয়ের মতো। কেবলমাত্র ক্ষতিকারক মাইক্রনের প্লাস্টিক উৎপাদন বন্ধ করার আইন পাশ করায় অসুবিধাটা কোথায়?

বিমলেন্দু সরকার

কলকাতা-১৫০

 

রেলওয়ে ট্যাক্সি 

রেলের আয় বাড়ানোর জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ‘রেলওয়ে ট্যাক্সি’ চালুর ব্যাপারটা ভেবে দেখতে পারে। ‘রেলওয়ে ট্যাক্সি’ মানে, ট্যাক্সির আদলে তৈরি রেলের ছোট্ট ছোট্ট কোচ, যা ছুটে যাবে রেলওয়ে ট্র্যাক দিয়ে। সড়কপথে যে দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা, সেই একই দূরত্ব রেলপথে যেতে সময় লাগে মাত্র ২ ঘণ্টা। প্রাইভেট গাড়িগুলিতে এই দূরত্বের ভাড়া মোটামুটি ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। একই ভাড়ার মধ্যে রেলওয়ে ট্যাক্সি চালু হলে, মানুষ সময় বাঁচানোর জন্য তা ব্যবহার করবেন। এর ফলে মানুষের সুবিধার পাশাপাশি রেলের আয় বৃদ্ধি পাবে।

জ্যোতি প্রকাশ ঘোষ

গোবরডাঙা, উত্তর ২৪ পরগনা

 

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।