বিশেষ ক্রোড়পত্র ‘পশ্চিমে বঙ্গ’ (২৮-১১) পড়ে খুব দুঃখ পেলাম দেখে যে আট পাতার ক্রোড়পত্রে কোথাও উৎপল দত্তের স্থান নেই! পরিচালক, লেখক, নট, নাট্যকার, শিক্ষক উৎপল দত্ত বলিউডে খলচরিত্রেও যে ভাবে হাস্যরস মিশিয়েছিলেন, তা অননুকরণীয়! আমরা বঙ্গদেশে যে ভাবে তাঁকে পেয়েছি, হিন্দি ছবিতে সে ভাবে না পেলেও, মূলত কমেডি বা সিরিয়ো-কমিক চরিত্রে তিনি যে ভাবে অভিনয় করেছিলেন, যেই ধারা আজও বলিউডে বহু অভিনেতাই অনুসরণ করেন।

এই ক্রোড়পত্রে, রূপম ইসলামের ‘গানের ব্যাটন হাতে যুদ্ধজয় জারি...’ লেখাটিতে আছে: ‘‘...‘দিওয়ানা’ কিংবা ‘বাজিগর’-এ নতুন তারকা শাহরুখ খানের গলায় কুমার শানুর নেপথ্যগায়ন চমৎকার ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পরেও...’’ কিন্তু, ‘দিওয়ানা’ ছবিতে কুমার শানু শাহরুখের লিপে কোনও গানই গাননি। যে ক’টি গান শানু গেয়েছিলেন সবই ছিল ছবির আর এক নায়ক ঋষি কপূরের লিপে। শাহরুখ খানের লিপে সব ক’টি গানই গেয়েছিলেন বিনোদ রাঠৌর। 

আরতি মুখোপাধ্যায়ের ‘সুরের জাদুকরেরা’ লেখায় তিনি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়-সলিল চৌধুরী জুটি প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘‘...‘জানে ও ক্যায়সে লোগ থা’— এ রকম অনেক গান হিন্দি ও বাংলা সিনেমার ইতিহাসকে এই দু’টি মানুষ দিয়েছেন।’’ কিন্তু, সলিল চৌধুরী ‘জানে ও ক্যায়সে লোগ থা’ বলে কোনও গানে সুরারোপ করেননি, সেই গানের সুরকার ছিলেন শচীন দেববর্মন! সাহির লুধিয়ানভির লেখা গানটির সঠিক কথাটি হল ‘জানে ও ক্যায়সে লোগ থে’, যেটি ‘পেয়াসা’ ছবিতে গুরু দত্তের লিপে গেয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। 

‘ক্যামেরার নেপথ্যে’ লেখাটিতে বাঙালি সিনেমাটোগ্রাফারদের কথা আছে। লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে পরিচালক রাধু কর্মকারের কথা না বললে। রাধু কর্মকার যে শুধু রাজ কপূরের পছন্দের চিত্রগ্রাহক ছিলেন তা নয়, রাজ কপূরের কথায়, ‘‘রাধুবাবুর কাজ ভারতের বাইরে দর্শকের কাছে যেমন সমাদৃত হয়েছে ভারতের দর্শকের কাছেও তেমনি। তাই আমার রাধুবাবুর কাজের ওপর কেমন যেন আস্থা জন্মে গেল, ফলে সে বারের নতুন ছবি আমি রাধুবাবুকেই ডাইরেক্ট করতে দিলাম। সে ছবি হচ্ছে ‘জিস দেশ মেঁ গঙ্গা বহতি হ্যায়’ ...এখন আপনারাই বলুন... কাজটা কি ভুল করেছিলাম?...’’ এবং সেই ছবি ভারতের রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়া ছাড়াও বিদেশেও সমাদৃত হয়েছিল।

এ ছাড়াও রাজ কপূর বহু দিনের রঙিন ছবি বানানোর স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য ‘বুট পলিশ’ ছবিতে তারা দত্তকে চিত্রগ্রাহক হিসেবে নিয়ে রাধু কর্মকারকে বিলেতে পাঠিয়েছিলেন বিখ্যাত জ্যাক কার্ডিফের কাছে ট্রেনিং নেওয়ার জন্য।

শঙ্খশুভ্র চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা-৭৮

 

মহারাষ্ট্রে নয়

‘পশ্চিমে বঙ্গ’ ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত শান্তনু মৈত্রের রচনাটিতে বলা হয়েছে, কিশোরকুমার ছিলেন মহারাষ্ট্রের খন্ডওয়ার বাসিন্দা। কিন্তু খন্ডওয়া হল মধ্যপ্রদেশের খন্ডওয়া জেলার সদর শহর। এটি মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার সীমান্তঘেঁষা একটি শহর, যার সংস্কৃতি অনেকটাই মহারাষ্ট্রের মতো।

সৌম্য বটব্যাল

দক্ষিণ বারাসত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

বহুমুখী হৃষীকেশ 

ক্রোড়পত্রে হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের উপর প্রবন্ধটি প্রশংসনীয়। কিন্তু এতে তাঁর বহুমুখী প্রতিভার কথা বলা হয়নি। তিনি শুধু পরিচালকই ছিলেন না, চিত্রসম্পাদক, কাহিনিকার, প্রযোজকও ছিলেন।

স্বপরিচালিত ছবি ছাড়া, অন্য যে সব ছবি তিনি সম্পাদনা করেছেন, উল্লেখযোগ্য: ‘মধুমতী’, ‘গঙ্গা-যমুনা’। তাঁর সম্পাদিত বাংলা ছবি ‘তথাপি’, ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’, ‘গঙ্গা’।

তাঁর কাহিনিভিত্তিক ছবিগুলি হল ‘অভিমান’, ‘আনন্দ’, ‘আশীর্বাদ, ‘অনুপম’ প্রভৃতি।

তিনি প্রযোজনা করেছেন ‘চুপকে চুপকে’, ‘আলাপ’, ‘গোলমাল’, ‘খুব-সুরত’।

শ্রীশঙ্কর ভট্টাচার্য

কলকাতা-৩৯

 

সুবীর সেন

ক্রোড়পত্রে অধরাই থেকে গেল এমন এক বাঙালি গায়কের নাম যিনি বম্বেতে (তখন মুম্বই হয়নি) প্রথম গানেই সুপারহিট দিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন তালাত মাহমুদের এক দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়েরও বম্বেতে কেরিয়ারের শুরুটা এত মসৃণ ছিল না। এই শিল্পী সুবীর সেন (১৯৩৪-২০১৫)।

একদা ‘হেমন্তকণ্ঠী’ বলে খ্যাত সুবীর বম্বেতে গিয়েছিলেন গুরু দত্তের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু আকস্মিক ভাবে আলাপ হয় তখনকার বম্বের এক নম্বর সুরকার জুটি শঙ্কর-জয়কিষেনের সঙ্গে। তাঁর কণ্ঠ শুনে মুগ্ধ সুরকারদ্বয় তাঁকে তাদের পরবর্তী ছবি ‘কাঠপুতলি’ (১৯৫৭)-তে গাওয়ালেন বলরাজ সাহনির লিপে: ‘মঞ্জিল ওহি হ্যায় প্যার কি, রাহি বদল গয়ে’। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৩। এই একটি গান রাতারাতি তাঁকে ভারতের অন্যতম সেরা গায়কের আসনে বসিয়ে দেয়। এর পরেও একের পর এক হিট দিয়ে গিয়েছেন সুবীর। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দুর্ধর্ষ ডুয়েট ‘ম্যয় রঙ্গিলা প্যার কা রাহি’ (ছোটি বহেন) হোক, বা জুবিলি হিরো রাজেন্দ্র কুমারের লিপে দুনিয়া দোলানো ‘দিল মেরা এক আস কা পঞ্ছি, উড়তি হ্যায় উঁচি গগন পর’ (আস কা পঞ্ছি)— সুবীর তখন যা ছুঁয়েছেন সবেতেই সোনা ফলিয়েছেন। শঙ্কর-জয়কিষেন ছাড়াও লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল, কল্যাণজি-আনন্দজি, বসন্ত দেশাই, মদনমোহন, এমনকী হেমন্তকুমারের সুরেও তিনি গেয়েছেন। দেব আনন্দ, (রূপ কি রানি চোরো কা রাজা), শাম্মি কপূর (বয়ফ্রেন্ড), প্রদীপ কুমার (পাসপোর্ট), মনোজ কুমার (আপনে হুয়ে পরায়ে), মেহমুদ (ও তেরা কেয়া কহনা), ওই সময়ের প্রায় সব নায়কের লিপেই শোনা গিয়েছে সুবীরের ব্যারিটোন। ১৯৬৪-৬৫ সালে সত্যেন বসুর রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি ‘মাসুম’-এও শোনা গেল সুবীর-কণ্ঠে সেই বিখ্যাত গান ‘হামে উস রাহ পর চলনা হ্যায় যঁহা গিরনা অউর সমহলনা হ্যায়’। 

খ্যাতির শীর্ষে থাকাকালীন ব্যক্তিগত কারণে তিনি চলে আসেন কলকাতায়। শুরু হয় সঙ্গীত জীবনের আর এক অধ্যায়। তার পরেও বার কয়েক হিন্দিতে গান গেয়েছেন। ১৯৭২-এ বাসু ভট্টাচার্যের ‘অনুভব’ ছবিতে পর্দায় নায়ক সঞ্জীব কুমারের বাঙালি বন্ধুর চরিত্রে স্বশরীরে গাইলেন রবি ঠাকুরের গান ‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে’। কোনও বাণিজ্যিক হিন্দি ছবিতে এই প্রথম একটি সম্পূর্ণ রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যবহার করা হল। ওই সময় ‘নাইট ইন লন্ডন’ ছবিতে সুরকার হিসেবেও সুনাম অর্জন করেন সুবীর। 

শুভায়ু সাহা

খাগড়া, মুর্শিদাবাদ

 

কিছু ভ্রান্তি

ক্রোড়পত্রটিতে ‘সুরের জাদুকরেরা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কয়েকটি অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। ‘দোদুনি চার’ ছবির সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নন, রবি। ‘ও শাম কুছ অজিব সি’ গানটির গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নন, কিশোরকুমার (ছবি ‘খামোশি’)। গীতা দত্তর গানে সমৃদ্ধ ‘হাওড়া ব্রিজ’ ছবির সুরকার ও পি নায়ার, এস ডি বর্মণ নন।

হীরালাল শীল

কলকাতা-১২

 

স্পর্শ

‘বাসু-বিমল-বাসু ত্রয়ীর বম্বেজয়’ শীর্ষক লেখার সঙ্গে মুদ্রিত ‘স্পর্শ’ ছবির পরিচিতি হিসেবে ‘‘বাসু ভট্টাচার্যের ‘স্পর্শ’ ছবিতে’’— লেখায় মনে হওয়া স্বাভাবিক যে ছবিটির পরিচালক বাসু ভট্টাচার্য। বাসু ছবিটি প্রযোজনা করেছিলেন, পরিচালক সাই পরাঞ্জপে। 

সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়

কল্যাণী, নদিয়া

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।