রিচার্ড ফিলিপ্‌স ফাইনম্যান-এর জন্মশতবর্ষে পথিক গুহর নিবন্ধ (রবিবাসরীয়, ১৩-৫) পড়ে ভাল লাগল। ফাইনম্যান সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য উল্লেখ করি।

১) ফাইনম্যানের আত্মজীবনী দু’পর্বে লেখা হয়েছে। প্রথম পর্ব, “শিয়োরলি ইউ আর জোকিং, মিস্টার ফাইনম্যান!”: অ্যাডভেঞ্চার্স অব আ কিউরিয়াস ক্যারেক্টার— প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস পর, ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় পর্ব “হোয়াট ডু ইউ কেয়ার হোয়াট আদার পিপল থিংক?”: ফারদার অ্যাডভেঞ্চার্স অব আ কিউরিয়াস ক্যারেক্টার। দু’টি বইয়েরই অনুলেখক রাল্‌ফ লেইটন। ক্যালটেকের পদার্থবিদ ও ফাইনম্যানের বিশিষ্ট বন্ধু রবার্ট বেঞ্জামিন লেইটনের পুত্র রাল্‌ফ ছিলেন ক্যালিফর্নিয়ার পাসাডেনা হাই স্কুলের গণিতশিক্ষক এবং ফাইনম্যানের বিশেষ স্নেহভাজন। ফাইনম্যানের একাধিক সাক্ষাৎকার রেকর্ড করেন তিনি, যার ভিত্তিতে বই দু’টি লেখেন। ২০০২ সালে ফাইনম্যানের রেকর্ড করা বয়ানও প্রকাশ করেন রাল্‌ফ। ২০০৫ সালে, বই দুটো একত্রে ক্লাসিক ফাইনম্যান: অল দি অ্যাডভেঞ্চার্স অব আ কিউরিয়াস ক্যারেক্টার নামে প্রকাশিত হয়।

রাল্‌ফের বই দুটো জনপ্রিয় হলেও, মূলত ‘হালকা’ মেজাজের রচনা। পদার্থবিদ ফাইনম্যানের তেমন পরিচয় পাওয়া যায় না এখানে। সে ক্ষেত্রে জেমস গ্লিয়েক রচিত জিনিয়াস: দ্য লাইফ অ্যান্ড সায়েন্স অব রিচার্ড ফাইনম্যান (১৯৯২) প্রণিধানযোগ্য। জগদীশ মেহরার দ্য বিট অব আ ডিফারেন্ট ড্রাম: দ্য লাইফ অ্যান্ড সায়েন্স অব রিচার্ড ফাইনম্যান (১৯৯৪) উল্লেখ্য।

২) ১৯৭৭ সালের গ্রীষ্মের শেষের দিকে ফাইনম্যানের বাড়িতে এক নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন রাল্‌ফ। তুলনায় অখ্যাত বিভিন্ন দেশের নাম নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল, যেমন— নেপাল, নাইজার প্রভৃতি। ফাইনম্যান বললেন: ‘‘টানু টুভা সম্পর্কে কী জানো?’’ ‘‘টানু টুভা? আমি কোনও দিন নামই শুনিনি’’, জবাব দিলেন রাল্‌ফ। ফাইনম্যান বললেন, ‘‘ছোটবেলায় আমার ডাকটিকিট সংগ্রহের নেশা ছিল। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ রাশিয়া ও উত্তর-পশ্চিম মঙ্গোলিয়ার মাঝে ছোট্ট দেশ টানু টুভা (১৯৪৪ সালে টানু টুভা ইউএসএসআর-এর অন্তর্ভুক্ত হয়) থেকে প্রকাশিত হয়েছিল বরফি ও ত্রিভুজাকৃতির বেশ কয়েকটা স্ট্যাম্প, যার একটাতে একটা ট্রেনের পাশে একটা উটকে ছুটতে দেখা যাচ্ছে। স্ট্যাম্প সংগ্রাহকদের কাছে সেই স্ট্যাম্প লোভনীয় ছিল। সেই স্ট্যাম্প আমার কাছেও ছিল।’’ হাসিঠাট্টার মধ্যে কথা উঠল, চলো এক বার টুভা ঘুরে আসি। শুরু হল টুভা যাওয়ার তোড়জোড়। কিন্তু সোভিয়েত-আমেরিকা ঠান্ডা যুদ্ধের জেরে ভিসা পাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়াল। হাল ছাড়েননি তাঁরা। টুভার সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস, ভূগোল নিয়ে চর্চা চালিয়ে যেতে লাগলেন। ১৪ অগস্ট ১৯২১, সোভিয়েতের সাহায্য নিয়ে চিনাদের হটিয়ে
স্বাধীন হয়েছিল টুভা। ১৪ অগস্ট ১৯৮১ সালে আমেরিকায় বসে রাল্‌ফ-ফাইনম্যান তৈরি করলেন ‘ফ্রেন্ডস অব টুভা’ সংগঠন। প্রতি বছর এই দিন তাঁরা নানান কর্মসূচি পালন করতেন।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তাঁরা ‌যখন টুভা যাওয়ার ভিসা পেলেন, ফাইনম্যান তখন ক্যানসারাক্রান্ত। উনি কোনও দিনও টুভা যেতে পারেননি। মৃত্যুর দু’সপ্তাহ আগে, ফাইনম্যানের টুভা-প্রীতির উপর বিবিসি-টিভি থেকে এক ভিডিয়ো সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর, ১৯৮৮ সালের জুন মাসে ‘কোয়েস্ট ফর টানু টুভা’ নামে সেটি প্রচারিত হয়। তাঁদের টুভা যাত্রার পরিকল্পনা নিয়ে রাল্‌ফ লিখলেন টুভা অর বাস্ট: রিচার্ড ফাইনম্যানস লাস্ট জার্নি (১৯৯১)। ১৪ অগস্ট ২০০৪-এ, ইউএস পোস্টাল সার্ভিস, ফাইনম্যানের স্মরণে একটা স্ট্যাম্প প্রকাশ করেন। ২০০৯ সালের ৮ জুন, বাবার অপূর্ণ ইচ্ছার কথা মাথায় রেখে, ফাইনম্যানের মেয়ে মিশেল ফাইনম্যান টুভা সফর করেছিলেন।

৩) রাল্‌ফের লেখা বই দুটোর ভিত্তিতে, ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় ফাইনম্যানের জীবনী-নির্ভর ছবি: ‘ইনফিনিটি’।

৫) ফাইনম্যান ভাল ছবি আঁকতেন। আঁকা ছবির নীচে তিনি ‘Ofey’ ছদ্মনামে স্বাক্ষর করতেন।

৬) সাদা-কালো অক্ষরগুলোকে মাঝেমাঝে রঙিন দেখতেন ফাইনম্যান। রোগটা কালার-গ্রাফিমিক সিনেস্থেসিয়া
নামে পরিচিত।

সহস্রলোচন শর্মা

ই-মেল মারফত

সংগ্রহশালা

১৮ মে চলে গেল আন্তর্জাতিক সংগ্রহশালা দিবস। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংগ্রহশালায় বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলি। ভারতের নানা জায়গার বড় বড় সংগ্রহশালায় ছবি তোলা যায়, দরকারে ছবি সংগ্রহও করা যায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ সংগ্রহশালায় ছবি তোলা যেন মহা অপরাধের বিষয়। সংগ্রহশালার কিউরেটররা অনুমতি দিতেই চান না, বরং সোজা জেলাশাসকের কাছে অনুমতি নিয়ে আসতে বলেন। একটি প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় বেশ কিছু মূর্তি-লিপির ছবি তোলার অনুমতি চেয়েছিলাম আধিকারিকের কাছে। তাঁর কাব্যিক উক্তি এখনও মনে জেগে আছে: ‘‘ক্যামেরায় ছবি তুলে কী হবে, মনের ক্যামেরায় ছবি তুলে রাখুন!’’

প্রাচীন পুঁথি বিষয়ে একটু চর্চা ও লেখালিখি করি। সেই সূত্রে একটি প্রাচীন পুঁথি দেখার দরকার হয়েছিল, যা কলকাতার একটি সুপ্রাচীন পুঁথি সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত। আধিকারিককে বললে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে আসতে বলেছিলেন। আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, সেখানকার এক উচ্চপদস্থ অধিকর্তাকে বিষয়টি নিবেদন করেছিলাম। তিনি বললেন, ‘‘এ তো কোর্ট কাউন্সিলে পাশ করাতে হবে!’’

শুভম্ মুখোপাধ্যায়

বড়জোড়া, বাঁকুড়া

 

মেধা ও নম্বর

সুকান্ত চৌধুরী (‘দোহাই, ওদের রেহাই দিন’, ১৫-৫) যথার্থই লিখেছেন, কী ভাবে পরীক্ষায় ভাল ফল করা সত্ত্বেও একটি বিশেষ শতাংশ (যেমন ৯০%) না পেলেই ছাত্রছাত্রীর জীবন যেন বৃথা হয়ে যায়। দুই দশকের বেশি শিক্ষকতায় যুক্ত থাকার পরে আমারও একই অভিজ্ঞতা। পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর ছাত্রছাত্রীর মেধা বা বিষয়ভিত্তিক ব্যুৎপত্তির পরিচয় অনেক সময়ই বহন করে না। অনেক ক্ষেত্রে তা শুধুই মুখস্থ-শক্তির পরিচায়ক। কখনও দেখা যায়, ইংরেজি পরীক্ষায় ৮০% বা তার বেশি পাওয়া ছাত্রছাত্রী ঠিক ইংরেজিতে একটি প্যারাগ্রাফও রচনায় অক্ষম। ‘কমন’ না পেলে তাঁরা অচল; পরীক্ষায় তাঁদের সাফল্যের চাবিকাঠি ‘কমন’ পাওয়া এবং মুখস্থ উত্তর উগরে দিয়ে আসা।

লেখক ‘স্ট্যান্ড’ করা নিয়ে মিডিয়ার মাতামাতির কথা লিখেছেন। অনস্বীকার্য, এই বয়সের উজ্জ্বল ছেলেমেয়েরা তাঁদের পড়াশুনোর কথা বলছেন, টিভিতে দেখতে বেশ ভাল লাগে। কিন্তু এই মাতামাতি ইঁদুর-দৌড়কেই প্রশ্রয় দেয়। নেপথ্যে থেকে যায় বহু ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকের দীর্ঘশ্বাস, যাঁরা অনেক সময় শুধু আর্থ-সামাজিক কারণে এই সম্মানের কথা কল্পনা করতে পারেন না। প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠতার প্রদর্শন যদি একটা মাত্রার পরে দৃষ্টিকটু হয়, প্রকাশ্যে সাফল্যের প্রদর্শনই বা তা নয় কেন?

সৌরভ ভট্টাচার্য

কলকাতা-১২৪

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

ভ্রম সংশোধন

‘সিটি ও স্লোগান...’ সংবাদে (২৬-৫, পৃ. ১) ভুলবশত লেখা হয়েছে, ‘‘মোদী... আমেরিকায় কৃষিবিদ্যা পড়তে যাওয়া কবিপুত্রকে ‘জামাই’ বলে গুলিয়েছেন।’’ রবীন্দ্রনাথের কনিষ্ঠ জামাতা ছিলেন নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, তৃতীয়া কন্যা মীরার স্বামী। ২৮ জুন ১৯০৭ নগেন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথের পৃষ্ঠপোষণায় আমেরিকা যাত্রা করেন। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিবিদ্যা শিখে তিনি দেশে ফিরে আসেন ১৯১১-য়। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।